করোনা টিকা প্রস্তুতিতে শূকরের মাংস! হালাল-হারাম বিতর্কের মাঝেই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত আরবের
শূকরের মাংস থেকে তৈরি জিলাটিন থাকলেও করোনা টিককরণে সায় আরবের
করোনা টিকা প্রস্তুতিতে নাকি ব্যবহৃত হয়েছে শূকরের মাংস। আর এই গুজব ছড়াতে বিশ্বব্যাপী মুসলিম সমাজে বাড়তে থাকে বিতর্ক। একাধিক নিদান দিতে থাকেন মুসলিম ধর্মগুরুরা। ভারতে করোনা ভ্যাকসিন হাত আসার আগেই গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই মাথাচাড়া দেয় হালাল-হারাম বিতর্ক। এবার সেসবে পাত্তা না দিয়ে করোনা ভ্যাকসিনকে নিজ দেশে প্রয়োগের ক্ষেত্রে অনুমতি দিল আরবের ফতোয়া কাউন্সিল।

বিতর্কের মাঝেই করোনা টিকায় সায় আরবের সর্বোচ্চ ইসলামিক নীতি-নির্ধারক সংস্থার
এমনকী করোনা টিকায় শূকরের মাংসের যোগ থাকলেও ধর্মীয় ভাবেও তাদের কোনও আপত্তি নেই বলে সাফ জানানো হচ্ছে আরবের সর্বোচ্চ ইসলামিক নীতি-নির্ধারক সংস্থার তরফে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, শূকর নিয়ে শুরু থেকেই ছুৎমার্গ রয়েছে মুসলিম সমাজে। এমনকী অনেক ইসলাম ধর্মগুরুই বলে থাকেন কোরান মতে শূকরের মাংস খাওয়া মুসলিমদের কাছে কার্যত হারাম বা বড়সড় ধর্মীয় অপরাধ।

কী বলছেন মুসলিম ধর্ম-যাজকেরা ?
এমনকী ইহুদিদের ধর্মেও শূকরের মাংস ভক্ষণ নিষিদ্ধ। আর ঠিক সেকারণেই অনেক ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি বিগত কয়েকদিন থেকেই করোনা টিকা নিতে অস্বীকার করতে শুরু করেন। যাতে দানা বাঁধে বিতর্ক। যদিও তর্ক-বিতর্কের মাঝে মুসলিম ধর্মের বেশিরভাগ ধর্মযাজকই মনে করেন, টিকা নেওয়া জরুরি। এমনকী জীবন বাঁচাতে প্রয়োজনে হারাম জিনিস ব্যবহারের অনুমতি করোনেই দেওয়া রয়েছে।

কী এই জিলাটিন ?
এদিকে টিকা সংরক্ষণ করে রাখার জন্যই প্রধানত ব্যবহার করা হয় জিলাটিন। এই জিলাটিন আসে শূকরের থেকে। এদিকে বিশ্বব্যাপী বিতর্কের মাঝেই ফাইজার, মডার্না, অ্যাস্ট্রাজেনেকা আগেই জানিয়ে দিয়েছে, তাদের টিকা ‘হালাল'। অর্থাৎ সোজা কথায় এতে মুসলিম ধর্মে নিষিদ্ধ এমন কিছুই ব্যবহার হয়নি। কিন্তু তার পরেও বিতর্ক থামেনি।

কী বলছেন সমাজ বিজ্ঞানীরা ?
এদিকে ইতিমদ্যেই সৌদি আরব, মালয়েশিয়ার একাধিক ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাও জিলেটিন ছাড়া টিকা তৈরি বিষয়ে কাজ করছে বলে জানা যাচ্ছে। এমতবস্থায় আরবের সর্বোচ্চ ইসলামিক নীতি-নির্ধারক সংস্থা করোনা টিকার প্রয়োগে সবুজকংকেত দেওয়ায় তা আদপে ধর্মীয় ছুৎমার্গ দূরে রেখে মানবজাতি কল্যাণের রাস্তাই আরও প্রশস্ত করবে বলে মত সমাজ বিজ্ঞানীদের।












Click it and Unblock the Notifications