Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

ফিরহাদ হাকিম মেয়র হিসেবে পদত্যাগ করে রাজনীতি ছাড়বেন! কিন্তু কেন?

কলকাতা কর্পোরেশনের অধিবেশনে 'মিনি পাকিস্তান' মন্তব্য ঘিরে তীব্র বিতর্কে বিশৃঙ্খলা ছড়াল। মেয়র ফিরহাদ হাকিম প্রমাণ চেয়ে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ করে জানান, অভিযোগ প্রমাণিত হলে পদত্যাগ ও রাজনীতি ছাড়বেন।

হৈ-হট্টগোলটি তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)-এর প্রস্তাবনা বিতর্কের সময় শুরু হয়। এতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ওপর 'সাংস্কৃতিক আক্রমণ' এবং 'বন্দে মাতরম' স্লোগানে নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করা হয়েছিল।

টিএমসি কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তী বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। জবাবে বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষ শাসক দল ও মেয়রের তীব্র সমালোচনা করলে সরকারি বেঞ্চে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

শেষ বক্তা ফিরহাদ হাকিম পাল্টা আক্রমণে নেমে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির গভীর শিকড়ের দিকে ইঙ্গিত করে ইতিহাস তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ফজলুল হক মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েছিলেন। যারা পাকিস্তান চেয়েছিলো, তাদের হিন্দু মহাসভা সাহায্য করেছিলো।"

ফিরহাদের মন্তব্যে বিজেপি প্রতিবাদ জানায়। সজল ঘোষ মেয়রের বিরুদ্ধে কলকাতার একটি অংশকে "মিনি পাকিস্তান" বলার অভিযোগ তোলেন। এতে সঙ্গে সঙ্গেই তুমুল হট্টগোল ও দুই পক্ষের স্লোগান শুরু হয়। উত্তেজিত ফিরহাদ আসন ছেড়ে উঠে বিরোধী বেঞ্চের দিকে আঙুল তুলে চ্যালেঞ্জ করেন। তিনি বলেন, "যদি আমি 'মিনি পাকিস্তান' বলেছি এমন একটি 'বাইট'-ও আপনারা দেখাতে পারেন, তাহলে আমি পদত্যাগ করব ও রাজনীতি ছেড়ে দেব।"

তিনি যোগ করেন, "আমি মুসলিম। আমার দেশ ভারত। পাকিস্তান আমার শত্রু।" এরপর কক্ষ কয়েক মিনিট বিশৃঙ্খল থাকে। দেবাশিস কুমার মেয়রের কাছে গিয়ে তাঁকে শান্ত করেন।

অধিবেশনের বাইরে ফিরহাদ হাকিম সাংবাদিক সম্মেলনে চ্যালেঞ্জের পুনরাবৃত্তি করেন। অভিযোগটিকে 'ব্যক্তিগতভাবে বেদনাদায়ক' ও 'সাম্প্রদায়িক রাজনীতির' ফল অভিহিত করে তিনি জানান, "যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, আমি শুধু মেয়রের পদ ছাড়ব না, রাজনীতিও ছেড়ে দেব।"

ফিরহাদ হাকিম আরও বলেন, "এর আগে বাংলায় এমন সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ছিল না, এটি বেশিদিন টিকবেও না। আমাদের পরিচয় ভারতীয়; সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু নই।"

এই বিতর্কের সূত্রে একটি পাকিস্তানি সংবাদপত্রের সাক্ষাৎকারের দাবি আবার মাথাচাড়া দেয়, যেখানে নাকি 'মিনি পাকিস্তান' সংক্রান্ত মন্তব্যটি ছিল। অভিযোগ অস্বীকার করে মেয়র জানান, প্রকাশিত খবর সম্পর্কে তিনি অবগত নন এবং দাবিটিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, "আমি উর্দু পড়তে পারি না। পাকিস্তানি সংবাদপত্র বিজেপির অফিসে যায়, বাংলায় আসে না। গল্প বানানো হচ্ছে।"

ফিরহাদ হাকিম প্রতিদ্বন্দ্বীদের "মিথ্যা ছড়ানোর" অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। কথিত 'মিনি পাকিস্তান' মন্তব্য নিয়ে এই বিতর্কটি বছরের পর বছর ধরে, বিশেষ করে নির্বাচনী মরশুমে, বারবার ফিরে আসে।

বিজেপি নেতাদের দাবি, ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় এক পাকিস্তানি সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলার সময় ফিরহাদ হাকিম কলকাতার মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ কলকাতা বন্দর কেন্দ্রের প্রসঙ্গে এই শব্দবন্ধটি ব্যবহার করেছিলেন। তিনি এই কেন্দ্র থেকে তিনবারের বিধায়ক।

তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) এই অভিযোগ লাগাতার অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, এটি প্রমাণ করার কোনও ভিডিও, অডিও ক্লিপ বা হুবহু প্রতিলিপি তৈরি হয়নি এবং এটি মূলত রাজনৈতিক বাগাড়ম্বর।

বিজেপি অবশ্য পাকিস্তানি সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করেছে, যদিও মেয়র এমন সাক্ষাৎকার দেওয়ার কথা বারবার অস্বীকার করেছেন। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলায় রাজনৈতিক মেরুকরণের তীব্রতার মধ্যেই এই সংঘাত সামনে এলো।

বিজেপি শাসক টিএমসি-র বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু তোষণের অভিযোগ আনছে, পালটা তৃণমূল গেরুয়া শিবিরকে সাম্প্রদায়িক ও বাংলা-বিরোধী বলে আখ্যা দিচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনা স্পষ্ট করেছে কিভাবে পরিচয়, ইতিহাস ও বাগাড়ম্বর বাংলার নাগরিক প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে সংঘাত ঘটাচ্ছে; যা পৌরসভা বিতর্ককে উচ্চ-ভোল্টেজ রাজনৈতিক নাটকে পরিণত করছে, যার রাজ্য-স্তরের বড় প্রভাব রয়েছে।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+