মহানগরে জল যন্ত্রণার পর মুখ্যমন্ত্রীর পুজো উদ্বোধনী কর্মসূচি, ওদিকে ঘূর্ণাবর্তের আশঙ্কা

পুজোর কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। চারিদিকে শুধু মণ্ডপ উদ্বোধনের ব্যস্ততা, আলোকসজ্জার ঝলকানি আর আনন্দের প্রস্তুতি। কিন্তু সেই উল্লাস যেন কিছুটা হলেও ভাটা পড়েছিল মহানগরে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া নিয়ে শহরবাসীকে তাড়া করছে একাধিক দুশ্চিন্তা। তবে একদিকে টানা বৃষ্টির ফলে কলকাতার বহু অংশ জলমগ্ন হয়েছিল, অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্বোধনী কর্মসূচি ঘিরে রয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নজরদারি।

পাশাপাশি তৎ সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আবহাওয়ার নতুন আশঙ্কা। বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত হচ্ছে নতুন নিম্নচাপ, যা পুজোর দিনগুলিতেই প্রভাব ফেলতে চলেছে দক্ষিণবঙ্গে বলে মনে আবহাওয়াবিদরা। মহানগরে জলমগ্ন পরিস্থিতিতে দুঃসহ ভোগান্তি দেখা গিয়েছিল।

বুধবার পর্যন্ত কলকাতার উত্তর থেকে দক্ষিণ একাধিক এলাকায় জল জমে ছিল। কোথাও গোড়ালি সমান আবার কোথাও হাঁটুজল ছিল। বালিগঞ্জে বিশেষ করে পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ। পার্ক সার্কাসের অভ্যন্তরেও বহু অঞ্চল বুধবার পর্যন্ত ডুবে ছিল জলে। রাস্তাঘাট জলমগ্ন থাকায় নিত্যযাত্রীদের দুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েক গুণ। স্কুল কলেজ ও অফিসযাত্রীদের পক্ষে চলাফেরা কার্যত দুঃস্বপ্ন হয়েছিল।

বাসিন্দাদের অভিযোগ জলনিকাশি ব্যবস্থা বেহাল ও গাফিলতির কারণেই প্রতি বছর এই চিত্র দেখা যায়। প্রশাসনের দাবি, পাম্পিং স্টেশনগুলি পূর্ণ ক্ষমতায় কাজ করেছে, তবে অতিবৃষ্টির কারণে জল নামতে সময় লেগেছে। আজ, বৃহস্পতিবার পরিস্থিতি অনেকটা উন্নত।

একদিকে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্বোধনী মঞ্চে নজর অপরদিকে, এদিনও একাধিক দুর্গাপুজো মণ্ডপ উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুপুরে তিনি বাড়ি থেকে ভার্চুয়ালি বিভিন্ন জেলার বেশ কয়েকটি পুজোর উদ্বোধন করবেন। বিকেলে তাঁর গন্তব্য নিউ আলিপুরের সুরুচি সংঘ, যা রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের পুজো হিসেবে পরিচিত। এরপর মুখ্যমন্ত্রী যাবেন আলিপুর বডিগার্ড পুলিশ লাইনে। এবছর সেখানে মণ্ডপ তৈরি হয়েছে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের আদলে।

এদিন মুখ্যমন্ত্রীই ওই পুজোর উদ্বোধন করবেন। পাশাপাশি শহরের আরও বেশ কয়েকটি বড় পুজো মণ্ডপের উদ্বোধন করার কর্মসূচিও রয়েছে তাঁর। সেকারণেই জলযন্ত্রণা সামলানো সত্ত্বেও শহরে উৎসবের আমেজ ধরে রাখার চেষ্টা চালানো হচ্ছে প্রশাসনের তরফে।

যদিও এদিকে, আবহাওয়ার পূর্বাভাস উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। বঙ্গোপসাগরে নতুন করে তৈরি হয়েছে একটি ঘূর্ণাবর্ত। মায়ানমারের দিক থেকে অগ্রসর হয়ে সেটি চতুর্থীর দিনেই নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে। এর জেরে আগামী পাঁচ থেকে ছয়দিন ধরে দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রবল বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা। কলকাতাতেও পুজোর দিনগুলিতে টানা বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে অষ্টমী ও নবমীর মতো মূল দিনগুলিতেও মণ্ডপ ঘোরা ব্যাহত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টিপাত হতে পারে। একদিকে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া প্রাকৃতিক বিপর্যয়, অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্বোধনী ব্যস্ততা, তার উপরে আবার নতুন ঘূর্ণাবর্তের আশঙ্কা। সব মিলিয়ে একসঙ্গে পুজোর মুখে তিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি শহর কলকাতা। সাধারণ মানুষ একদিকে চাচ্ছে জলযন্ত্রণা থেকে মুক্তি, ঠিক তেমনই তারা তাকিয়েও রয়েছে আকাশের দিকেও।

তবে প্রশাসনের কাছে চ্যালেঞ্জ পুজোর আনন্দকে ভেস্তে যেতে না দেওয়া। সেকারণেই আজকের দিন তাই গুরুত্বপূর্ণ। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্বোধনী কর্মসূচি কতটা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, আর ঘূর্ণাবর্ত কতটা প্রভাব ফেলে এগুলি এখন দেখার বিষয়। তবে এবছর পুজোয় কলকাতার উৎসবের আনন্দ কতটা নিরবচ্ছিন্ন থাকবে তা সময়েই বলবে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+