কম বয়সীদের যৌন ইচ্ছা নিয়ন্ত্রণ করা কর্তব্য, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ খারিজ সুপ্রিম কোর্টে
গত বছর একটি মামলার রায় দিতে গিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট কিশোরীদের যৌন ইচ্ছা নিয়ন্ত্রণ করতে বলেছিল। বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে। রাইট টু প্রাইভেসি অফ অ্যাডোলেসেন্টস শিরোনামে হওয়া সেই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট এদিন কলকাতা হাইকোর্টের বিতর্কিত রায়কে বাতিল করে দিয়েছে।
কলকাতা হাইকোর্টে শুধু কিশোরীদের যৌন ইচ্ছা নিয়ন্ত্রণ করতেই শুধু বলেনি, নাবালিকার সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়িত থাকা ২৫ বছর বয়সী এক যুবককেও মুক্তি দিয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অভয় এস ওকা এবং উজ্জ্বল ভুঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ হাইকোর্টের সেই রায়কে বাতিল করে দেয় এদিন।

- সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা
সুপ্রিম কোর্টের তরফে এদিন সংবেদনশীল প্রকৃতির ক্ষেত্রে কীভাবে রায় লিখতে হয় সেব্যাপারে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি বিচারপতি অভয় এস ওকা পকসো আইনের ছয় নম্বর ধারা ও ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬(৩) ও ৩৭৬(২)(এন) ধারার অধীনে অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করেছে। এছাড়াও মামলায় ভুক্তভোগীকে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করে দিয়েছে।
- কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে বিতর্ক
প্রসঙ্গত গত বছরের অক্টোবরে কলকাতা হাইকোর্টের একটি রায়ে বিতর্ক তৈরি হয়। সেই সময় কলকাতা হাইকোর্ট পকসো আইন ২০১২-র অধীনে ২৫ বছর বয়সী এক যুবককে বেকসুর খালাস করে এবং কিশোরী মেয়েদের যৌন আচরণ সম্পর্কেও মন্তব্য করে।
কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি চিত্তরঞ্জন দাস ও পার্থসারথি সেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বেঞ্চ রায়ে বলেছিল, যৌন আকাঙ্খা কিংবা আবেদনকে নিয়ন্ত্রণ করা প্রতিটি কিশোরী মেয়েদের কর্তব্য কিংবা দায়বদ্ধতার মধ্যে পড়ে।
বেঞ্চ আরও বলে বয়ঃসন্ধিকালে যৌনতা স্বাভাবিক, কিন্তু যৌন আকাঙ্খা বা ওই ধরণের আকাঙ্খার উত্তেজনা সেই পুরুষ বা মহিলার ব্যক্তির কিছু কর্মের ওপর নির্ভর করে। সেই কারণে যৌন তাড়না মোটেই স্বাভাবিক এবং আদর্শ নয়। হাইকোর্টে সেই সময় বলেছিল ১৬-১৮ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে সম্মতিমূলক সম্পর্কের সমাধান করতে পকসো আইনে বিধানের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications