সরকার ফেলতে বিদেশি ষড়যন্ত্রের প্রমাণ দিন,' কেন ইমরানদের মুখ পুড়ল পাকিস্তানের সুপ্রিমকোর্টে?
পাকিস্তানের আগামী রাজনীতি কোনদিকে মোড় নিতে চলেছে তা এখন অনেকাংশেই নির্ভর করছিল সেদেশের সুপ্রিম কোর্টের উপর। শেষ কয়েকদিনের নাটকীয় টানপোড়েনের পর পাকিস্তানের সুপ্রিমকোর্টে রয়েছে পাকিস্তানের সরকার গঠনের বিষয়টি ছিল। এবং ইমরান বিরোধীদের আবেদনে সাড়া দিয়ে আস্থা ভোট বাতিলকে অসাংবিধানিক বলে রায় দিয়েছে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট। তবে এই মামলায় শুনানি করতে গিয়ে বৃহস্পতিবার পাক-সুপ্রিমকোর্ট ইমরান সরকারের কাছে জানতে চায়, সরকার ফেলে দেওয়ার পেছনে যে বিদেশি ষড়যন্ত্রের কথা তাঁর বলছেন তার কি নির্দিষ্ট কোনও প্রমাণ রয়েছে?'

কয়েকদিন আগেই পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের ডেপুটি স্পিকার 'ইমরানের বিরুদ্ধে বিরোধীদের আনা অনসাস্থা প্রস্তাব'-কে অসাংবিধানিক বলে বাতিল করে দেয়। এবং বিতর্কিত রায়ের পরই দেশটির রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙে দেন৷ পাকিস্তানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ঘোষণা করেন তাঁরা তিন মাসের মধ্যে দেশে আরও একটি সাধারণ নির্বাচন করতে চলেছেন৷ এরপরই ইমরান বিরোধীরা পুরো বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল৷ পাকিস্তানের সুপ্রিমকোর্ট বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে বিরোধীদের আনা অনাস্থা ভোট বরখাস্তের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ শুনানি পুনরায় শুরু করে। এবং শুনানির প্রথম দিনেই ইমরান খান সরকারের পতনে বিদেশি ষড়যন্ত্রের দাবি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রমাণ চায় শীর্ষ আদালত।
একইসঙ্গে খান সরকারের কাছে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের বিবরণও চায় পাক-সুপ্রিম কোর্ট। তখনই বোঝা গিয়েছিল, অনাস্থা প্রস্তাব খারিজ ও সংসদ ভেঙে দেওয়ার বিষয়ে আজ বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ আদালত। এমনটাই আশা করছিলেন বিরোধীরাও৷ এই শুনানির জন্য বিচারপতি ইজাজুল আহসান, মোহাম্মদ আলী মাজহার, মুনিব আখতার এবং জামাল খান মন্দোখাইলের সমন্বয়ে গঠিত পাঁচ সদস্যের বেঞ্চের নেতৃত্বে ছিলেন প্রধান বিচারপতি উমর আতা বন্দিয়াল আওয়ান।
প্রসঙ্গত পাকিস্তানের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির ডেপুটি স্পিকার কাসিম খান সুরি গত রবিবার রায় দেন যে ইমরান খান সরকারের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবটি সরকার পতনে বিদেশি ষড়যন্ত্র এর সঙ্গে যুক্ত তাই এটি সমর্থনযোগ্য নয়। এর কিছুক্ষণ পরই প্রধানমন্ত্রী খানের পরামর্শে রাষ্ট্রপতি আরিফ আলভি পাক-জাতীয় পরিষদ ভেঙে দেন। দ্রুত সুপ্রিম কোর্টের শুনানি শেষ করে ডেপুটি স্পিকারের রায়ের ভাগ্য নির্ধারণ, বিধানসভা ভেঙে দেওয়াসহ পরবর্তী ঘটনাবলী নির্ধারণের জন্য পাকিস্তানের সর্বোচ্চ আদালতের উপর চাপ ছিল। দেশটির ডেপুটি স্পিকার কাসিম সুরির কৌঁসুলি নাঈম বোখারি এবং সরকারের অ্যাটর্নি জেনারেল খালেদ জাভেদ খান বৃহস্পতিবার মামলায় তাদের মতামত উপস্থাপন করেন। বুধবার শুনানির সময় পাকিস্থানের প্রধান বিচারপতি বারবার আইনজীবীদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন যে বেঞ্চ এ বিষয়ে দ্রুত আদেশ জারি করতে চাই তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আইনজীবীদের যুক্তি শেষ করতে হবে৷












Click it and Unblock the Notifications