ট্রাম্পের নির্দেশে বাতিল হবে জন্মগত নাগরিকত্ব আইন, কী প্রভাব পড়বে ভারতীয়দের জীবনে?
মার্কিন মুলুকের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বাস করেন যে জন্মগত অধিকার-নাগরিকত্ব আইন "হাস্যকর" এবং ২০ জানুয়ারী দায়িত্ব নেওয়ার পরে আর এই নাগরিকত্ব আইন থাকবে না সেই দেশে। যা ১৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা ছিল, তার এবার সমাপ্তি ঘটবে।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, যে সব অভিবাসীদের সম্পর্কে কোনও নথি সরকারের কাছে নেই তাঁদের আমেরিকা থেকে বহিষ্কার করা হবে। এমনকি তাঁদের সন্তানরা সেই দেশে জন্মালেও আর আমেরিকার নাগরিকত্ব পাবেন না। এতোদিন নিয়ম ছিল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার বাবা-মায়ের নাগরিকত্ব নির্বিশেষে তার সীমানার মধ্যে জন্ম নেওয়া শিশুদের নাগরিকত্ব দেয়। এই নিয়মই এবার পরিবর্তন হবে।

এই বিষয়ে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, "এটা এবার করতেই হবে"। ট্রাম্প আরও বলেন, "আমরা অপরাধীদের দিয়ে শুরু করেছি, এই কাজ আমাদের করতেই হবে"। নথিবিহীন অভিবাসীদের চিহ্নিত করে তাঁদের আমেরিকা থেকে বহিষ্কার করা যে সহজ কাজ নয়, তাও মেনে নিয়েছেন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট।
জন্মগত নাগরিকত্বের অধিকার সংবিধানের ১৪ তম সংশোধনীর উপর ভিত্তি করে এবং মার্কিন আইনের অধীনে সুপ্রতিষ্ঠিত থাকা সত্ত্বেও, তা বাদ দেওয়া যে গুরুত্বপূর্ণ আইনি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে চলা, তা মনে করছেন অনেকেই।
১৪ তম সংশোধনী বলে, "মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করা বা স্বাভাবিক ভাবে বসবাস করা এমন সমস্ত ব্যক্তি এবং তার এখতিয়ারের সাপেক্ষে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে রাজ্যে তারা বসবাস করেন, তারা সবাই তখন মার্কিন নাগরিক"।
আমেরিকান ইমিগ্রেশন কাউন্সিলের ২০১১ ফ্যাক্টশিট বলছে যে জন্মগত নাগরিকত্ব অপসারণ প্রত্যেককে প্রভাবিত করবে, এবং আমেরিকান পিতামাতার পক্ষে তাদের সন্তানদের নাগরিকত্ব প্রমাণ করা কঠিন হতে চলেছে এবার।
পিউ রিসার্চের ২০২২ সালের মার্কিন আদমশুমারির বিশ্লেষণ অনুসারে, প্রায় ৪.৮ মিলিয়ন ভারতীয়-আমেরিকান আমেরিকায় বসবাস করছেন, যার মধ্যে ৩৪ শতাংশ বা ১.৬ মিলিয়ন দেশে জন্মগ্রহণ করেছেন। এই ব্যক্তিরা বর্তমান আইনের অধীনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। ট্রাম্প যদি এই আইনটি বাতিল করে দেন, তাহলে ১.৬ মিলিয়ন ভারতীয় প্রভাবিত হবেন, এমনটা কিন্তু আশঙ্কা করাই হচ্ছে।
যাইহোক, রাষ্ট্রপতি সংবিধান সংশোধন করতে পারবেন না এবং অধিকার সীমিত করার একটি নির্বাহী প্রচেষ্টা ১৪ তম সংশোধনীর লঙ্ঘনের পরিমাণ হবে। তাই আপাতত, দায়িত্ব ভার কাঁধে নেওয়ার আগেই যে বোমা কার্যত ফাটিয়েছেন ট্রাম্প, তার প্রভাব ভালোই পড়বে ভারতীয়দের ওপর, এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।












Click it and Unblock the Notifications