Saraswati Puja:প্রতিমা দর্শন করে মুম্বইয়ের পথে সৌরভ, দীক্ষামঞ্জরীর পুজোয় সংবর্ধনা ‘পদ্মশ্রী’ সনাতন রুদ্র পালকে
একদিকে সরস্বতী পুজো অন্যদিকে ভ্যালেন্টাইন্স ডে, বাংলা জুড়ে জোড়া উৎসব। বুধবার সকাল থেকে বাণী বন্দনায় মেতে উঠেছে বঙ্গবাসী। বাঙালির ১২ মাসে ১৩ পার্বণের মধ্যে অন্যতম বাগ দেবীর আরাধনা। সাধারণ গৃহস্থ পরিবার থেকে স্কুল-কলেজে বা বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনেও এই সরস্বতী পুজো ভক্তি সহকারেই পালিত হয়। ব্যতিক্রম নয় দীক্ষামঞ্জরীও।
কলকাতার সরস্বতী পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়ের নাচের স্কুল দীক্ষামঞ্জরীর পুজো। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এই পুজোয় সামিল হন ডোনাও। এই পুজোর অন্যতম আর্কষণ অবশ্যই সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের উপস্থিতি। তবে এবার ব্যক্তিগত কাজে সৌরভ মু্ম্বইতে রয়েছেন। সকালে প্রতিমা দর্শন করেই বেড়িয়ে গিয়েছেন। তাই অঞ্জলি পর্বে এবার মহারাজকীয় উপস্থিতি ছিল না।

তবে দীক্ষামঞ্জরীতে এবার মুখ্য অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পী সনাতন রুদ্র পাল। চলতি বছরে পদ্মশ্রী সম্মানে সম্মানিত হয়েছেন বর্ষীয়ান এই শিল্পী। বিগত কয়েক বছর ধরেই দীক্ষামঞ্জরীর দেবী সরস্বতী তাঁর হাতেই নির্মিত হয়ে আসছে। এই বছর তিনি প্রতিমা উপহার দিয়েছেন ডোনার নৃত্য শিক্ষাকেন্দ্রকে। তাঁর নাতনি এই শিক্ষাকেন্দ্রের শিক্ষার্থী। সরস্বতী পুজোর দিনে বর্ষীয়ান এই শিল্পীকে সংবর্ধনা দেওয়া হল দীক্ষামঞ্জরীর পক্ষ থেকে।
ওয়ান ইন্ডিয়ার মুখোমুখি হয়ে পদ্মশ্রী সনাতন রুদ্র পাল বলেন, 'আমরা যারা প্রতিমা নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত তারা এরআগে কলকাতায় একাধিক পুরস্কার পেলেও এত বড়মাপের পুরস্কার পায়নি। এই অভিজ্ঞতা আমার আগে কখনও ছিল না। আমি সমস্ত ভারতবাসী তথা বঙ্গবাসী এবং যারা পুজো ভক্ত এবং পুজোর সঙ্গে যুক্ত তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।'
একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, 'দীক্ষামঞ্জরী থেকে সংবর্ধান পেয়ে এবং এখানে এসে খুবই ভালো লাগছে। ডোনা গঙ্গোপাধ্যায় যে সম্মান দিলেন তা আমার কাছে বড় ব্যাপার। আশা করেছিলাম সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা হবে। এরআগে একবার দাদাগিরিতে দেখা হয়েছিল। এবার দেখা হলে ভালো লাগত।'
পুজোর আয়োজন থেকে অতিথি অ্যাপায়ন সব কিছুই দক্ষতার সঙ্গেই সামলালেন সৌরভ পত্নী। কাজের সূত্রে সানা লন্ডনে আছেন। সেখানেই সরস্বতী পুজোতে মেতেছেন সানাও।
এরপর ওয়ান ইন্ডিয়ার মুখোমুখি হয়েছে ডোনা গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, 'প্রতি বছরই দীক্ষামঞ্জরীর পক্ষ থেকে এই পুজোর আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। আগে বিশিষ্ট শিল্পীরা পারফরফরম্যান্স করতেন। বিগত কয়েক বছরে শুধু শিক্ষার্থীরাই পারফরম্যান্স করছে। এই দিনে অনেকেই আছেন যারা প্রথমবার মঞ্চে উঠবে। এটা তাদের কাছে আলাদা অভিজ্ঞতা।'
এমন দিনে মেয়ে বাড়িতে নেই। অথচ এই পুজোর সঙ্গে অনেক স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে সানার। সেই প্রসঙ্গে ডোনা বলেন, 'সানা খুব ছোট থেকেই এই পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে। প্রতি বছরে ওর বিভিন্ন রকমের ইচ্ছে হত। কোনও বছর মনে হল আল্পনা দেবে। আবার কোনও বছর ইচ্ছে হল শাড়ি পড়বে। আবার কোনও বছর ইচ্ছে হল বন্ধুদের সঙ্গে ঠাকুর দেখতে যাবে। এই বার ও লন্ডনেই পুজোতেই আনন্দ করছে।'
পুজোর পাশাপশি থাকছে ভোগের ব্যবস্থা। খিচুড়ি, ভাজা, তরকারি, মিষ্টি রয়েছে সেই মেনুতে ছিল, যা এক কথায় রাজকীয়।












Click it and Unblock the Notifications