Ukraine-Russia war: ব্যাকফুটে ন্যাটো, প্রত্যাখ্যান ইউক্রেনের আকাশে নো ফ্লাই জোন ঘোষণার আহ্বান
মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটো ইউক্রেনের আকাশে নো ফ্লাই জোন ঘোষণা করার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন। গতকাল শুক্রবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ন্যাটোর সদরদপ্তরে ন্যাটো জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক শেষে ন্যাটোর মহাসচিব জেন্স স্টোলটেনবার্গ এই ঘোষণা করেন।

তিনি একথাও বলেন, দীর্ঘমেয়াদে রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের সম্পর্কে বড় ধরনের পরিবর্তন আসলেও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতি বজায় থাকবে। নতুন নতুন দেশকে ন্যাটো জোটে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে স্টোলটেনবার্গ বলেন, আমরা ফিনল্যান্ড ও সুইডেনকে আমাদের সবগুলো বৈঠকে অংশগ্রহণ করার সুযোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এসব বৈঠকে আমরা আমাদের কর্মকাণ্ড ও কার্যসূচি সম্পর্কে তাদেরকে অবহিত করব। এর আগে একই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে মার্কিন সরকার বলেছিল, এ ধরনের ঘোষণা আমেরিকাকে সরাসরি রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলবে যা থেকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বেঁধে যেতে পারে। স্টোলটেনবার্গ এমন সময় ফিনল্যান্ড ও সুইডেনকে ন্যাটো জোটে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণা করলেন যখন ইউক্রেনকে এই জোটে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে বিরোধের জের ধরে পূর্ব ইউরোপের ওই দেশটিতে বর্তমানে রাশিয়ার সামরিক অভিযান চলছে।
সংকট নিরসনে ডাকা ইইউর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে স্টলটেনবার্গ জানান, রাশিয়ার বিপক্ষে কিংবা ইউক্রেনের হয়ে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেওয়ার আপাতত কোনো পরিকল্পনা ন্যাটো বাহিনীর নেই। এমনকি ইউক্রেনের আকাশসীমা রক্ষার পরিকল্পনাও ইইউর নেই। জেন্স স্টলটেনবার্গ বলেন, ন্যাটো প্রতিরক্ষামূলক জোট। আমাদের মূল লক্ষ্য ৩০টি দেশকে নিরাপদ রাখা। আমরা এ যুদ্ধের অংশ নই। তবে এ যুদ্ধ যাতে ইউক্রেনের বাইরে ছড়িয়ে না পড়ে সে দায়িত্ব আমাদের রয়েছে। বৈঠকে ইইউ ও ন্যাটো বাহিনীর কাছে সহযোগিতা চান ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্র কুলেবা। তিনি বলেন, পুতিন ইউক্রেনকে আরেক সিরিয়া বানাতে চায়। সময় থাকতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এদিকে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান বন্ধে রাশিয়াকে আহ্বান জানিয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলজ। শুক্রবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করেন চ্যান্সেলর শলজ। এ সময় তিনি বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়া যে বর্বোরচিত হামলা চালাচ্ছে তা অমানবিক, নিন্দনীয় এবং মানবতাবিরোধী। তাই অবিলম্বে ইউক্রেনে হামলা বন্ধসহ বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা ও 'নো ওয়ার জোন' তৈরির আহ্বান জানান শলজ। এ সময় ইউক্রেনকে অস্ত্র দিয়ে জার্মানির সহায়তার বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে এ ধরনের সহযোগিতা উসকানিমূলক বলে মন্তব্য করেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেন, ইউক্রেনের সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিরোধ নয় বরং দেশটিতে ঘাঁপটি মেরে বসে থাকা নাৎসীদের নির্মূলই মস্কোর প্রধান লক্ষ্য।এদিকে সবকিছু ঠিক থাকলে ইউক্রেন ইস্যুতে চলতি সপ্তাহে আবারো দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে আলোচনার কথা রয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications