লোকসভা ভোটে পিছিয়ে থাকার পরে এবার সমবায় নির্বাচনে পর্যুদস্ত তৃণমূল! নন্দীগ্রামে বিপুল জয় বিজেপির
নন্দীগ্রাম এক ব্লকের হরিপুরে প্রিয়ানগরী সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির নির্বাচনে ফলাফল ঘোষণার পরেই উত্তেজনা এলাকায়। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি বিজেপি কর্মীদের। আদালতের নির্দেশে নন্দীগ্রামের হরিপুরে প্রিয়ানগরী সমবায় সমিতির নির্বাচন হয় কড়া নিরপত্তায়।
রবিবার নন্দীগ্রামের হরিপুরে প্রিয়ানগরী সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতি লিমিটেডের ১২ টি আসনের নির্বাচন হয়। এই সমিতির মোট ভোটার ৬৫৫ জন। ১৯৬৩ সালে এই সমবায় সমিতি গঠিত হয়। শুরুর দিন থেকে পরিচালন সমিতি শেয়ার হোল্ডাররা মনোনীত করে আসছিলেন।

বিজেপির অভিযোগ তৃণমূল চাইছিলো না ভোট হোক। কিন্তু আদালতের দ্বারস্থ হওয়ায় নির্দেশ আসে ভোট করানোর জন্য। এদিনের নির্বাচনে সমিতির ১২ টি আসনের মধ্যে ১১ টি আসন বিজেপি ও ১ টি আসন তৃণমূল দখল করে। সমবায় নির্বাচনে তৃণমূল বারোটির মধ্যে দশ আসনে এবং সিপিআইএম তিনটি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল।
এলাকায় উত্তেজনা ছাড়ানোর পর পুলিশ এক বিজেপি কর্মীকে আটক করে। তাকে ছাড়ার দাবিতে পুলিশের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি সমর্থকেরা। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। পরে ওই বিজেপি কর্মীকে ছেড়ে দেয়।
গত ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম থেকে ১৯৫৬ ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। আর এবার তমলুক লোকসভার অন্তর্গত নন্দীগ্রামে বিজেপি সেই ব্যবধান বাড়িয়েছে। নন্দীগ্রামে তৃণমূল প্রার্থীর থেকে বিজেপির ব্যবধান ছিল প্রায় নয় হাজারের মতো। তারপর এদিনের সমবায় নির্বাচনে ভরাডুবি হল শাসক তৃণমূলের।
বিজেপির তরফে বলা হয়েছে, এদিন উৎসবের মেজাজে ভোট হয়েছে। হলদিয়ার মহকুমা শাসক সকাল থেকেই উপস্থিত ছিলেন। তবে তারা অভিযোগ করেছে, তৃণমূস হেরে যাওয়ার পরেই এলাকায় অতি সক্রিয় হয়ে উঠেছে পুলিশ।
অন্যদিকে, স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে দলের এই হারকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে বর্ণনা করা হয়েছে। পাশাপাশি এই নির্বাচনকে অরাজনৈতিক নির্বাচন বলেও বর্ণনা করা হয়েছে। তারা বলছে, প্রান্তিক মানুষরা এখানে টাকার লেনদেন করেন। তাঁরাই এখানে নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচন করেছে ভোটের মাধ্যমে। তবে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, বহিরাগত বাইক বাহিনীকে এলাকায় নিয়ে এসে ভোট করিয়েছে তারা।












Click it and Unblock the Notifications