রুশ–ইউক্রেন যুদ্ধের তৃতীয় দিন, কিয়েভের রাস্তায় সংঘর্ষ, নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আর্জি
রুশ–ইউক্রেন যুদ্ধের তৃতীয় দিন, কিয়েভের রাস্তায় সংঘর্ষ, নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আর্জি
শনিবারই রুশ বাহিনী ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে হামলা চালায় এবং শহরের প্রশাসন বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার জন্য আর্জি জানানোর পরই রাজধানীর রাস্তায় সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। আমেরিকা ইতিমধ্যেই এই দেশের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে রাজধানী থেকে সরে যাওয়ার প্রস্তাব দিলে তিনি তা প্রত্যাখান করেছেন, বরং তিনি জানিয়েছেন যে মাটি কামড়ে থেকে লড়াই করবেন তিনি। প্রেসিডেন্ট বলেন, 'লড়াই এখানে হচ্ছে, তাই সরে যাওয়ার কোনও প্রশ্ন নেই’।

রুশ সেনাদের রাজধানীতে প্রবেশ
কিয়েভে ভোর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেনারা কতদূর অগ্রসর হয়েছিল তা এখনও স্পষ্ট নয়। জানা গিয়েছে, শহরের প্রান্তে ছোট ছোট রাশিয়ান ইউনিটগুলি ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে সরিয়ে প্রধান রুশ বাহিনীর জন্য রাস্তা পরিস্কার করছিল। তিনদিনের কম এই যুদ্ধে রুশ সেনাদের দ্রুত গতিবিধি নিজেদের স্বাধীনতাকে আঁকড়ে থাকা একটি দেশকে আরো বিপর্যস্ত করে তুলেছে। যা গণতান্ত্রিক সরকারের পতন এবং ঠাণ্ডা-যুদ্ধ যা পরবর্তী বিশ্ব ব্যবস্থাকে ধ্বংসের মুখে ফেলতে পারে।

কিয়েভে হামলা
রাজধানী কিয়েভে বহুতলে মিসাইল হামলা। শহর জুড়ে কার্যত ধ্বংসস্তূপ। কিভ বিমানবন্দরের কাছে বড়সড় বিস্ফোরণ। এই বিস্ফোরণে বেশকিছু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর এর ফলে একাধিক মৃত্যুর সাক্ষী হতে হচ্ছে দেশকে। মার্কিন সরকারের বিশ্বাস রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেন সরকারকে ছুঁড়ে ফেলতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং সেখানে তিনি নিজের শাসন কায়েম করতে চান। এই আগ্রাসন ইউরোপের মানচিত্রকে পুনরায় আঁকতে ও মস্কোর ঠাণ্ডা-যুদ্ধ যুগের প্রভাবকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য পুতিনের সাহসী প্রচেষ্টাকে প্রতিনিধিত্ব করছিল। নতুন আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই আগ্রাসনকে শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যদিও তা পুতিনের সরাসরি নিষেধাজ্ঞা ছিল।

অস্ত্র সংবরণের আবেদন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের
বিস্ফোরণ ও গোলাগুলিতে বিপর্যস্ত যখন দেশ, তখন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি অস্ত্র সংবরণের আবেদন করেছিলেন এবং এক বিবৃতিতে সতর্ক করেছিলেন যে একাধিক শহর আক্রমণের শিকার হয়েছে। তিনি বলেন, ‘দেশের ভবিষ্যৎ ভারসাম্যের মধ্যে ঝুলছে।' তিনি বলেন, ‘এই রাতে আমাদের শক্ত হয়ে দাঁড়াতে হবে। ইউক্রেনের ভাগ্য এখনই নির্ধারণ করা হচ্ছে।' প্রসঙ্গত, মার্কিন সরকারের নির্দেশে কিয়েভ থেকে জেলেনস্কিকে সরিয়ে নেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছিল কিন্তু প্রেসিডেন্ট তা প্রত্যাখান করেন। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ এখানে চলছে' এবং তাঁর অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গোলাবারুদ দরকার ছিল, ঘুরতে যেতে তিনি চান না। কিয়েভের প্রশাসন বাসিন্দাদের আর্জি জানিয়েছেন যে সুরক্ষিত আশ্রয়ে চলে যাওয়ার জন্য, জানলা থেকে দূরে থাকুন এবং জ্বলন্ত গোলা বা বুলেট থেকে নিজেদের প্রতিরক্ষা করুন। প্রসঙ্গত, যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে আগেই ইউক্রেন সীমান্তে এয়ারস্পেস বন্ধ করেছে রাশিয়া। ইউক্রেনও তাদের ৩টি বিমানবন্দর বন্ধ করে দিয়েছে। গোটা দেশে জারি হয়েছে জরুরি অবস্থা।

রাশিয়া–ইউক্রেনে ধ্বংসের খতিয়ান
এরই মধ্যে ইউক্রেনে ধ্বংসের খতিয়ান রাশিয়ার। ৮২১টি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা রুশ সেনার। ক্ষতিগ্রস্ত বায়ুসেনা ঘাঁটি থেকে অ্যান্টি এয়ারক্র্যাফট মিসাইল সিস্টেম। ধ্বংস করা হয়েছে ৭টি যুদ্ধবিমান, ৭টি হেলিকপ্টার, ৮৭টি ট্যাঙ্ক ও সাঁজোয়া গাড়ি। ২৮টি মাল্টিপল রকেট লঞ্চার, ১১৮টি ইউক্রেন সেনার গাড়িও ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের। রাশিয়ার শতাধিক সেনা ও সাঁজোয়া গাড়ি ধ্বংস হয়েছে খারকিভে। পাল্টা দাবি ইউক্রেনের। অন্যদিকে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে চলতি যুদ্ধের মধ্যে রাশিয়ার বিরুদ্ধে বড়সড় পদক্ষেপ বুলগেরিয়ার। তারা তাদের আকাশসীমা রাশিয়ার বিমানের জন্য বন্ধ করল।












Click it and Unblock the Notifications