পাঁচ বছরে অর্থ দ্বিগুণ করে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে প্রবীণদের সঙ্গে প্রতারণা শহরের অর্থলগ্নি সংস্থার
প্রবীণ নাগরিকদের প্রতারণা করার অভিযোগ উঠল কলকাতার একটি অর্থলগ্নি সংস্থার বিরুদ্ধে। জানা গিয়েছে, বয়স্কদের মোটা অঙ্কের সুদের টোপে ফাঁসিয়ে ১৯০০ কোটি টাকার প্রতারণা করেছে এই সংস্থা। এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের আর্থিক অপরাধ দমন শাখাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আলিপুরের বিশেষ আদালত।

কয়েক বছর আগেই রাজ্যজুড়ে দু’টি বড় অর্থলগ্নি সংস্থার ফাঁদে পড়ে বহু মানুষ নিঃস্ব হয়ে গিয়েছিলেন। সারদা ও রোজভ্যালি কাণ্ডের তদন্তে নেমে ইডি ও সিবিআই সস্থার মাথাদের গ্রেফতার করে এবং তাঁরা এখনও জেলে বন্দী রয়েছেন। তারই মধ্যে শহরে ফের নতুন করে মাথা চাড়া দিয়েছে এই অর্থলগ্নি সংস্থার প্রতারণা। আদালত সূত্রের খবর, ২০০৮ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রবীণদের থেকে টাকা তুলেছিল সুরানা গ্রুপ। ওই সব প্রবীণরা কলকাতার ১০টি থানা এলাকার বাসিন্দা। সেই সব থানায় প্রতারণার অভিযোগ আসতে শুরু করলে আদালতের পক্ষ থেকে সরকারের আর্থিক দমন শাখাকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।
জানা গিয়েছে, প্রবীণদের বলা হত এককালীন জমা দেওয়া টাকার উপর প্রতিবছর ১৫ শতাংশ হারে সুদ দেওয়া হবে এবং বিনিয়োগ করা মূল টাকার অঙ্ক পাঁচবছর পর দ্বিগুণ করে দেওয়া হবে, এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে এ টাকা তোলা হয়েছিল। অভিযোগ, প্রথম কয়েক বছর বার্ষিক সুদ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এমনকী বহু আমানতকারী ওই সুদের টাকা ফের বিনিয়োগও করেছিলেন। তবে পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও সংস্থা তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেনি। টাকা দ্বিগুণ করা তো দূর বিনিয়োগ করা মূল টাকাই ফেরত পাওয়া যায়নি।
আমানতকারীদের পক্ষ থেকে আইনজীবী আদালতকে জানিয়েছেন যে ওই অর্থলগ্নি সংস্থা আমানতকারীদের টাকায় কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি কিনেছে। তার পরে সেগুলি বন্ধক রেখে বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়েছে। কিন্তু ওই ঋণ শোধ করেনি। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ ওই সব সম্পত্তি নিলামে বিক্রির ব্যবস্থা করেছিলেন। সেই সব সম্পত্তি অর্ধেক দামে নিলামে কিনে নিয়েছে ওই সংস্থাই। ই সংস্থা আড়াই হাজার কোটি টাকার প্রতারণা করেছে বলে জানা গিয়েছে। গত নভেম্বরে সংস্থার পাঁচ কর্তা আগাম জামিনের আবেদন করেন আলিপুর আদালতে। আবেদন খারিজ করে ভারপ্রাপ্ত বিচারক আলিপুরে আর্থিক অপরাধের বিশেষ আদালতে মামলা স্থানান্তরিত করেন। গত ২২ জানুয়ারি জামিনের আবেদন খারিজ করেন বিশেষ আদালতের বিচারক পার্থপ্রতিম চক্রবর্তী।












Click it and Unblock the Notifications