বাতিল নিম্ন আদালতের রায়! বাংলাদেশে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে খারিজ অধিকাংশ সংরক্ষণ
বাংলাদেশের পরিস্থিতি এখনও অগ্নিগর্ভ। সরকারি চাকরিতে সংরক্ষণ বিরোধী আন্দোলনে এখনও পর্যন্ত ১৩০-এর বেশি মৃত্যু হয়েছে। এদিকে এদিন বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট সরকারি চাকরিতে বেশিরভাগ সংরক্ষণ বাতিল করে দিয়েছে। এব্যাপারে বিক্ষোভকারীদের প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।
প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত এব্যাপারে নিম্ন আদালতের একটি আদেশ খারিজ করে দিয়েছে। যেখাবে সংরক্ষণ পুনর্বহালের কথা বলা হয়েছিল। বাংলা দেশের সর্বোচ্চ আদালত নির্দেশ দিয়েছে, সরকারি চাকরিতে ৯৩ শতাংশ পদ মেধার ভিত্তিতে পূরণ করতে হবে।

২০১৮-তে সংরক্ষণ বাতিল করে সরকার
প্রসঙ্গত, শেখ হাসিনার সরকরা ২০১৮ সালে সংরক্ষণ ব্যবস্থা বাতিল করে দিয়েছিল। কিন্তু নিম্ন আদালতের রায়ে গতমাস থেকে এটি ফের চালু হয়। তারপর থেকে বিক্ষোভ শুরু হয় ভারতের প্রতিবেশী এই রাষ্ট্রে। বিক্ষোভ এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায়, সেখানে সরকারের বিরুদ্ধে দমন-পীড়নের অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি বিরোধীদের বিরুদ্ধেও হিংসা ছড়ানোর অভিযোগ করে শাসকদল।
ঢাকায় কার্ফু, সেনা টহল
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ সরকার শুক্রবার রাত থেকে কার্ফু জারি করে। নামানো হয় সেনা। সুপ্রিম কোর্টে রবিবারের শুনানির কারণে কার্ফুর সময়ও বৃদ্ধি করা হয়। এদিনও ঢাকার রাস্তায় সেনাবাহিনীকে টহল দিতে দেখা গিয়েছে।
বৃহস্পতিবার থেকে বাংলাদেশে ইন্টারনেট এবং টেক্সট বার্তা পরিষেবা স্থগিত রয়েছে। বিভিন্ন সমাবেশের ওপরে নিষেধাজ়্া জারি করা হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস সংগ্রহের জন্য কার্ফুতে দুইঘন্টার জন্য তুলে নেওয়া হলেও, কার্ফু আপাতত অনির্দিষ্টকালের জন্য জারি রয়েছে। প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, কার্ফু অমান্য করলে দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকার আলোচনায় তৈরি
এদিন বাংলাদেশ সরকারের তরফে ফের একবার সংরক্ষণ নিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আইন-বিচার-সংসদ বিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, সরকার সংরক্ষণ নীতি সংস্কারে নীতিগতভাবে সম্মত। সরকার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় তৈরি বলে জানিয়েছেন তিনি।
আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে এবং শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীকে আলোচনার দায়িত্ব দিয়েছেন। আন্দোলনকারীদের সুবিধা মতো সরকার আলোচনায় তৈরি বলে জানিয়েছেন আনিসুল হক। তিনি আন্দোলনকারীদের কাছে, আন্দোলন প্রত্যাহার বা স্থগিত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেনস বাংলাদেশে আইনের শাসন রয়েছে। আদালতের সামনে যে কোনও ইস্যু আনা হোক না কেন, তার বিচার হয়। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংরক্ষণ সংস্কার করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী।
বাংলাদেশে বিক্ষোভ কেন?
বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য ৩০ শতাংশ সংরক্ষণ রয়েছে। এরই প্রতিবাদে ছাত্র আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে।এর মধ্যে সরকারের আবেদনের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টে হাইকোর্টের আদেশের ওপরে স্থগিতাদেশ দিয়ে সরকারের আবেদনের শুনানি করতে সাত অগাস্ট সময় ধার্য করে। এরই মধ্যে অশান্ত পরিবেশ সামাল দিতে সুপ্রিম কোর্টের শুনানি এগিয়ে আনা হয় এবং রবিবার তার রায় বের হয়।
বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও মহিলা ও অনুন্নত জেলাগুলির জন্য সংরক্ষণ রয়েছে। পাঁচ শতাংশ সংরক্ষণ রয়েছে আদিবাসীদের জন্য। এক শতাংশ রয়েছে প্রতিবন্ধীদের জন্য। আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীরা শেষ দুটি ক্ষেত্র বাদ দিয়ে সব সংরক্ষণ বাতিলের দাবি তুলেছে।












Click it and Unblock the Notifications