ব্রেকিং: দীর্ঘ রোগভোগের পর মৃত্যু, প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, শোকস্তব্ধ বাংলাদেশ
দীর্ঘ লড়াইয়ের অবসান! প্রয়াত হলেন বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর আজ ভোর ৬টা নাগাদ ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে (Evercare Hospita) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। খালেদা জিয়ার মৃত্যু সংবাদের খবর দিয়েছেন তাঁর দল বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (BNP)। জানা গিয়েছে যে, ফজরের নামাজের পরেই তাঁর মৃত্যু হয়।

গত ২৩ নভেম্বর থেকেই খালেদা জিয়া হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। প্রায় ৩৬ দিন ধরে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। হৃদ্যন্ত্র এবং ফুসফুসে সংক্রমণের পাশাপাশি তিনি নিউমোনিয়াতেও ভুগছিলেন। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর লিভার সিরোসিস (liver cirrhosis), ডায়াবেটিস (diabetes), আর্থ্রাইটিস (arthritis), কিডনি (kidney), হৃদ্যন্ত্র এবং চোখের নানা রকমের জটিল সমস্যা ছিল। দেশ ও বিদেশের একাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তাঁর চিকিৎসার দায়িত্বে ছিলেন।
চলতি মাসের শুরুর দিকে তাঁকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু তাঁর শারীরিক অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি।
খালেদা জিয়ার পরিবারে তাঁর বড় ছেলে তারেক রহমান (Tarique Rahman), পুত্রবধূ জুবাইদা রহমান (Zubaida Rahman) এবং নাতনি জাইমা রহমান (Zaima Rahman) রয়েছেন। বড় ছেলে তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরেছেন। খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো (Arafat Rahman Koko) অনেক আগেই প্রয়াত হয়েছেন।
রাজনৈতিক জীবনের সংক্ষিপ্ত ছবি
খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী। তিনি মোট তিন বার দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯১ সালে গণভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর তিনি সংসদীয় গণতন্ত্র চালু করেছিলেন। পাশাপাশি নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাও তাঁর আমলেই চালু হয়েছিল।
১৯৪৫ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের জলপাইগুড়িতে তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন। দেশ ভাগ হওয়ার পর তাঁর পরিবার দিনাজপুরে চলে আসে। তাঁর পড়াশোনা সেখানেই। ১৯৬০ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান (Ziaur Rahman)-কে বিয়ে করেন তিনি।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমান (Ziaur Rahman) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। পরে তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিও হয়েছিলেন। ১৯৮১ সালে তাঁর হত্যার পর বিএনপি বড় সংকটে পড়ে যায়। সেই সময় রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকলেও খালেদা জিয়া দলের হাল ধরেন।
১৯৯০ সালে সামরিক শাসক এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে শেখ হাসিনার সঙ্গে একসাথে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। তবে পরে দু'জনের মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব তীব্র হয়ে যায়।
স্বামীর মৃত্যুর হয়ে যাওয়ার পরে খালেদা নিজেই অবশ্য নিজের পরিচিতি তৈরি করেছিলেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পার্টি (BNP)-র হাল ধরেছিলেন তিনি। ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হন। দুটি দফায় তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। প্রথম বার ১৯৯১-১৯৯৬ পর্যন্ত। দ্বিতীয় ও শেষ বার ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত।
২০০১ সালে তিনি প্রধানমন্ত্রী হলেও তাঁর শাসনামলে জঙ্গিবাদ, সহিংসতা এবং দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। তারপর ২০০৬ সালে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে তাঁর সরকার ক্ষমতা ছাড়ে।
পরবর্তীকালে দুর্নীতির মামলায় জেল এবং গৃহবন্দি থাকেন খালেদা জিয়া। অসুস্থ থাকার কারণে ২০২০ সালে তাঁকে গৃহবন্দি করা হয়। ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর তিনি মুক্তি পান। চলতি বছরে সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে দুর্নীতির মামলা থেকে বেকসুর খালাস দেয়।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনীতির এক দীর্ঘ অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি হল। সমর্থক এবং বিরোধী, সব পক্ষই তাঁকে বাংলাদেশের রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে স্বীকার করে। তাঁর মৃত্যুতে পুরো বাংলাদেশ জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।












Click it and Unblock the Notifications