নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জে ভবন ধসে-আগুনে একজন নিহত, আটজন আহত
মাত্র ১০ দিন আগে ঢাকায় একটি পুরনো ভবনে বিস্ফোরণ এবং ধসে যাওয়ার ঘটনায় অন্তত ১৯ জন নিহত আর বহু মানুষ আহত হয়েছিল।
নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জে একটি ডালের আড়তে বিস্ফোরণের পর আগুন লাগলে অন্তত সাতজন আহত হয়েছে বলে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে।
শনিবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জের রাজলক্ষ্মী ভাণ্ডার নামের ভবনটি ধসে পড়ে এবং আগুন লেগে যায়।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মোঃ হামিদুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, '’এটি অনেক পুরাতন চুন-সুরকি দিয়ে তৈরি একটি ভবন। এর নীচে গোডাউন আর অফিস আছে। বিস্ফোরণের পর ভবনটি ধসে পড়ার পর আগুন ধরে যায়। বিশেষ করে বিল্ডিংয়ের পেছনের সাইডটা বেশি কলাপস করেছে।'’
তিনি জানান, ফায়ার সার্ভিস নয়জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
হাসপাতালে পাঠানোর পর একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
'’এখন আমরা অনুসন্ধান করছি ভেতরে আর আটকে পড়ে আছে কিনা। তবে ভবনটি খুব ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে, তাই আমাদের সাবধানে কাজ করতে হচ্ছে।'’
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে তারা জানতে পেরেছেন যে, ভবনটির নীচে এবং ভেতরে গ্যাসের পাইপলাইন ছিল। আবার কাছেই থাকা ট্রান্সফর্মার থেকেও আগুন লাগতে পারে। তারা পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছেন।
বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান পাইকারি মার্কেট, নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জে যেখানে আগুনটি লেগেছে, সেটা একটা ডালের আড়ত বলে জানা গেছে।
মাত্র ১০ দিন আগেই সাতই মার্চ ঢাকায় একটি পুরনো ভবনে বিস্ফোরণ এবং ধসে যাওয়ার ঘটনায় অন্তত ১৯ জন নিহত আর বহু মানুষ আহত হয়েছিল।
তার দুইদিন আগে ঢাকার সায়েন্স ল্যাব এলাকায় একটি ভবনে বিস্ফোরণে তিনজন নিহত আর অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছিল।
তারও দুদিন আগে চৌঠা মার্চ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি অক্সিজেন প্ল্যান্টে বিস্ফোরণে অন্তত ছয়জন নিহত হয়।
এসব ঘটনার পর রাজউক একটি বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ঢাকা শহরের ভবনগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা হবে যে এগুলো কতটা নিয়ম মেনে করা হয়েছে বা ভূমিকম্প বা আগুনের ঝুঁকি থেকে এগুলো কতটা নিরাপদ। সেই সঙ্গে এখন থেকে ঢাকায় নতুন ভবন করতে হলে সাধারণ নকশার পাশাপাশি কাঠামোগত নকশাও জমা দিতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুরনো ভবনগুলো ঠিকমতো সংস্কার বা তদারকি করা হয় না বলে সেগুলো ধসে পড়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। এসব ভবনের ভেতরে এক সঙ্গে অনেক এসি ব্যবহার করা হয় নির্ধারিত দূরত্ব না মেনেই। যেগুলোর কোন একটিতে গ্যাস লিকেজ হলে সবগুলোই বিস্ফোরিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
অনেক ক্ষেত্রে রাস্তার পাশের ভবনগুলো পর্যাপ্ত জায়গা না রাখায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির লাইন, যা ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে পুরো ভবনকেই।














Click it and Unblock the Notifications