‘বিশ্ববাংলা’ বিতর্কে নয়া মোড়! মুকুলের আক্রমণের কী জবাব দিলেন সচিবরা
মুকুল রায় বিশ্বাবাংলার মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় স্বরাষ্ট্রসচিব অত্রি ভট্টাচার্য সাংবাদিক সম্মেলন করে তার কাউন্টার করেছিলেন। এদিন ফের কোমর বেঁধে নামল রাজ্য সরকার।
'বিশ্ববাংলা', তুমি কার? এই বিতর্কে এবার কোমর বেঁধে নামল রাজ্য সরকার। একেবারে নথি তুলে ধরে সরকারের পক্ষ থেকে শনিবার অতিরিক্ত মুখ্যসচিব পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন বিশ্ববাংলা রাজ্য সরকারেরই। সেখানে সরকারি আধিকারিক ভিন্ন কারও নামে কোনও শেয়ার নেই।
এদিন রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা সাফ জানিয়ে দেন, মিনিস্ট্রি অফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্সের আরওসি ওয়েবসাইট খুললেই যে কেউ দেখতে পাবেন, 'বিশ্ববাংলা'র শেয়ার হোল্ডার হিসেবে কাদের নাম রয়েছে। সেখানে সরকারি আধিকারিক ভিন্ন কারও নাম নেই। সম্পূর্ণভাবেই বিশ্বাবাংলা মার্কেটিং কর্পোরেশন কোম্পানি সরকারেরই।

শুক্রবার মুকুল রায় বিশ্বাবাংলার মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় স্বরাষ্ট্রসচিব অত্রি ভট্টাচার্য সাংবাদিক সম্মেলন করে তার কাউন্টার করেছিলেন। এদিন ফের কোমর বেঁধে নামল রাজ্য সরকার। অতিরিক্ত মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিব উভয়েই ছিলেন সাংবাদিক সম্মেলনে। সেখানেই এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত মুখ্যসচিব বলেন বিশ্ববাংলা মার্কেটিং কর্পোরেশনের দুজন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ডাইরেক্টর আছেন। তাঁরা হলেন হর্ষ নেওটিয়া ও রুদ্র চট্টোপাধ্যায়, কিন্তু তাঁদের কোনও শেয়ার হোল্ডার নেই।
এদিন তিনি বলেন, 'বিশ্ববাংলা লোগো মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৈরি। ২০১৪ সালে লোগোটি নিয়ে সরকারের সঙ্গে চুক্তি হয়। তারপর সেটি সরকারের হয়ে যায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোগোর ক্রিয়েটর, সরকার তার ইউজার। এই চু্ক্তির পরই রেজিস্ট্রেশন করতে যাওয়া হয়। তখনই জানত পারা যায় ছ-মাস আগে দুটো আবেদন পড়েছিল। তারপর ওই দুটি আবেদন প্রত্যাহার করে নেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।'
এদিন স্বরাষ্ট্র সচিব অত্রি ভট্টাচার্য আরও স্পষ্ট করে দেন, বিশ্বাবাংলা লোগো আর বিশ্ববাংলা মার্কেটিং কর্পোরেশন দুটি সম্পূর্ণ আলাদা। বর্তমানে দুটির মালিক পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্য সরকার যে কোনও বিভাগে এই লোগো ব্যবহার করতে পারে। এটা এখন রাজ্যে সরকার ব্র্যান্ড হিসেবে ব্যবহার করছে।
মুকুল রায় বিজেপির মঞ্চ থেকে এই বিশ্ববাংলার মালিক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলে মন্তব্য করেন। সেই কথার সমর্থনে তিনি নথিও দেখান। তা নিয়েই রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় পড়ে যায়। তারই পরিপ্রেক্ষিতে এদিন ফের মুকুল রায়ের কথার সারবত্তা নেই বলে দাবি তোলা হল রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে। তবে রাজ্যের তরফ থেকে আইনি কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না তা স্থির করা হয়নি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যক্তিগতভাবে আইনি নোটিশ পাঠানোর কথা জানান।












Click it and Unblock the Notifications