চিনের সঙ্গে বন্ধুত্বের জেরে গর্দান জেরে পারে ইমরানের! ভারত বিরোধিতার জন্য একঘরে পাকিস্তানও?
পাকিস্তানের উপর ক্রমেই চিনের সঙ্গ ছাড়ার জন্য চাপ বাড়ছে। চিন চিরকালই পাকিস্তানকে নিজেদের পাশে পেয়েছে। বর্তমান লাদাখ উত্তেজনা ও করোনা আবহতেও পাকিস্তান অন্ধ ভাবে বেজিংকে অনুসরণ করছে। তবে এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে বিশ্বের দরবারে খুব শীঘ্রই পাকিস্তানকে নিষিদ্ধ করা হতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আর এই বিষয়ে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে ইসলামাবাদের কপালে।

চিন-পাক বন্ধুত্ব
জানা গিয়েছে এই বিষয়ে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রক ইতিমধ্যেই সেদেশের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে বেজিং থেকে দূরত্ব তৈরি করার পরামর্শ দিয়েছে। পাকিস্তানের আশঙ্কা, গোটা বিশ্ব যখন চিনের উপর খাপ্পা, সেই সময় চিনের সঙ্গ না ছাড়লে খুব শীঘ্রই, আমেরিকা সহ বিশ্বের সব শক্তিশালী দেশ পাকিস্তানকেও একঘরে করে দিতে পারে। ইতিমধ্যেই পাকিস্তানের এয়ারলাইন্সের ইউরোপের মাটিতে অবতরণের অনুমতি কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

চিনকে সাহায্য করতে পাকিস্তানের সেনা তৎপরতা
লাদাখ সীমান্তে চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি ভারত ও চিনের মধ্যে। এরই মধ্যে কাশ্মীর সীমান্তে বারংবার সংঘর্ষ বিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করছে পাকিস্তান। এরই মাঝে কাস্মীরে বেড়েছে জঙ্গি তৎপরতা। আর এরই মাঝে জানা গিয়েছে, গিলগিট-বালতিস্তানে প্রায় ২০ হাজার বাড়তি সেনা পাঠিয়েছে পাকিস্তান। লক্ষ্য, চিনা বাহিনীকে সহায়তা প্রদান করা।

গিলগিট-বাল্টিস্তানে চিনের দাদাগিরি
পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের গিলগিট-বাল্টিস্তান অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা একটু একটু করে পাকিস্তান চিনকে 'দান' করেছে। এই অঞ্চলের এই এলাকাগুলি চিনের হাতে তুলে দেওয়ার মূল লক্ষ্য ছিল চিন-পাকিস্তান ইকনমিক করিডোরের রাস্তা আরও মসৃণ করা। ৩২১৮ কিলোমিটার লম্বা এই করিডোর আদতে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের 'ড্রিম প্রোজেক্ট।' তবে এই প্রোজেক্টের জেরে পাকিস্তানের বালুচিস্তান ও গিলগিট-বাল্টিস্তান প্রদেশের মানুষরা ক্ষুব্ধ পাক সরকার ও চিনের উপর।

পাকিস্তানের এই পদক্ষেপকে ভালো চোখে দেখছে না বিশ্ব
এদিকে পাকিস্তানের এই পদক্ষেপকে ভালো চোখে দেখছে না বিশ্বের তাবড় দেশগুলি। চিনের বিরুদ্ধে আগেই জোট বেঁধেছিল বিশ্বের ৮টি দেশ। বিশ্বের আটটি অন্যতম শক্তিধর দেশের সাংসদদের একটি জোট এই সিদ্ধান্ত নিয়ছে। এই জোটে আমেরিকা, গ্রেট ব্রিটেন, জার্মানি, জাপান ছাড়াও রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, সুইডেন, নরওয়ে ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন সাংসদ।

চিনের বিরুদ্ধে জোট
এই দেশগুলির আইনপ্রণেতারা আলোচনায় বসে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, চিন ক্রমেই বিশ্ব অর্থনীতি ও মানবাধিকারের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এছাড়া বিশ্ব সুরক্ষার ক্ষেত্রেও চিন বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর জেরে চিনকে রুখতে একজোট হতে চলেছে এই দেশগুলি। হংকং ও উইঘুর মুসলিমদের উপর চিনা অত্যাচারও এই ৮টি দেশের জোটের চিন্তার কারণ।

আমেরিকার জি-৭ চাল
এই জোট এমন এক সময়ে তৈরি হল যখন আমেরিকা জি ৭-এর মাধ্যমে চিনকে একঘরে করতে উদ্যত হয়েছে। ভারত, রাশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করে জি ৭-এর আমন্ত্রিত দেশগুলির তালিকা সম্প্রসারণ করতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প। এই কারণে জি ৭-এর সম্মেলন স্থগিত রেখেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই আবহেই মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করে জি ৭ বৈঠকে আমন্ত্রণ জানান ট্রাম্প।












Click it and Unblock the Notifications