পোষ্য দুই চিতাকে ছেড়ে দেশে ফিরতে নারাজ, ইউক্রেনে বাড়ির বাঙ্কারেই থাকছেন ভারতীয় চিকিৎসক
পোষ্য দুই চিতাকে ছেড়ে দেশে ফিরতে নারাজ, ইউক্রেনে বাড়ির বাঙ্কারেই থাকছেন ভারতীয় চিকিৎসক
যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেন থেকে ভারতীয়দের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে দেশের সরকারের পক্ষ থেকে। ইউক্রেনের এখন যা পরিস্থিতি সেখান থেকে ভারতীয়রা এখন স্বদেশে ফেরার জন্য উদগ্রীব হয়ে রয়েছে। কিন্তু ইউক্রেনে এমন এক ভারতীয় রয়েছেন যিনি তাঁর পোষ্যদের ছেড়ে দেশে ফিরতে নারাজ। যদিও তাঁর বন্ধু ও পরিবারের সদস্যরা দেশে ফিরে এসে তাঁকে বারংবার ভারতে ফিরে আসার পরামর্শ দিলেও তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে তাঁর পোষ্যরা তাঁর পরিবারের সদস্যের মতো এবং তাদের এখানে রেখে সে আসতে পারবেন না।

বাঙ্কারে পোষ্যদের নিয়ে থাকছেন কুমার
বেশ কয়েকদিন যাবৎ ভারতীয় পড়ুয়াদের যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেন থেকে নিজেদের পোষ্য কুকুর-বিড়ালকে নিয়ে আসার একাধিক গল্প সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ব্যতিক্রম নন অন্ধ্রপ্রদেশের এই চিকিৎসক। এই চিকিৎসক সিদ্ধান্ত নেন যে তাঁর দুই পোষ্য একটি চিতা ও ব্ল্যাক প্যান্থারকে ছেড়ে দেশে ফিরবেন না বরং ইউক্রেনে তাঁর বাড়ির মধ্যে বাঙ্কারে থাকবেন। ডাঃ কুমার বান্দি, যিনি পশ্চিম গোদাবরী জেলার তানুকু শহরের বাসিন্দা। তিনি ইউক্রেনের দনবাসে থাকেন, যা রাজধানী কিয়েভ থেকে ৮৫০ কিমি দূরের একটি শহর। তিনি এই সঙ্কটের সময় তেলেগু ভাষার পড়ুয়াদের সহায়তা করছেন কাছাকাছি সীমান্তে পৌঁছানোর। যাতে তাঁরা ভারতে ফিরতে পারেন।

পোষ্য দুই চিতাকে ছেড়ে আসতে পারবেন না কুমার
রাশিয়ার হামলা শুরু হওয়ার পর, কুমার, যিনি একজন ইউটিউবার, তিনি তাঁর পোষ্যদের সঙ্গে একটি ভিডিও আপলোড করেন, যেখানে তাদের নিয়ে তিনি হাঁটছেন দেখা গিয়েছে। ভিডিওতে কুমার বলেন, 'আমি ইউক্রেন ছেড়ে যেতে পারব না কারণ আমার পোষ্য চিতাদের এখানে দেখভাল করার কেউ নেই।' কুমার তাঁর বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সম্পর্কে ব্লগে বলেন, 'আমি প্রতিবেশী দেশে পালিয়ে বা ভারতে ফিরে বোমা হামলা থেকে বাঁচতে পারি। কিন্তু আমি চাই না আমার অনুপস্থিতিতে আমার পোষ্য প্রাণীরা অনাহারে মারা যাক।'

তেলেগু সিনেমা দেখে অনুপ্রাণিত
ইউক্রেনে মেডিসিন নিয়ে পড়ার জন্য ১৫ বছর আগেই দেশ ছাড়েন কুমার, তিনি এখন মেডিক্যাল অভ্যাস করেন এবং দনবাসে থাকেন। কুমার ছোট থেকেই পশুপ্রেমী হিসাবে পরিচিত এবং একটি তেলেগু সিনেমায় এক পর্তুগীজকে চিতা পুষতে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে কুমারও দু'টি চিতা পোষার শখকে বাস্তব রূপ দেন। কুমার নিজেও চারটে তেলেগু সিনেমায় অভিনয় করেছেন, কিন্তু এখনও সেগুলি মুক্তি পায়নি। তিনি তামিল, তেলেগু ও মালায়লাম টিভি ধারাবাহিকে অতিথি চরিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি ইউক্রেনের সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন।

পোষ্যরা পরিবারের মতো
কুমার দাবি করেছেন যে জাগুয়ারের বিশেষ প্রজাতিটি বিশ্বের বিরলতম এবং এই জাতীয় প্রাণী মাত্র ২১টি রয়েছে। তিনি তাঁর পোষ্য জাগুয়ার 'ইয়াগওয়ার'কে ১৯ মাস আগে কেনেন এবং পরবর্তীকালে আরও একটি কালো রঙের চিতা কেনেন। যদিও তাঁর বন্ধু ও পরিবার দেশে ফিরে এসে কুমারকে তাঁরা সকলেই তাঁর সুরক্ষার জন্য ওই দেশ ছেড়ে আসার কথা বলেন। কিন্তু কুমার স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে তাঁর পোষ্যরা তাঁর পরিবারের মতো এবং তিনি কখনও তাদের ছেড়ে আসবেন না। কুমার তাঁর ব্লগে বলেন, 'আমি যদি তাদের পরিত্যাগ করি, তারা অবশ্যই মারা যাবে, এবং আমি তা সহ্য করতে পারব না, আমি আমার শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত তাদের দেখব এবং যদি আমি মারা যাই তবে আমি তাদের সঙ্গে মরব।'

ভারতীয়দের সাহায্য
কুমার তাঁর ব্লগে এটাও উল্লেখ করেন যে তিনি ভারতীয় পড়ুয়াদের সীমান্তে পৌঁছাতে সহায়তা করছেন এবং সকলকে জানিয়েছেন যে কোনও ভারতীয়র সহায়তা লাগলে যেন তাঁরা কুমারের সঙ্গে যোগ করেন। কুমারের ভাই রাম বান্দি চারটে বাসের বন্দোবস্ত করেছেন, যাঁরা ইউক্রেন সীমান্তে যেতে ইচ্ছুক। কুমার সম্প্রতি অন্ধ্রপ্রদেশে রাজ্যের বিরোধী নেতা চন্দ্রবাবু নাইডুর সঙ্গে একটি জুম কলে যোগাযোগ করেছেন।












Click it and Unblock the Notifications