সিপিএম-কং জোট : ১ ফেব্রুয়ারি রাহুলের সঙ্গে বৈঠক প্রদেশ নেতাদের
কলকাতা, ২২ জানুয়ারি : অবশেষে জোট নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে কংগ্রেস। আসন্ন বিধানসভা ভোটে বামেদের সঙ্গে কংগ্রেসের জোট প্রশ্নে আলোচনার জন্য আগামী ১ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে বৈঠক হবে কংগ্রেসের। [হাত ধরাধরি করে বঙ্গ কংগ্রেস ও সিপিএম তাকিয়ে দশ জনপথের দিকে]
কংগ্রেস সহ সভাপতি রাহুল গান্ধী এব্যাপারে আলোচনার জন্য প্রদেশ সভাপতি অধীর চৌধুরী সহ প্রদেশ নেতৃত্বকে ডেকে পাঠিয়েছেন। আগামী মাসের এক তারিখে সকালে অধীর চৌধুরী, প্রদীপ ভট্টাচার্য, আব্দুল মান্নান, দীপা দাশমুন্সি, সোমেন মিত্র, ওমপ্রকাশ মিশ্র, মানস ভুঁইঞ্য়া সহ কংগ্রেস নেতারা সহ সভাপতির সঙ্গে আলোচনায় বসবেন। [সিঙ্গুরে দাঁড়িয়ে শিল্পবার্তা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের, সরাসরি আহ্বান জানালেন কংগ্রেসকে]

গত ডিসেম্বরেই ব্রিগেডের ময়দানে সভা করে কংগ্রেসকে জোটবার্তা দেয় সিপিএম। এরপরে বারবার নানা সভায় বামেদের তরফে জোট চেয়ে কংগ্রেসকে আহ্বান জানানো হয়েছে। সিঙ্গুরে পদযাত্রা মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য পর্যন্ত কংগ্রেসকে জোট বাঁধাক আহ্বান জানান।
অন্যদিকে প্রদেশ নেতৃত্বের তরফে সভাপতি অধীর চৌধুরীও বারবারই জোটের পক্ষে সওয়াল করে এসেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তৃণমূলের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে নিচুতলার কংগ্রেস কর্মীরা বামেদের সঙ্গে জোট বেঁধেছেন। ফলে নিচুতলায় একপ্রকার জোট যে হয়ে গিয়েছে তা স্বীকার করে নেন তিনি।
অধীরবাবু আরও জানান, দলের মনোভাব ও নিচুতলার কর্মীদের মনের কথা তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে জানিয়েছেন। এরপরে যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার তা হাইকম্যান্ডই নেবে।
শুধু প্রদেশ সভাপতিই নন, আব্দুল মান্নান, প্রদীপ ভট্টাচার্যের মতো নেতারা বারবারই জোটের পক্ষে সওয়াল করে এসেছেন। তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়তে জোটই যে একমাত্র উপায় তা বুঝেছেন কংগ্রেস-বাম দু'তরফের নেতারাই।
তবে এসবের মধ্যেও মানস ভুঁইঞ্য়ার মতো নেতারা সিপিএমের সঙ্গে জোটের সরাসরি বিরোধিতা করেছেন। কংগ্রেসের একটা অংশ 'একলা চলো' নীতি নিয়ে চলতে চাইছে। ফলে মানসবাবুকে আলোচনায় ডেকে সেই অংশের মতও রাহুল গান্ধী শুনতে চাইছেন বলে রাজনৈতিক সূত্রে খবর।
আলোচনার পরই গোটা বিষয়টি কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধীকে জানাবেন সহ সভাপতি। এরপরই সিপিএমের সঙ্গে জোট নিয়ে সরাসরি বার্তা দেওয়া হবে। তবে আবাদুল মান্নানের মতো নেতারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, কংগ্রেস হাইকম্যান্ডকে গোটা পরিস্থিতি জানানো হয়েছে। রাজ্যের মানুষ কী চাইছেন সেটাও তাঁরা জানিয়েছেন। এরপরে হাইকম্যান্ড বুঝে-শুনেই সিদ্ধান্ত নেবে। আর যে সিদ্ধান্তই নিক না কেন, তা তাঁরা মেনে নেবেন।












Click it and Unblock the Notifications