ভোটের সময় বুথের সিসিটিভি ফুটেজ নেই! খুনের মামলায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন হাইকোর্টের
কলকাতা হাইকোর্টে ফের পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পঞ্চায়েত ভোটের সময় ইসলামপুরে দুই ব্যক্তি মারা গিয়েছিলেন। সেই ঘটনার পুলিশি তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠল। ঘটনার দিনের সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যাচ্ছে না। এমনই বক্তব্য আদালতে রাখল পুলিশ।
বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। পুলিশ কেন সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করেনি? সেই প্রশ্ন উঠেছে। শুধু তাই নয়, জেলা পুলিশ সুপার এবার ওই তদন্ত করবে। তেমন নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আগামী ৯ জানুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানি। সেদিন পুলিশ সুপারকে রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

ঘটনাটি ঘটেছে গোয়ালপোখর থানার জাগির বস্তি এলাকায়। বুথের বাইরে বোমার আঘাতে দুই ব্যক্তি মারা গিয়েছিলেন। তার মধ্যে একজন তৃণমূল ও অপরজন কংগ্রেস কর্মী। আদালতে ওই খুনের ঘটনা নিয়ে মামলা হয়। সেখানেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন খোদ বিচারপতি।
ভোটের দিন বুথের বাইরে দুজন মারা গিয়েছেন। তারা সম্পর্কে দুই ভাই। পুলিশ অভিযোগে লিখেছে দুই পক্ষের মধ্যে বিবাদের সময় তারা মারা গিয়েছেন। মৃতের স্ত্রীর জবানবন্দি নেওয়ার কথা ছিল। যেমন তেমন ভাবে সেই বক্তব্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। এমনই বক্তব্য উঠে এসেছে আদালতের কথায়। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়েছেন বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত।
বুথের বাইরের সিসিটিভি ফুটেজ আদালত দেখতে চেয়েছে। কিন্তু সেই সিসিটিভি ফুটেজ নেই। এমনই জানানো হয়েছে। আদালতের নির্দেশেই সিসিটিভি লাগানো কথা হয়েছিল। তাহলে কেন সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করা হয়নি? সেই প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশের তদন্ত কোন পথে রয়েছে? সেই প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপতি।
পুলিশ নিজের মতো তদন্ত করছে। এই অভিযোগ সামনে এসেছে। বিচারপতি ইসলামপুর থানার পুলিশের উপরে ভরসা রাখছেন না। উত্তর দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপারকে এই ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বিডিওকে এবার যুক্ত করা হচ্ছে। আগামী ৯ জানুয়ারি বিডিওর থেকেও বক্তব্য শোনা হবে। কেন বুথের ভিতর এবং বাইরে সিসিটিভি সংরক্ষণ করা হয়নি? ফুটেজ কোথায় রয়েছে সেই উত্তর জানাবেন বিডিও।
পুলিশের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। মৃতদের পরিবারের থেকে ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছিল তারা। কিন্তু সেই ফুটেজকে কাজে লাগানো হয়নি। গোপন জবানবন্দি নেওয়া হয়েছিল মৃতের স্ত্রীয়ের। কিন্তু সেই জবানবন্দিকেও হিমঘরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। যারা খুনে অভিযুক্ত তাদেরকেই সাক্ষী হিসেবে এনেছে পুলিশ। এমন মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে।
কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ পুলিশের ভূমিকায়। সিসিটিভি ফুটেজ আর পাওয়া যাবে কি না! তাই নিয়েও সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications