এলাকা দখল করতে গিয়ে ভারতের 'বাজার' হারিয়ে মাথায় হাত জিনপিংয়ের! লাদাখ ইস্যুতে একঘরে চিন
লাদাখে চিন নিজেদের বাহুবল দেখিয়ে ভারতকে কাবু করবে ভেবেছিল। তবে বেজিংয়ের সেই আশায় জল ঢেলেছে ভারতীয় সেনার অদম্য ইচ্ছে। এরই মাঝে আন্তর্জাতিক স্তরে ভারত সমর্থন পেয়েছে চিনের দখলদারি মানসিকতার বিরুদ্ধে। সেই তালিকায় যেমন জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্সের মতো দেশ আছে। তেমনই নিজেদের দ্বন্দ্ব ভুলে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে রাশিয়া ও আমেরিকাও।

চিন নিজেদের সব থেকে বড় বাজার হারিয়েছে
এদিকে এই পরিস্থিতিতে চিন নিজেদের সব থেকে বড় বাজারও হারিয়েছে। চিন থেকে বিদ্যুৎ বন্টণের সামগ্রী আমদানির উপর নিয়ন্ত্রণ এনেছে কেন্দ্র। বিদ্যুৎ খাতে চিন থেকে কোনও সরঞ্জাম আমদানির আগে কেন্দ্রের অনুমতি নিতে হবে এবার থেকে। মূলত চিনা সামগ্রীর উপর নিষেধাজ্ঞা জারির লক্ষ্যেই নতুন এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কেন্দ্রের।

ভারত-চিন সংঘর্ষের পরই চিনের উপর অর্থনৈতিক চাপ
লাদাখে ভারত-চিন সংঘর্ষের পরই চিনকে অর্থনৈতিক দিক থেকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে ভারত৷ অ্যান্টি-ডাম্পিং অ্যাকশনের দিকে তাকিয়ে কমপক্ষে ১০০টি চিনা পণ্য৷ ৫জি বাজারের মতো বড় ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে চিনা সংস্থাগুলির অংশগ্রহণ-সহ ভবিষ্যতে চিনের বিনিয়োগকেও নিষিদ্ধ হতে চলেছে৷

দেশের দুটি বড় প্রোজেক্ট থেকে আগেই বাদ দেওয়া হয় চিনা সংস্থাকে
লাদাখের অশান্ত পিরিস্থিতির মাঝে দেশের দুটি বড় প্রোজেক্ট থেকে আগেই বাদ দেওয়া হয় চিনা সংস্থাকে। অর্থমন্ত্রক ও বাণিজ্যমন্ত্রক উভয়ই চিনা পণ্যের রমরমার উপর পদক্ষেপ করতে শুরু করেছে৷ কারণ তা দেশীয় শিল্পগুলির ক্ষতি করছে৷ চিনের সংস্থার সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে ভারতীয় রেলের ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডর কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া লিমিটেড।

চিনা অ্যাপ নিষিদ্ধ
এরপর লাদাখ নিয়ে চিনের সঙ্গে সংঘাতের মাঝে সোমবার রাতেই টিকটক ও ইউসি ব্রাউজার-সহ ৫৯টি চিনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করেছিল ভারত সরকার। এই মাসের শুরু থেকেই প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছিল৷ ভারত-চিন সংঘর্ষে শহিদ হন ২০ জন ভারতীয় সেনাকর্মী৷ তারপরই আলোচনা চলতে থাকে দুই দেশের মধ্যে৷

আন্তর্জাতিক স্তরেও একঘরে হয়েছে চিন
এদিকে শুধু ভারতীয় বাজার হাতছাড়া হওয়াই নয়, লাদাখের এই পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক স্তরেও একঘরে হয়েছে চিন। করোনা আবহে শি জিনপিংয়ের জাপান সফর বাতিল করেছে টোকিও। প্রাথমিক ভাবে এপ্রিল মাসে সেই সফর হওয়ার কথা থাকলেও করোনার জেরে তা পিছিয়ে গিয়েছিল। তবে পরবর্তীতেও এই সফরের উপর প্রশ্ন চিহ্ন ঝুলিয়ে দিয়ে এবার বড় পদক্ষেপ নেয় জাপান।

জোট বেঁধেছে বিশ্বের ৮টি দেশ
চিনের বিরুদ্ধে আগেই জোট বেঁধেছিল বিশ্বের ৮টি দেশ। বিশ্বের আটটি অন্যতম শক্তিধর দেশের সাংসদদের একটি জোট এই সিদ্ধান্ত নিয়ছে। এই জোটে আমেরিকা, গ্রেট ব্রিটেন, জার্মানি, জাপান ছাড়াও রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, সুইডেন, নরওয়ে ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন সাংসদ।

চিন ক্রমেই বিশ্ব অর্থনীতি ও মানবাধিকারের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে
এই দেশগুলির আইনপ্রণেতারা আলোচনায় বসে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, চিন ক্রমেই বিশ্ব অর্থনীতি ও মানবাধিকারের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এছাড়া বিশ্ব সুরক্ষার ক্ষেত্রেও চিন বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর জেরে চিনকে রুখতে একজোট হতে চলেছে এই দেশগুলি। হংকং ও উইঘুর মুসলিমদের উপর চিনা অত্যাচারও এই ৮টি দেশের জোটের চিন্তার কারণ।

জি ৭-এর সম্মেলন স্থগিত রেখেছিলেন ট্রাম্প
এই জোট এমন এক সময়ে তৈরি হয় যখন আমেরিকা জি ৭-এর মাধ্যমে চিনকে একঘরে করতে উদ্যত হয়েছে। ভারত, রাশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করে জি ৭-এর আমন্ত্রিত দেশগুলির তালিকা সম্প্রসারণ করতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প। এই কারণে জি ৭-এর সম্মেলন স্থগিত রেখেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।












Click it and Unblock the Notifications