খুনের অভিযোগ না নিয়ে তৃণমূল করতে চাপ দিচ্ছে পুলিশ! বিস্মিত কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাইকোর্ট। শুধু তাইই নয়, বিচারপতি নিজে এই ঘটনায় রীতিমতো হতবাক। বিস্ময় প্রকাশ করেছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত।
পশ্চিম মেদিনীপুরে শ্রীকান্ত পাত্র নামে এক বিজেপি কর্মী খুন হয়েছিলেন। সেই ঘটনা নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিল মৃতের পরিবার। কিন্তু এখনও এফআইআর দায়ের হয়নি সেই ঘটনায়। শেষ অবধি কলকাতা হাইকোর্টে এই বিষয়ে মামলা হয়েছে। সেই মামলাতেই বিস্ময় প্রকাশ করলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি।

বিচারপতি জয় সেনগুপ্তর এজলাসে এই মামলার শুনানি শুরু হয়। এখনও কেন পুলিশ এফআইআর করেনি? সেই প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি। ঘটনা ও পরিস্থিতি দেখে হতবাক হয়ে যান তিনি। রাজ্যের আইনজীবীর উদ্দেশ্যে বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত প্রশ্ন করেন।
বিচারপতির প্রশ্ন, পুলিশ এই খুনের অভিযোগে ধর্তব্য যোগ্য কোনও অপরাধ খুঁজে পেল না? রাজ্যের পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা প্রয়োজন। অত্যন্ত বিরক্ত হয়ে এমনই মন্তব্য করেন বিচারপতি। কিন্তু ঘটনাটি কী? অভিযোগ, পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতনে বিজেপি কর্মী শ্রীকান্ত পাত্রকে খুন করা হয়েছে। অভিযোগ তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা খুন করেছে।
পুলিশ এই ঘটনার কোনও তদন্তই করছে না। এফআইআরও নেওয়া হয়নি৷ এমনই অভিযোগ সামনে এসেছে। তবে এইসব কিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে এই অভিযোগ। অভিযোগ দায়ের জন্য থানায় যাওয়া হয়েছিল। অভিযোগ তো পুলিশ নেয়নি। উল্টে ওই পরিবারকে তৃণমূল করার জন্য বলা হয়। অভিযোগ, থানায় গেলে পুলিশ তৃণমূলে যোগদানের জন্য চাপ দেয়।
শুধু তাইই নয়। এরপর বাড়িতেও এসেছে পুলিশ। বাড়িতে দু'বার পুলিশ কর্মীরা এসে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জন্য শাসিয়ে যায়। এমনই মারাত্মক অভিযোগ করছেন মৃতের পরিবার। পরিবারের সদস্যরা তার পর থেকেই আতঙ্কিত রয়েছেন।
পরিবারের দাবি, খুনের পরের দিন পুলিশকর্মীরা বাড়িতে এসেছিল। সাদা কাগজে সই করিয়ে নিতে চেয়েছিল তারা। শ্রীকান্ত পাত্রের মৃত্যু দুর্ঘটনার কারণে হয়েছে বলে জানানো হয়। এখনও পর্যন্ত কোনও এফআইআর দায়ের হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে পরিবারের তরফ থেকে। যদিও রাজ্যের দাবি, অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজুর পর তদন্ত করেছেন এসডিপিও।












Click it and Unblock the Notifications