তালিবানের বিরুদ্ধে এখনই হাল ছাড়ছে না সালেহ-পন্থীরা। আমরুল্লাহর নেতৃত্বে 'নির্বাসিত সরকার' ঘোষিত
আশরফ গনি প্রশাসনের তরফে এদিন জানানো হয়েছে, 'রিপাবলিক অফ আফগানিস্তান' এর নির্বাসিত সরকারের নেতৃত্বে এখন থেকে থাকছেন আমরুল্লাহ সালেহ। মূলত, গত ২০২১ সালের ১৫ অগাস্ট কাবুল দখল করে বিজয় নিশান রোপণ করে তালিবান। সেই সময় থেকেই কার্যত দেশ ছাড়ার লক্ষ্যে ছিলেন আফগানিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আশরফ গনি। এরপরই তিনি জানিয়ে দেন যে, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে তিনি দেশ ছেড়ে যাচ্ছেন। সেই জায়গা থেকে, অমরুল্লাহ সালেহ তখনই জানিয়ে দেন 'বিনা যুদ্ধে' তিনি দেশের মাটি ছাড়বেন না। আর আশরফ গনি চলে যাওয়ার পর তিনিই ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসাবে দেশের 'কেয়ার টেকার প্রেসিডেন্ট'। এদিন সেই সালেহকেই 'নির্বাসিত সরকারের' নেতা হিসাবে ঘোষণা করেন গনি প্রশাসনের আমলারা।

এদিন সুইৎজারল্যান্ডে আফগানিস্তানের দূতাবাসের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তিতে ইসলামিক রিপাবলিক অফ আফগানিস্তানের তরফে জানানো হয়েছে, আমরুল্লাহ সালেরর নেতৃত্বে আফগানিস্তানের নির্বাসিত সরকার কাজ এগিয়ে নিয়ে যাবে দেশের প্রশাসনের। প্রসঙ্গত, গোটা আফগানিস্তান এখন তালিবানের দখলে। মার্কিন সেনা সেদেশ ছাড়তেই গোটা দেশের দখল নিয়েছে তালিবানরা। গড়ে উঠেছে তালিবানের নেতৃত্বে সেদেশের সরকার। এদিকে, আফগানিস্তানের পঞ্জশিরে সেই সময় তালিবানের বিরুদ্ধে কার্যত প্রতিরোধ গড়ে তুলে সালেহ ও মাসুদ বাহিনী জান প্রাণ দিয়ে লড়াই চালিয়ে গিয়েছে। এদিকে, এই পরিস্থিতিতে আফগানিস্তান ছেড়ে সালেহ তাজিকিস্তানের দিকে চলে গিয়েছেন বলে জানা যায়। অন্যদিকে, এই পরিস্থিতিতে সুইৎজারল্যান্ডে আফগানিস্তানের দূতাবাস থেকে এদিনের এই ঘোষণার পর আফগান রাজনীতি নিয়ে একাধুক জল্পনা তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, জানা যায়, তালিবানরা কাবুল দখল করলে বিনা সংঘাতেই জমি ছেড়ে অন্যত্র চলে যান সেদেশের রাষ্ট্রনেতা আশরফ গনি। জানা যায়, এক হেলিকপ্টারে বহু নগদ অর্থ নিয়ে ও কয়েকটি গাড়ি নিয়ে তিনি দেশ ছাড়েন। তবে তাজিকিস্তানে যে তিনি নেই তা অনেকেই অনুমান করেছেন। এদিকে, আফগানিস্তানের প্রান্ত ঘেঁসে তাজিকিস্তানবে অমরুল্লাহ সালেহ পৌঁছে গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। উল্লেখ্য, পাঞ্জশিরের সীমান্ত দিয়ে তাজিকিস্তানে চলে যাওয়া অনেকচাই সহজ। সেই থেকে বহু বিশেষজ্ঞের মতে সেই দেশেই সম্ভবত তালিবান বিরোধী পঞ্জশিরের এই নেতা গা ঢাকা দিয়েছেন। উল্লেখ্য, খুব অল্প বয়সে সালেহ হারিয়েছেন বাবা মা কে। তালিবানের হাতে বোনকে নিগৃহিত হতে দেখেছেন। তারপরই মাসুদ বাহিনীর সঙ্গে তালিবানের বিরুদ্ধে বন্দুক ধরেছিলেন এই নেতা। সদ্য তালিবানি আক্রমণে তিনি হারিয়েছেন ভাইকে। আর তিনি জানিয়েছেন, শেষ নিঃশ্বাস দিয়ে হলেও তিনি দেশের মাটি আঁকড়ে পড়ে থাকবেন, তবুও তালিবানকে শেষ হাসি হাসতে দেবেন না। তারপরই আসে গনি প্রশাসনের আমলাদের তরফে আজের বার্তা।












Click it and Unblock the Notifications