কেন্দ্রের টাকা নিয়ে রাজ্য নয়ছয় করেছে, প্রমাণ কই? প্রশ্ন কলকাতা হাইকোর্টের
কলকাতা হাইকোর্টের প্রশ্নের সামনে পড়ল কেন্দ্রীয় সরকার। একশো দিনের কাজের টাকার বিষয়ে মামলায় এবার ডিভিশন বেঞ্চের প্রশ্ন। প্রশ্ন তুললেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। গত দেড় সপ্তাহে একশো দিনের কাজের প্রকল্পের টাকা নিয়ে তোলপাড় দিল্লি থেকে বাংলার রাজধানী।
গতকাল সোমবার তৃণমূল প্রতিনিধি দলের সঙ্গে রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস সাক্ষাৎ করেছেন।বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়দের কথা দিয়েছেন রাজ্যপাল। তারপরই দিল্লি উড়ে গিয়েছেন রাজ্যপাল। এই প্রকল্পে কেন্দ্র কেন আসল জব কার্ড হোল্ডারদের টাকা দিচ্ছে না? এবার প্রশ্ন কলকাতা হাইকোর্টের।

রাজ্যের ১০০ দিনের কর্ম নিশ্চয়তা প্রকল্পে টাকা না দেওয়ায় কলকাতা হাইকোর্টে প্রশ্নের মুখে পড়ল কেন্দ্র। কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের দাবি, ২০২১-২০২২ সালে রাজ্য খরচের কোনও নথি দেয়নি। কেন্দ্র সেজন্য প্রকল্পে টাকা পাঠানো বন্ধ করেছে। এই বিষয়ে প্রধান বিচারপতি টি এস শিভাগ্নানম ও বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ প্রশ্ন তুলেছে।
রাজ্য সরকার কেন্দ্রের প্রকল্পের টাকা নিয়ে দুর্নীতি করেছে। এই অভিযোগও উঠেছে দীর্ঘ সময় ধরে। সেই বিষয়ে দুই বিচারপতির প্রশ্ন, কেন্দ্রের টাকা রাজ্য নয়ছয় করেছে, তারা যে রাস্তা তৈরি করেনি, ব্রিজ তৈরি করেনি, খালি টাকা নিয়ে দুর্নীতি করেছে, তার স্বপক্ষে কেন্দ্রের কাছে প্রমাণ কই?
রাজ্য একটা প্রকল্পের কমল্পায়েন্স রিপোর্ট দিয়েছে। সেটা খতিয়ে দেখার ব্যবস্থা আছে কি? কেন্দ্রের আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচার্যকে প্রশ্ন করেন প্রধান বিচারপতি। জবাবে কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল অশোক চক্রবর্তী জানান, রাজ্যজুড়ে প্রচুর ভুয়ো জব কার্ড পাওয়া গিয়েছে। তারপরই কেন্দ্র টাকা বন্ধ করেছে।
তাঁর পাল্টা প্রশ্ন, একটি ট্রেড ইউনিয়ন (খেতমজুর) জনস্বার্থ মামলা দায়ের করে এইভাবে ফান্ড রিলিজের দাবি জানাতে পারে কি? ডিভিশন বেঞ্চ পালটা প্রশ্ন করে, এক হাজার জব কার্ড হোল্ডার রাজ্যে আসল হলে তাদের টাকা বন্ধ থাকবে কেন? মামলাকরীদের দাবি, অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেলের বক্তব্যের কোনও ভিত্তি নেই। যারা মামলা করেছে তারা খেতমজুর। বেঁচে থাকতে তারা প্রশ্ন তুলতেই পারে।
অশোক চক্রবর্তীর এবার পালটা দাবি, রাজ্য আগে খতিয়ে দেখুক যাদের জব কার্ড দেওয়া হয়েছে সেগুলো ভুয়ো কি না। তখনই প্রশ্ন তোলেন প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম। তিনি বলেন, এক হাজার লোক যদি জেনুইন হয় তাহলে তাদের টাকা বন্ধ থাকবে কেন?
অশোক চক্রবর্তী জানান, গত ৬ জুন প্রধান বিচারপতি নির্দেশ দেওয়ার পর কেন্দ্র চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, তারা টাকা দিয়ে দিয়েছে। প্রত্যুত্তরে বিচারপতি বলেন, শ্রমিকদের টাকা দেওয়া যেমন রাজ্যের দায়িত্ব, কেন্দ্রের দায়িত্ব ফান্ড দেওয়া। এটা শুধু রাজ্যের দায়িত্ব নয়।
অর্থাৎ একশো দিনের কাজের টাকা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টও প্রশ্ন তুলল। কেন্দ্রীয় সরকারের ভাবনা কী? সেই বিষয় এবার দেখার অপেক্ষা।












Click it and Unblock the Notifications