রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের আঁচ ভারতে পড়েনি মোদীর বিচক্ষণতায়, তেল ও ইউরিয়া আমদানিতে বৈপ্লবিক স্ট্র্যাটেজি

Narendra Modi: রাশিয়া-ইউক্রেন দ্বন্দ্ব তথা যুদ্ধের সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়েছে বিশ্ব বাজারে। তেল, ইউরিয়া-সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সংক্রান্ত অর্থনীতির উপর চাপ বাড়ছে।

বিশ্বের এই কঠিন সময়ে অর্থনৈতিক বিচক্ষণতার নিদর্শন রেখে অগ্রণী ভূমিকা নিচ্ছেন নরেন্দ্র মোদী। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে যাতে থাকে, সাধারণ মানুষের উপর আর্থিক বোঝা এসে না পড়ে, তার যথোপযুক্ত বন্দোবস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এই প্রতিবেদনে অর্থনৈতিক ভারসাম্য় বজায়ের সেই বিষয় নিয়েই আলোকপাত করা হচ্ছে।

Narendra Modi -

দ্বন্দ্বের প্রভাব

বিশ্বব্যাপী সমস্যা তৈরি হওয়ায় তেল ও ইউরিয়া আমদানির ক্ষেত্রে ভারতকেও চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে। দুই বছরের বেশি সময় ধরে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে। এই সামগ্রীগুলি রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকেই সরবরাহ করা হয়। ফলে বিশ্বব্যাপী সাপ্লাই চেনে প্রভাব পড়েছে, মূল্যবৃদ্ধিও ঘটছে। এই আবহে তেল ও ইউরিয়ার সরবরাহ সুনিশ্চিত রাখতে ভারতের কূটনৈতিক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তেল আমদানি বৃদ্ধি

ভারতের তেল আমদানির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যানের দিকে নজর রাখা যাক। ভারতে সবচেয়ে বেশি তেল সরবরাহ করে থাকে রাশিয়া। মোট আমদানির ২০ শতাংশের বেশি। রাশিয়া-ইউক্রেন দ্বন্দ্বের পর সেই আমদানির পরিমাণ আগের তুলনায় ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বে সংকটের পরিস্থিতি তৈরি হলেও ভারতে যে তেল সরবরাহ স্থিতিশীল রয়েছে তা ভারতের কূটনৈতিক দৌত্যের ফলেই সুনিশ্চিত হয়েছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান স্পষ্ট বলছে, রাশিয়ার থেকে তেল আমদানি এই সময়কালে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

সার সরবরাহ

এবার নজর রাখা যাক কৃষিক্ষেত্রে অত্যন্ত জরুরি সার আমদানির ক্ষেত্রে। রাশিয়া ও ইউক্রেনের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদী যে সম্পর্ক তৈরি করেছেন তাতে ভারতে সার আমদানির ক্ষেত্রে সাপ্লাই লাইনে দুই দেশের সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। ইউরিয়া আমদানি আগের মতোই চলছে। বিশ্বব্যাপী সাপ্লাই চেন প্রভাবিত হলেও ভারতে সার আমদানি স্বাভাবিকই রয়েছে।

অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও ভর্তুকি

অর্থনৈতিক মুদ্রাস্ফীতির বোঝা যাতে সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের উপর না চাপে, সে কারণে নরেন্দ্র মোদী সরকার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করেছে। ভর্তুকির ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। পাম্পে তেলের দর নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। ইউরিয়ার ক্ষেত্রে ভর্তুকি দেওয়ার ফলে কৃষকদের সার কিনতে গিয়ে আর্থিক প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে না। কঠিন সময়ে কৃষকদের পাশে থাকতে মোদী সরকার ইউরিয়ার ভর্তুকি গত এক বছরে দ্বিগুণ করে দিয়েছে।

অর্থনৈতিক পদক্ষেপ ও চ্যালেঞ্জ

এই ভর্তুকি দিতে গিয়ে অবশ্য সরকারকে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জও সামলাতে হচ্ছে। ভর্তুকির জন্য পর্যাপ্ত তহবিল রাখতে হচ্ছে। কর্মসংস্থান, পরিকাঠামো উন্নয়ন, সমাজ কল্যাণমূলক প্রকল্প থেকে কাটছাঁট করেই এই কঠিন আর্থিক পরিস্থিতি সাফল্যের সঙ্গে সামাল দিচ্ছে মোদী সরকার, মত বিশেষজ্ঞদের। পরিস্থিতিগত সিদ্ধান্ত নিতে সরকারকে বেশ কিছু কঠিন পদক্ষেপও করতে হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের লক্ষ্যে স্বল্পমেয়াদি স্বস্তি সুনিশ্চিতকরণকে আপাতত অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে দেশের নাগরিকদের স্বার্থে। এই ভর্তুকি প্রদানের সিদ্ধান্ত বিকাশের যতই জরুরি নানা ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলুক না কেন।

কূটনৈতিক নানা পদক্ষেপকে কাজে লাগিয়ে তেল ও ইউরিয়ার আমদানি স্বাভাবিক রাখা, আবার সামগ্রিকভাবে আর্থিক বোঝা নাগরিকদের উপর না চাপানো। দুটি বিষয়েই সাফল্য পেয়েছে মোদী সরকার। রাশিয়া ও ইউক্রেনের সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অটুট থাকাতেই এটা সম্ভব হয়েছে। বিশ্বের সমস্যার প্রভাব ভারতের ক্ষেত্রে পড়েনি। সাপ্লাই চেন স্বাভাবিক রয়েছে।

স্বল্পমেয়াদি নানা পদক্ষেপের মাধ্যমে মোদী সরকার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ প্রশস্ত করেছে। তেল ও ইউরিয়ার ক্ষেত্রে ভারত আত্মনির্ভর হওয়ার পথেও অগ্রসর হচ্ছে। বিশ্বের নানা সরবরাহকারীদের উপর নির্ভরশীলতা কমাতে নানা পদক্ষেপ করা হচ্ছে। যাতে পরবর্তীকালে বিশ্বব্যাপী কোনও দ্বন্দ্ব বা সংঘাতের প্রভাব ভারতের উপর না পড়ে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+