করোনা মিথ্যাচার, কমিউনিস্ট অত্যাচার! চিনের মুখোশ খুললেন হংকংয়ের নাছোড়বান্দা বিজ্ঞানী
বিশ্ব এমন একটা পরিস্থিতির সামনে দাঁড়িয়ে যেখানে করোনা ভাইরাসের মারণ ছোবলে আক্রান্ত ১ কোটি ২০ লক্ষেরও বেশি মানুষ। এই পরিস্থিতিতে থেকে থেকেই করোনা ছড়ানোর কারিগরের তকমা লাগানো হয়েছে বেজিংয়ের গায়ে। আঙুল উঠেছে শি জিনপিং সরকারের উপর। এহেন পরিস্থিতিতে নিজেদের উপর থেকে এসব অভিযোগ বারবার ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা করলেও তাতে চিন খুব একটা সফল হয়নি।

ফের চিনের বিরুদ্ধে করোনা ছড়ানোর দায়
আর এরই মধ্যে নতুন করে চিনের বিরুদ্ধে করোনা ছড়ানোর দায় লাগল। এবার সেই অভিযোগ বাণ অবশ্য এসেছে এক হংকংয়ের ভাইরলজিস্টের কাছ থেকে। হংকং থেকে সদ্য আমেরিকা পালিয়ে আসা সেই ভাইরলজিস্টের অভিযোগ, চিন সবই জানত, এবং অনেক আগেই জানত। তবে বিষয়টাকে ধামাচাপা দিতে সরকারের উচ্চতম পর্যায়ের হাত ছিল।

চিন করোনা সংক্রান্ত দায়িত্ব থেকে নিজের ইচ্ছায় পালিয়েছে
অভিযোগকারী বিজ্ঞানী, লি মেং ইয়্যান মার্কিন সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, 'এই ভাইরাসের অস্তিত্বের বিষয়ে বিশ্বকে জানাতে চিন বাধ্য ছিল। তারা যেভাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে যুক্ত, তাতে আরও বেশি দায়িত্ব ছিল ওদের উপর। তবে তারা সেই দায়িত্ব থেকে নিজের ইচ্ছায় পালিয়েছে।'

করোনা বিষয়ক খোঁজকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য
লি মেং ইয়্যান নিজে হংকংয়ের পাবলিক হেল্থ স্কুল থেকে ভাইরলজি ও ইমিউনোলজিতে পড়াশওনা করেছেন। ইয়্যানের অভিযোগ, করোনা মহামারী যখন ছড়াতে শুরু করে, তখন তিনি গুরুত্বপূর্ণ কিছু আবিস্কারের পথে এগোচ্ছিলেন। তবে তাঁর উর্ধ্বে থাকা বিজ্ঞানীরা তাঁর এই খোঁজকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করেন।

করোনা নিয়ে গবেষণায় প্রথম সারিতে ছিলেন ইয়্যান
ইয়্যানের দাবি, বিশ্বে করোনা নিয়ে চর্চা করা প্রথম কয়েকজন বিজ্ঞানীদের মধ্যে তিনি অন্যতম। গত বছর ডিসেম্বরেই চিন থেকে ছড়িয়ে পড়া এই মারণ সংক্রামক জীবাণুর নমুনা হংকংয়ে নিয়ে আসা হয়, এবং সেই ভাইরাস নিয়ে গবেষণা করে ইয়্যানের দল। সেই সময় করোনা নিয়ে কোনও বিদেশি বিজ্ঞানীকেই চিনে গিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে বাধা দেওয়া হচ্ছিল চিনের তরফে।

করোনা নিয়ে চুপ চিনা বিজ্ঞানীরা
ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার প্রথম পর্বে চিনা বিজ্ঞানীরা এই বিষয়ে অনেক আলোচনা করলেও এই মহামারী যত প্রকোপ ছড়ায় তত শান্ত হয়ে পড়েন চিনা বিজ্ঞানীরা। এমনই অভিযোগ ইয়্যানের। এই বিষয়ে কোনও রকম আলোচনা না করার জন্য বার্তা দেন বাকি সহকর্মীদের। তাঁদের মুখে তখন শুধু একটাই কথা, এটা নিয়ে কথা বলা যাবে না, তবে মুখে সবসময় মাস্ক পরে থাকতে হবে।

হংকংয়ের জাতীয় নিরাপত্তার আইন
এদিকে হংকংয়ে ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়েছে জাতীয় নিরাপত্তার আইন। এর জেরে সরকারবিরোধী যেকোনও কথা এখন সেখানে অবৈধ বলে গণ্য হবে। এ আইন যে শুধু চিনা নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য, তা নয়। আইনের ৩৮ ধারায় বলা হয়েছে, এখন থেকে চিনের সমালোচনাকারী বিশ্বের যেকোনও দেশের নাগরিক হংকংয়ে ঢোকামাত্র গ্রেপ্তারের মুখে পড়বে। এই পরিস্থিতিতে নিজের দেশ হংকং ছেড়ে আমেরিকা পালাতে বাধ্য হয়েছেন ইয়্যান।












Click it and Unblock the Notifications