'সব টাকা গোপাল এবং তাঁর স্ত্রী হৈমন্তী গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে', বিস্ফোরক দাবি কুন্তলের
নিয়োগ দুর্নীতিতে একের পর এক নাম সামনে আসছে। এমনকি কোটি কোটি টাকা লেনদেনের খবর সামনে আসছে। কিন্তু এর শেষ কোথায়। সিবিআইয়ের কাছে চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নিয়োগ দুর্নীতি মামলা
নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় একেবারে চাঞ্চল্যকর মোড়। গত কয়েকদিন আগেই 'কালীঘাটের কাকু' বলে একজনের নাম সামনে আসে। যিনি কিনা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংস্থায় কর্মরত। আর এর মধ্যেই সামনে এক আরও এক রহস্যময়ী মহিলার নাম।
আর তিনি হলেন গোপাল দলপতি স্ত্রী হৈমন্তী গঙ্গোপাধ্যায়। আজ বৃহস্পতিবার আদালত থেকে প্রেসিডেন্সি জেলে নিয়ে আসার সময়ে এই রহস্যময়ী মহিলার নাম ফাঁস করলেন তৃণমূলের যুব নেতা কুন্তল।

৩৯ লক্ষ টাকা গোপাল দলপতির স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে গিয়েছিল
গত কয়েকদিন আগেই কুন্তল ঘোষকে গ্রেফতার করে তদন্তকারী সংস্থা। আর এরপরেই তাঁকে দফায় দফায় জেরা করে একাধিক তথ্য পেয়েছেন সিবিআই এবং ইডির আধিকারিকরা। বিশেষ করে নিয়োগ দুর্নীতির অন্যতম মাথা এই গোপাল দলপতির মুখোমুখি কুন্তলকে বসানোর পর বেশ কিছু তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারী সংস্থার। আর সেখানেই রহস্যময়ী এক মহিলার নাম সামনে আসে। শুধু তাই নয়, জেরায় তদন্তকারীরা জানতে পারেন যে উত্তরবঙ্গের এক প্রভাবশালী নেতার অ্যাকাউন্ট থেকে ৩৯ লক্ষ টাকা গোপাল দলপতির স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে গিয়েছিল। আর এরপরেই গোপাল দলপতিকে তলব করে সিবিআই।

নিয়োগ দুর্নীতিতে বোমা ফাটালেন কুন্তল
আর এর মধ্যেই কার্যত নিয়োগ দুর্নীতিতে বোমা ফাটালেন কুন্তল ঘোষ। আজ বৃহস্পতিবার আদালত থেকে বের হওয়ার সময় তিনি বলেন, সব জানেন গোপাল দলপতি ওরফে আরমান গাঙ্গুলি এবং তাঁর স্ত্রী হৈমন্তী গঙ্গোপাধ্যায়। এমনকি নিয়োগ দুর্নীতির সমস্ত টাকা তাঁদের কাছে আছে বলেও দাবি তাঁর। ওদের জিজ্ঞাসাবাদ করলেই নিয়োগ দুর্নীতির সমস্ত তথ্য সামনে আসছে বলেও বিস্ফোরক দাবি করেন কুন্তল। শুধু তাই নয়, হৈমন্তী সমস্ত কিছুই জানে বলেও দাবি তাঁর। আর নতুন এই নাম ঘিরেই শুরু হয়েছে জোর তরজা। এর আগে কালীঘাটের কাকু বলে এক ব্যক্তির নাম সামনে এসেছিল।

কিন্তু গোপাল এবং তাঁর স্ত্রী কোথায়?
সিবিআই সূত্রে খবর, ইতিমধ্যে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু গোপাল দলপতির খোঁজ তদন্তকারীরা পাচ্ছেন না বলেই খবর। এমনকি তাঁর বাড়ি কিংবা ফোনেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে হৈমন্তীর খোঁজও চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। যদিও গোপাল আগেই জানিয়েছিল যে তাঁর স্ত্রী আগেই তাঁকে ছেড়ে চলে গেছে। কোনও ফোন নম্বর কিংবা কোনও তথ্য নেই বলেও জানিয়েছেন গোপাল। তাহলে কীভাবে ওই রহস্যময়ীর কাছে পৌঁছবে সিবিআই? সেটাই বড় চ্যালেঞ্জ তদন্তকারীদের কাছে।

৬০ থেকে ৬৫ লাখ লেনদেন
সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, কুন্তলের দাবির পরেই গোপালের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখা হয়। যেখানে দেখা যায় শুধু ৩৫ লাখ নয়, অন্তত ৬০ থেকে ৬৫ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। শুধু তাই নয়, বিপুল পরিমাণ এই টাকা দেখা যায় মুম্বইয়ের একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার হয়েছে। যে অ্যাকাউন্ট একটি কোম্পানির নামে রয়েছে বলে দাবি সিবিআই। তদন্তকারীদের দাবি, ওই কোম্পানির মালিক আসলে হৈমন্তীই। ফলে নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে একের পর এক সুত্র সামনে আসছে।












Click it and Unblock the Notifications