চিন যেন আধুনিক যুগের নাৎজি জার্মানি! বেজিংয়ের দখলদারির শিকার ভারত ছাড়াও ১৭টি দেশ
গত ১৫ জুন লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় এক ভয়াবহ সংঘর্ষে ভারতের ২০ জন সৈনিক শহিদ হন। চিনের তরফেও মারা যায় কমপক্ষে ৩৫ জন সেনা। এরপরই শান্তিবার্তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নিরন্তর আলোচনা চললেও উত্তেজনা কমার নাম নেই। তবে শুধু ভারতের লাদাখ নয়। চিনের অনুপ্রবেশের শিকার প্রচুর দেশ। এই তালিকায় ১৮টি দেশ রয়েছে।

করোনা আবহে চিনা আগ্রাসন
প্রসঙ্গত, সারা বিশেব যখন করোনা সংক্রমণে জর্জরিত তখন সীমান্তে উত্তেজনা তৈরিতে ব্যস্ত চিন। তবে শুধু ভারতের লাদাখ নয়, এই সময়ে প্রায় নিয়মিত ভাবে তাইওয়ানের আকাশসীমায় নিজেদের যুদ্ধ বিমান পাঠিয়েছে চিন। এই আবহেই আমেরিকা প্রশান্ত মহাসাগর ও তাইওয়ান প্রণালীতে নিজেদের রণতরী মোতায়েন করেছে।

গালওয়ানে চিনের তৈরি সংকট
১৫ জুন ভারতের সঙ্গে চিনের সীমান্ত বিতর্ক দুই পক্ষের মধ্যে সম্পন্ন একাধিক চুক্তি প্রসঙ্গ সামনে তুলে আনে৷ এই চুক্তিগুলির মূল বক্তব্য, কোনওভাবেই যেন মতপার্থক্যকে বিরোধে পরিণত হতে না দেওয়া হয়৷ যদিও গালওয়ানে চিনের তরফে নতুন সমস্যা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে৷ শুধু ভারতের সীমান্তেই চিন সমস্যা তৈরি করছে তা নয়, সমস্ত প্রতিবেশী দেশের সঙ্গেই বিবাদ করতে দেখা গেছে চিনকে৷

লাদাখ (ভারত)
চিন একটু একটু করে ভারতের ভূখণ্ড দখল করেছে। এই দখলদারি শুরু হয়েছিল ১৯৬২ সালে। আকসাই চিনের ৩৭,২৪৪ বর্গ কিলোমিটার দখল করে চিন। এরপর ইউপিএ জমানায় ২০০৮ সালে ছবি ও প্যাংনাক উপত্যকায় ২৫০ কিলোমিার ঢুকে যায় চিন। ২০১২ সালে কংগ্রেস জমানায় জোরাওয়ার ফোর্ট ধ্বংস করে সেখানে অবজার্ভিং পয়েন্ট বানায় চিন। ২০০৮ সালে ভারত ডুম চেলির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে ভারত।

তাইওয়ান
১৯৪৯ সালে চীনের গৃহযুদ্ধের শেষে তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে চিন। তারা বলে, প্রয়োজন হলে, তাইওয়ানকে জোর করে হলেও চিনের সঙ্গে একীভূত করা হবে। এই আবহে নিয়মিত ভাবে তাইওয়ানের আকাশসীমায় নিজেদের যুদ্ধ বিমান পাঠিয়েছে চিন।

জিনজিয়াং প্রদেশ
বিংশ শতাব্দির শুরুর দিকে উইঘুররা নিজেদের স্বাধীনতা ঘোষণা করে। ১৯৪৯ সালে চিনের সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের কিছুদিন পর চিনের কমিউনিস্ট সরকার উইঘুরদের বৃহত্তর চিনের সাথে যোগ দেয়ার প্রস্তাব জানায়। প্রস্তাব মেনে না নেয়ার পর থেকে শুরু হয় উইঘুর মুসলিমদের উপর নির্যাতন। তাদের ধর্মীয় শিক্ষা নিষিদ্ধ করা হয়। ধর্মীয় প্রার্থনালয় ভেঙে দেওয়া হয়।

তিব্বত
গত ৬ দশক ধরে চিনের দখলে তিব্বত। ১৯৫০ সালে চিন তিব্বত দখল করে। এরপর বিভিন্ন প্রদেশে তিব্বতকে ভেঙে দিয়ে সেখানে শাসন চালাচ্ছে বেজিং।

ভুটান
সোমবারের ঘটনার আগে শেষবার ভারত-ভুটান-তিব্বত সংযোগস্থলে ডোকলামে দখল ও নির্মাণ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে ভারত ও চিনের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল৷ আর সেই পরিস্থিতি স্থায়ী হয়েছিল ৭৩ দিনের জন্য৷ পরে ভারত ও চিনের মধ্যে হওয়া শান্তি চুক্তির জন্য চিন পিছনে সরে আসে৷ কিন্তু একাধিক সূত্রে থেকে খবর, ফের স্বরূপ প্রদর্শন করতে শুরু করে চিন৷ ভুটান-চিন সীমান্তে ভুটানের অন্তর্গত চাষজমিতে ভুটানি রাখালদের চিন সেনা ভয় দেখাচ্ছে বলে জানা যায়৷

দক্ষিণ চিন সমুদ্র
সম্পদ সমৃদ্ধ দক্ষিণ চিন সমুদ্র সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করেছে৷ 'ঐতিহাসিক অধিকারের' উপর ভিত্তি করে দক্ষিণ চিন সমুদ্রের উপর চিনের কর্তৃত্বকে ২০১৬ সালের সালিশির মাধ্যমে প্রত্যাখান করা হয়েছিল৷ কিন্তু তারপরও এই দক্ষিণ চিন সমুদ্রের উপর থেকে নিজেদের নজর সরায়নি চিন৷

বিশ্বের ব্যস্ততম সামুদ্রিক বাণিজ্য রুট
দক্ষিণ চিন সমুদ্র বিশ্বের ব্যস্ততম সামুদ্রিক বাণিজ্য রুট৷ এই পথ দিয়ে বার্ষিক ৩.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হয়৷ যার ফলে শুধুমাত্র ক্ষুদ্র প্রতিবেশী অঞ্চলগুলির উপর নয়, একাধিক দেশগুলির উপরও এই সামুদ্রিক বাণিজ্য রুটের প্রভাব রয়েছে৷

একাধিক অঞ্চল নিয়ে চিনের বিতর্কিত দাবি
এটা ঠিক যে, দক্ষিণ চিন সমুদ্র ও তার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে চিনের সঙ্গে তাইওয়ান, ব্রুনেই, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপিনস ও ভিয়েতনাম -এর দ্বীপ ও সামুদ্রিক ক্ষেত্রে সীমান্ত নিয়ে বিতর্ক রয়েছে৷ দক্ষিণ চিন সমুদ্রের স্পার্টলি দ্বীপগুলি নিয়ে ভিয়েতনাম, ফিলিপিনস, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই ও তাইওয়ানের সঙ্গে চিনের সীমান্ত বিতর্ক রয়েছে৷ ভিয়েতনামের সঙ্গে চিনের দক্ষিণ চিন সমুদ্রের প্যারাসেল দ্বীপগুলি নিয়েও বিতর্ক রয়েছে৷ স্কারবরো শোল নিয়ে ফিলিপিনস এবং গালফ অফ টংকিন নিয়ে ভিয়েতনামের সঙ্গে চিনের বিতর্ক রয়েছে৷ উপরন্তু সমগ্র তাইওয়ান ও তার নিয়ন্ত্রণাধীন দ্বীপগুলিও নিজেদের বলে দাবি করে চিন৷

পূর্ব চিন সমুদ্র
উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সঙ্গে চিনের ইয়েলো সমুদ্র ও পূর্ব চিন সমুদ্রের অর্থনৈতিক জোনগুলি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে ৷ তার উপরে চিন জাপানের সেনকাকু বা ডিয়াওইউ দ্বীপগুলির উপর কর্তৃত্ব দাবি করে৷ এই এলাকার মাধ্যমে আন্তঃঅঞ্চল ও বিশ্ব বাণিজ্য হয়৷ যার ফলে চিনের এই এলাকার উপর কর্তৃত্ব দাবি একাধিক দেশের উপর প্রভাব ফেলতে পারে৷

নেপাল
গত বছর ঠিক যেসময়ে ভারত কর্তৃক জারি করা নতুন মানচিত্রে আপত্তি জানিয়েছিল নেপাল, সেইসময়েই নেপালের সমীক্ষা দপ্তর অভিযোগ জানায় যে, চিন নেপালের উত্তরে হুমলা, রাসুয়া, সিন্ধুপালচৌক ও শঙ্খুওয়াসভা জেলাগুলি দখল করছে৷ এই সমীক্ষার রিপোর্ট ফাঁস হয়ে যাওয়ার পরই নেপালে চিনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হয়৷ কিন্তু চিনের বিশাল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগের জন্য নেপালের কমিউনিস্ট পার্টি চিনের সঙ্গে বিরোধ মেটানোয় গুরুত্ব না দিয়ে ভারতের মানচিত্র প্রসঙ্গে গুরুত্ব আরোপ করে৷ চিন মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা পরিমাপ করারও উদ্যোগ নিয়েছিল৷ আর সেইমতো টেলিকমিউনিকেশনের উপযোগী সামগ্রীও লাগিয়েছিল৷












Click it and Unblock the Notifications