‘আমরা ভয় পাই না, আমরা যু্দ্ধ করব’, চার সপ্তাহে বিক্ষোভে কেঁপে উঠছে ইরানের মাটি
‘আমরা ভয় পাই না, আমরা যু্দ্ধ করব’, চার সপ্তাহে বিক্ষোভে কেঁপে উঠছে ইরানের মাটি
পোশাক কোড লঙ্ঘন করার জন্য ইরানের কুখ্যাত নৈতিক পুলিশ ২২ বছরের কুর্দিশ তরুণীকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের তিন দিনের মাথায় ইরানি তরুণীর মৃত্যু হয়। এরপরেই ইরানের সাধারণ মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়তে শুরু করে। সারা দেশকে একপ্রকার স্তব্ধ করে ইরানের মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। ইরানের বিক্ষোভ চার সপ্তাহে প্রবেশ করল। বিক্ষোভকে দেশের সরকার কঠোর হাতে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে। কিন্তু কোনও লাভ হয় না। বিক্ষোভের তেজ তত বাড়তে থাকে।

ইরানের পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ
শুক্রবার ইরান পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, আমিনি দীর্ঘ অসুস্থতায় ভুগছিলেন। সেখান থেকেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ইরান পুলিশ বাঁচানোর অনেক চেষ্টা করেছে। ইরান পুলিশের দাবি কার্যত অস্বীকার করেছে আমিনির বাবা। তিনি লন্ডন ভিত্তিক ইরান ইন্টারন্যাশনালকে বলেছেন, আমি নিজের চোখে দেখেছি মহাসা আমিনির ঘাড় ও কানের পিছন থেকে রক্ত বের হচ্ছে।

ইরানের রাষ্ট্রপতির সামনে বিক্ষোভ
ইরানে প্রথমে মহিলারা বিক্ষোভ শুরু করলেও এখন দেশের সর্বস্তরের মানুষ এই বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেছে। স্কুলছাত্রীরা স্লোগান দিতে দিতে রাস্তায় নামতে শুরু করেছেন। ইরানের শ্রমিকরা ধর্মঘটে গিয়েছেন। ইরানের অতি রক্ষণশীল প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসিকেও বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে। নতুন শিক্ষাবর্ষ উপলক্ষ্যে আল জাহারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ফটোগ্রাফের জন্য দাঁড়িয়েছিলেন ইরানি প্রেসিডেন্ট। সেই সময় জাহারা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশ প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নির্যাতকের মৃত্যু হোক বলে ছাত্রীরা স্লোগান দিতে থাকেন।

ভয়াবহ পরিস্থিতি কুর্দিস্তান
বিক্ষোভে সব থেকে ভয়াবহ পরিস্থিতি হয়েছে কুর্দিস্তানে আমিনির শহর সাকেজে। সেখানে স্কুল ছাত্রীরা 'নারী, জীবন, স্বাধীনতা' বলে স্লোগান দিতে থাকে। সম্প্রতি ইন্টারনেটে ইরানের বিক্ষোভের একটি ভয়াবহ ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা গিয়েছে এক ব্যক্তি গাড়ির চাকায় বসে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। ইরানের পুলিশ তাঁকে গুলি করে হত্যা করে। ভিডিও ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পর সমালোচনার মুখে পড়ে কুর্দিস্তানের পুলিশ। ইরানের পুলিশ এই প্রসঙ্গে জানিয়েছে, বিদ্রোহী শক্তিকে দমন করতে গুলি চালানো হয়েছে। এই ঘটনার পরেই কুর্দিস্তানের রাজধানী সানন্দাজে বিক্ষোভ আরও ভয়ঙ্কর আকার নেয়। পুলিশের ওপর বিক্ষুদ্ধ বিদ্রোহীরা ঝাঁপিয়ে পড়ে।

আমরা ভয় পাই না, আমরা যুদ্ধ করব
তেহরানের মোদারেস হাইওয়ের কাছে একটি বড় ব্যানারে লেখা রয়েছে আমরা ভয় পাই না, আমরা যুদ্ধ করব। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা সম্প্রতি একটি ছবি প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা গিয়েছে বিলবোর্ডে লেখা ছিল পুলিশ জনগণের সেবক। বিদ্রোহীরা তা কেটে লিখে দিয়েছেন, পুলিশ জনগণের খুনি। সম্প্রতি ইন্টারনেটে আর ইরানের আর একটি মর্মান্তিক ভিডিও প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখাযাচ্ছে মাশহাদে পুলিশ এক তরুণীকে গুলি করে হত্যা করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই এটিকে নেদা আগা সোলতানের ফুটেজের সঙ্গে তুলনা করেছেন। নেদা আগা সোলতান ২০০৯ সালে একটি বিক্ষোভে পুলিশে গুলিতে মারা যান। এরপরেই তিনি বিরোধীদের প্রতীক হয়ে ওঠেন।












Click it and Unblock the Notifications