ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ: বিপর্যস্ত জাপোরিশা পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পথে রওনা হয়েছে জাতিসংঘ পরিদর্শক দল
ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে এই কেন্দ্রটির আশেপাশে লড়াইয়ের ফলে এর নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ বেড়েছে। এর কোন ক্ষতি হলে মারাত্মক বিপর্যয় দেখা দেবে।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা আইএইএ'র প্রধান বলেছেন, তাদের একটি পরিদর্শক দল ইউক্রেনের বিপর্যস্ত জাপোরিশা পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দিকে রওনা হয়েছে।
রাফায়েল গ্রসি বলছেন, এই সপ্তাহের শেষের দিকে দলটি ঐ কেন্দ্রে পৌঁছুবে বলে আশা করা হচ্ছে।
টুইটারে এক পোস্টে তিনি বলেছেন, "আমাদের অবশ্যই ইউক্রেন ও ইউরোপের সবচেয়ে বড় পরমাণু কেন্দ্রটির নিরাপত্তা রক্ষা করতে হবে।"
গত মার্চ মাস থেকে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি রুশ সেনাদের দখলে রয়েছে।
ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে এই কেন্দ্রটির আশেপাশে লড়াইয়ের ফলে এর নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ বেড়েছে।
ঐ এলাকায় গোলাবর্ষণের জন্য ইউক্রেন ও রাশিয়া একে অপরকে দায়ী করেছে।
আরও পড়তে পারেন:
- ইউক্রেনের পারমানবিক স্থাপনার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চায় পশ্চিমা মিত্ররা
- ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধে ছয় মাসে যা ঘটেছে, এরপর কী ঘটতে পারে
- পারমাণবিক স্থাপনা থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের আহ্বান প্রত্যাখ্যান রাশিয়ার
https://twitter.com/rafaelmgrossi/status/1564096717397659649
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদোমির জেলেনস্কি বলেছেন, ইউরোপ বৃহস্পতিবার একটি পারমানবিক বিপর্যয় থেকে "এক ধাপ দূরে" ছিল যখন ইউক্রেনের বিদ্যুৎ গ্রিড থেকে কেন্দ্রটির সংযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল এবং ব্যাক-আপ জেনারেটর দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হয়েছিল।
তিনি বলেন, আগুনের কারণে বিদ্যুতের লাইনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাপোরিশার ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো কেন্দ্রটিকে বন্ধ রাখতে হয়েছিল।
এই ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইউক্রেন এবং রাশিয়া একে অপরকে দায়ী করেছে। কিন্তু কোন্ পক্ষ আসলে দায়ী বিবিসি তা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
গত মার্চের শুরুতে রুশ সামরিক বাহিনী পরমাণু কেন্দ্রটি দখল করে নেয়। তবে এই কঠিন পরিস্থিতিতেও ইউক্রেনের কর্মীরা বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পরিচালনা করছে।
ক্রেমলিনের সরকার এর আগে ইঙ্গিত দিয়েছিল যে তারা শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের পরমাণু কেন্দ্রটি পরিদর্শন করার অনুমতি দেবে। ফলে ঐ এলাকায় বাস্তবে কী ঘটছে তা জানার জন্য আইএইএ পরিদর্শকদের এই সফরটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।
তবে ইউক্রেন আশঙ্কা করেছিল যে জাপোরিশায় আইএইএ মিশনের সফর ঐ কেন্দ্রের রুশ দখলকে বৈধতা দেবে। পরে তারা অবশ্য পিছু হঠে আসে।
বিবিসি বাংলায় অন্যান্য খবর:
- ডিজেলের দাম সমন্বয়ের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত 'কাল পরশুর মধ্যে'
- সাহায্যের আকুতি জানিয়ে চিরকুট ছুঁড়ছে পাকিস্তানের বন্যার্তরা
- চন্দ্রাভিযানের নতুন যুগ শুরু করতে প্রস্তুত নাসা, আজ সন্ধ্যায় উৎক্ষেপন
আইএইএ মহাপরিচালক বলেন, "জাপোরিশা পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র বা এর আশেপাশে প্রায় প্রতিদিনই নতুন নতুন ঘটনা ঘটছে। তাই আমরা আর সময় নষ্ট করতে পারি না।"
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরমাণু কেন্দ্রটির চারপাশে গোলাগুলির ঘটনা প্রধান উদ্বেগের বিষয় নয়, কারণ কেন্দ্রটিতে পুরু সুরক্ষা দেয়াল রয়েছে।
তবে এই কেন্দ্রটিতে বিদ্যুতের সরবরাহ বন্ধ করায় মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে। পরমাণু চুল্লি এবং তার ব্যাক-আপ জেনারেটরগুলিতে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার অর্থ যেসব পাম্প দিয়ে চুল্লিকে ঠাণ্ডা রাখা হয় সেগুলো আর কাজ করবে না।
ফলে পারমানবিক জ্বালানির রডগুলো গলতে শুরু করে মারাত্মক বিকিরণের দুর্যোগ তৈরি করবে।।
ইউক্রেন যুদ্ধের আরও খবর:
- ইউক্রেনের 'সামরিক ট্রেনে রকেট হামলায় ২০০ সৈন্য হত্যার' দাবি রাশিয়ার
- যুদ্ধের মধ্যে স্বাধীনতা দিবস পালন করছে ইউক্রেন
- রাশিয়া প্রতিদিন এক কোটি ডলার মূল্যের গ্যাস পুড়িয়ে ফেলছে














Click it and Unblock the Notifications