আইএস হামলা থেকে বেঁচে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় শীর্ষস্থানে কয়লা শ্রমিকের মেয়ের
জীবনে যদি কিছু করার ইচ্ছা থাকে তবে কোনও প্রতিবন্ধকতাই সামনে এসে দাঁড়াতে পারে না। আর সেটাই প্রমাণ করলেন ১৮ বছরের কয়লা শ্রমিকের মেয়ে শামসিয়া আলিজাদা। দু’বছর আগে তাঁর স্কুলে হওয়া মারাত্মক আত্মঘাতী আইএসআইএস–এর হামলা থেকে বেঁচে ফিরেছেন শামসিয়া। এ ঘটনায় ৪০ জন পড়ুয়া মারা গিয়েছিল এবং বহুজন আহত হয়েছিল। আতঙ্কিত হয়ে শামসিয়া মাউড এডুকেশন সেন্টার ছাড়তে বাধ্য হন। কিন্তু ফের তিনি তাঁর শিক্ষিকাদের অনুপ্রেরণায় ফের ফেরত আসেন স্কুলে। এই মারণ হামলার পরও তাঁকে কেউ আটকাতে পারেনি আফগানিস্তানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশিকা পরীক্ষায় শীর্ষস্থান অধিকার করতে, তিনি ১.৭ লক্ষ পড়ুয়াদের পিছনে ফেলে শীর্ষস্থান দখল করেন। শামসিয়ার কাহিনী মনে করিয়ে দেয় মালালা ইউসুফজাইয়ের কথা। যিনি মেয়েদের শিক্ষা নিয়ে সরব হওয়ার জন্য তালিবানদের হামলার মুখোমুখি হন

কয়লা শ্রমিকের মেয়ে শামসিয়ার এখন স্বপ্ন চিকিৎসক হওয়ার এবং তাঁর দেশ ও দেশবাসীকে পরিষেবা দেওয়ার। আফগান কিশোরী কখনই ভাবেননি যে তিনি পরীক্ষায় এত ভালো ফল করবেন। শামসিয়া জানিয়েছেন যে তিনি বরং ভেবেছিলেন তাঁর প্রাক্তন সহপাঠি রাহিলা, যে বিস্ফোরণে মারা গিয়েছে সে এই পরীক্ষায় শীর্ষে যেতে পারত।
১৯৯৭ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত সরকারে থাকা তালিবান ইসলামপন্থী জঙ্গি দল মেয়েদের স্কুলে যাওয়া থেকে দূরে রেখে দিয়েছিল। অধিকাংশ মেয়ে পড়ুয়াদের মনে এই ভয় ঢুকে রয়েছে যে তালিবানরা ফিরে আসতে পারে, কিন্তু শামসিয়া নিজের লক্ষ্য অর্জন করতে এই ভয়কে আস্কারা দিতে রাজি নন। রাষ্ট্রপুঞ্জের মতে, আফগানিস্তানের ৩০ শতাংশ মহিলা শিক্ষিত এবং ২২ লক্ষ মহিলা এখনও স্কুলে যায়না। মানুষের মনে এখনও এই আতঙ্ক রয়েছে যে কোনওভাবে যদি তালিবানদের হাতে ফের শাসন চলে আসে তবে তারা মেয়েদের সব অধিকার ফের কেড়ে নিতে পারে। আফগান সরকার বর্তমানে তালিবানদের সঙ্গে শান্তি বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছেন।
উত্তর আফগানিস্তানের কয়লা খনিতে শ্রমিকের কাজ করেন শামসিয়ার বাবা। শুধুমাত্র মেয়ের উন্নততর শিক্ষার জন্য তাঁর বাবা পরিবার নিয়ে রাজধানী কাবুলে চলে আসেন।
শামসিয়ার জেদ তাঁকে দেশের কাছে হিরো করে তুলেছে। এই দেশে শিক্ষা অর্জন করা খুবই কঠিন কাজ এবং যাঁরা এই প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে এটি অর্জন করেন তাঁরা প্রশংসার যোগ্য। তাঁর সাফল্যের খবর চাউর হতেই নানা দিক থেকে প্রশংসা আসতে শুরু করে দেয়। প্রাক্তন আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই শামসিয়াকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এছাড়াও বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি তাঁর এই সাফল্যে খুব খুশি।












Click it and Unblock the Notifications