এডিটার'স মেইলবক্স: পরীমনির ❤❤❤, গুম যন্ত্রণা আর আফগানিস্তান নিয়ে প্রশ্ন
কয়েক দিন আগে পালিত হল আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস, যে দিনটি বাংলাদেশের শত শত পরিবারের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। প্রতি বছর এই সময়ে গুম হয়ে যাওয়া মানুষের পরিবার জনসমক্ষে তাদের কথা বলেন, তাদের নিখোঁজ প্রিয়জনদের উদ্ধারের জন্য আবেদন জানান।
সে বিষয়ে একটি চিঠি দিয়ে আজ শুরু করছি, লিখেছেন ঝিনাইদহ থেকে কাজী সাঈদ:
''গুম হওয়া মানুষগুলোকে নিয়ে বিবিসি বাংলার ভিডিও প্রতিবেদনটি হৃদয় নাড়া দেওয়ার মত। সংসারের একমাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তি যিনি কারো স্বামী, কারো সন্তান, আর কারো বাবা। এই মানুষটাকে হারিয়ে একটা পরিবারের কতগুলো মানুষ দুর্বিষহ যন্ত্রণা ভোগ করেন, সেটা শুধুমাত্র তারাই বলতে পারবেন যারা এই অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।
''আরো কষ্টদায়ক হল আর্থিক ব্যাপারটি নিয়ে। পরিবারের মানুষগুলো নিখোঁজ ব্যক্তির সারা জীবনের আয় করা টাকা পাচ্ছেন না কারণ তার ডেথ সার্টিফিকেট নেই। এটা কি আরো যন্ত্রণার নয়? তাছাড়া একটা মানুষ হারিয়ে যাওয়া মানেই তো মারা যাওয়া নয়। তাহলে এক্ষেত্রে কোন সমাধান থাকা উচিত নয় কি?''
সব দিক থেকেই বিষয়টি দুর্বিষহ মিঃ সাঈদ। একজন ব্যক্তিকে অপহরণ করে তার স্বাধীনতা, তার জীবনের অধিকার লঙ্ঘন করা শুধু বেআইনি কাজই নয়, নাগরিক হিসেবে তার মর্যাদা এবং অধিকারের চরম লঙ্ঘন।
কিন্তু তার প্রতিকারের কোন রাস্তা দেখা যাচ্ছে না। অভিযোগের আঙুল তোলা হচ্ছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে, কিন্তু কর্তৃপক্ষ নির্বিকার, যেন বাংলাদেশে গুম বলে কোন ঘটনাই ঘটছে না।
আর্থিক ব্যাপারটা এখন আলোচনায় সামনে এসেছে, কারণ হয়তো পরিবারগুলো তাদের প্রিয়জনদের ফিরে পাবার আশা ছেড়ে দিয়েছে, কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাদের মৃত ঘোষণা করতেও নারাজ। ভুক্তভোগী এই পরিবারগুলো সত্যিই দুর্বিষহ এক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:
'গুমকে ভয়ের পরিবেশ তৈরিতে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে'
গুম হয়ে যাওয়া মানুষদের খুঁজে বের করতে এক নারীর আন্দোলন
নিখোঁজ থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিদের সবই থাকে অজানা
বিরোধীদের কণ্ঠরোধ গুমের লক্ষ্য?
পরের চিঠি লিখেছেন চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থেকে মোহাম্মদ রেজাউল রহিম:
''বাংলাদেশে বিরোধী দলের নেতা-কর্মী, ভিন্নমতপোষণকারী ও গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের উদ্দেশ্যে গুমের মাধ্যমে এক ধরনের ভয়ের সংস্কৃতির বিস্তার ঘটেছে। অবাধ বিচারহীনতার সংস্কৃতি গুমকে উৎসাহিত করছে। তাছাড়া, বাংলাদেশে গুমের একটি মামলারও বিচার হয়নি কেন, তা একটি বড় প্রশ্ন।
''বিচারহীনতার সংস্কৃতি আর কতদিন চলবে? গুমের এই চর্চা বাংলাদেশে বন্ধ করতে হলে ঘটনাগুলোর তদন্ত করে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের জবাবদিহিতা নিশ্চিতের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করি।''
আপনি ঠিকই বলেছেন মিঃ রহিম, যে কোন অপরাধ প্রতিরোধ করতে হলে আইন প্রয়োগ করা ছাড়া আর কোন রাস্তা নেই। কিন্তু গুমের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি বেশ জটিল হয়ে গেছে। যেখানে কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে নিতেই নারাজ, সেখানে বিচার করবে কে? কার বিচার হবে? এই ভীতিকর পরিস্থিতি থেকে বের হতে হলে সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে।
তবে সাধারণ মানুষ যদি প্রতিবাদ অব্যাহত রাখে, এবং সেখানে সুশীল সমাজ আর মিডিয়া সর্বাত্মক সমর্থন দেয়, তাহলে হয়তো গুমের ঘটনা কমে আসতে থাকবে।
পরীমনি আর Bitch বিতর্ক
এবারে আসি চিত্রনায়িকা পরীমনি প্রসঙ্গে, যিনি দু'দিন আগে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
মুক্তি পাবার পর তার হাতে লেখা এক বার্তা নিয়ে চলছে বিস্তর আলোচনা। সে বিষয়ে লিখেছেন ঢাকার লক্ষ্মীবাজার থেকে জহিন মুমতাহিনাহ:
''চিত্রনায়িকা পরীমনি পহেলা সেপ্টেম্বর কাশিমপুর কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তার হাতে লেখা Don't ❤❤❤ Me Bitch বাক্য সামাজিক মাধ্যমে রীতিমত আলোচনার ঝড় তুলেছে। প্রতিবাদের ভাষা বিভিন্ন ধরনের হতে পারে, তবে যাকে বা যাদেরকে উদ্দেশ্য করেই এ প্রতিবাদ করুক না কেন, এ সত্যিই অভিনব, অভূতপূর্ব এবং এটা অনেক নারীকেই এ ধরনের প্রতিবাদ করার শক্তি ও সাহস যোগাবে।
''কেউই ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়, পরীমনিরও ভুল হতে পারে কিন্তু নারী হিসেবে তার সাথে যে নিগ্রহ ও হয়রানি করা হয়েছে, তার প্রতিবাদে তার হাতে লেখা বার্তাটি যথার্থ।''
আমারও তাই মনে হয় জহিন মুমতাহিনাহ, পরীমনি ঐ একটি ব্যঙ্গাত্মক বাক্যর মাধ্যমে অনেক লোককেই বুঝিয়ে দিয়েছেন তাদের আসল চেহারা তিনি চিনে ফেলেছেন। তিনি আরো বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি এত সহজে মাথা নোয়াবার পাত্রী নন।
বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:
জেল থেকে বেরিয়ে পরীমনির 'বিচ' বার্তা নিয়ে তোলপাড়
সামাজিক মাধ্যমে নারীকে দোষারোপ কেন, সমাধান কী?
পুলিশ রিমান্ড-এ কী হয়?
কিন্তু ছাড়া পাবার পর পরীমনির উৎফুল্ল ভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলে লিখেছেন নীলফামারীর সৈয়দপুর থেকে মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান চৌধুরী :
''আমরা সকলেই জানি রিমান্ড নাকি একটা ভীতিকর জায়গা। সেখানে একজন নায়িকা জামিন এ বের হয়ে হাসি খুশি ভাবে, হাতে মেহেদি দিয়ে সাদা গাড়িতে মহড়া দিচ্ছে। তাহলে রিমান্ডে বুঝি অতিথি আপ্যায়ন হয়?''
আপনার কি আসলেই তাই মনে হয় মিঃ চৌধুরী? আমার মনে হয়, যারা পুলিশ রিমান্ডে একটি দিনও কাটিয়েছে, তারা আপনার বক্তব্যর ঘোরতর বিরোধিতা করবে।
আমার মনে আছে, বাংলাদেশ সরকারের প্রাক্তন একজন সচিব, মোহাম্মদ আসাফউদ্দৌলা বিবিসির এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, তিনি ম্যাজিস্ট্রেট থাকার সময়ে একজন আসামীকেও পুলিশ রিমান্ডে পাঠাননি, কারণ তিনি জানেন পুলিশ কাওকে রসগোল্লা খাওয়ানোর জন্য রিমান্ডে নেয় না।
তবে এটাও মনে রাখা দরকার, পরীমনি সরাসরি পুলিশ রিমান্ড থেকে বের হন নি, তিনি রিমান্ডের পর কয়েকদিন কারাগারে বন্দি ছিলেন। তাছাড়া, আমার মনে হয় পরীমনি মানসিক ভাবে অত্যন্ত শক্ত এবং তিনি নিজেকে একজন অসহায় ভিকটিম হিসেবে দেখাতে চান না।
খালি মদের বোতল কার?
পরের চিঠিও পরীমনিকে ঘিরে একটি প্রসঙ্গ নিয়ে, লিখেছেন ঝালকাঠির তালগাছিয়া থেকে শহীদুল ইসলাম:
''গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরীমনির বাসায় যখন তল্লাসি চালানো হয় তখন তার বাসায় মদের খালি বোতল পাওয়া যায়। তাদের অভিযোগ, তার বাসায় বিপুল পরিমাণ অবৈধ মাদকদ্রব্য ছিলো, এবং ওই সময় পরীমনি আধা ঘণ্টা দরজা খোলেননি এবং তিনি নাকি মদের বোতলগুলি সব খালি করেছেন।
''খালি পেয়েও যদি তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়, আমার প্রশ্ন ঢাকার রাস্তার ফুটপাতে অনেক সময় খালি বোতল বিক্রি করতে দেখা যায়, তাহলে তাদের কি হবে? এর দায় কার?''
ভাল প্রশ্ন করেছেন মিঃ ইসলাম। তবে রাস্তায় পাওয়া খালি বোতলের জন্য তো নির্দিষ্ট কাওকে দায়ী করা যায় না। আর ফুটপাতের বিক্রেতা তো কুড়িয়ে পাওয়া বোতলই বিক্রি করে, সেগুলোর জন্যও তো তাকে দায়ী করা যায় না। আমার মনে হয় এখানে আইনটিই হচ্ছে সমস্যা।
এই আইনটির আসলেই কোন কার্যকারিতা আছে বলে মনে হয় না, যেহেতু বাংলাদেশে বিভিন্ন পর্যায়ে মদ বেচা-কেনা এবং খাবার অনেক বৈধ পথ আছে। মদকে কোন ভাবেই নিষিদ্ধ দ্রব্য বলা যায় না। কিন্তু কাওকে হেনস্তা করতে হলে এই আইন নির্দ্বিধায় ব্যবহার করা হয়। এই আইন একটি অস্ত্রে পরিণত হয়েছে।
তালেবান সরকার কবে হবে?
এবারে যাই আফগানিস্তান প্রসঙ্গে। যারা মার্কিন বাহিনীর সাথে সহযোগিতা করেছিলেন কিন্তু এখন দেশের ভেতরে আটকে গেছেন, তাদের কী হবে? এ বিষয়ে লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:
''বিবিসির একটি প্রতিবেদনে দেখলাম আমেরিকা আফগানিস্তান থেকে কূটনৈতিক মিশন স্থগিত করে কাতারের দোহায় স্থানান্তর করেছে। যদি তাই হয় তবে যেসব আমেরিকান ও তাদের সাহায্যকারী যারা এখনও আফগানিস্তান ত্যাগ করতে পারেনি, তাদের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সহযোগিতা আমেরিকা কিভাবে প্রদান করবে?
''আরেকটি প্রশ্ন তালেবান ১৫ আগস্ট কাবুল দখল করেছে, ইতোমধ্যে দুই সপ্তাহ অতিক্রান্ত হয়েছে, তবে তাদের সরকার গঠনে এত বিলম্বের কারণ কী?''
তালেবান যখন প্রথমবার ক্ষমতায় এসেছিল তখন দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তি বলতে কিছু ছিল না মিঃ রহমান। কারণ কম্যুনিস্টরা ১৯৯২ সালে মুজাহিদিন বাহিনীর হাতে পরাজিত হয়েছিল, আর পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে তালেবানের হাতে মুজাহিদ গ্রুপগুলোও পরাজিত হয়। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন।
গত কুড়ি বছরে আফগানিস্তানে একটি নতুন মধ্যবিত্ত গড়ে উঠেছে, বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল সৃষ্টি হয়েছে। হামিদ কারজাই বা আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহর মত নেতারা আছেন যারা দেশ ছেড়ে যান নি। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে তালেবান সব কিছু বিবেচনা করে একটি সরকার গঠন করবে যার আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা থাকবে।
আর আমেরিকানরা বেশ কিছু দিন ধরেই তালেবানের সহযোগিতায় তাদের মিত্রদের বের করে নিয়ে যাচ্ছে। যারা রয়ে গেছে তাদেরও সেভাবে নিয়ে যাবে বলেই মনে হচ্ছে।
বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:
আফগানিস্তানে তালেবান কী ধরনের সরকার গঠন করতে যাচ্ছে
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আধিপত্য বিস্তারের দিন কি শেষ হয়ে আসছে
তালেবানের আফগান জয়ে বাংলাদেশে ধর্মীয় উগ্রবাদ নিয়ে কেন নতুন শঙ্কা?
আফগান নারীরা ভালই থাকবেন?
বিশ্বে অনেকেই আশঙ্কা করছেন, তালেবানের অধীনে আফগানিস্তানের নারী সমাজ ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। গত কুড়ি বছরে যেসব অধিকার তারা অর্জন করেছে, সেগুলো হুমকির মুখে পড়বে। কিন্তু এই ভাবনার সাথে দ্বিমত পোষণ করে লিখছেন সাতক্ষীরার টেকাকাশিপুর থেকে মুঈন হুসাইন:
''তালেবান ক্ষমতায় এসেছে বলে মেয়েরা অত্যন্ত নিরাপদেই সেখানে বসবাস করতে পারবে। কারণ, তালেবান নারীদের নিরাপত্তা দিয়ে আসছে সব সময়ই। তাঁরা নারীদের বোরকা পরতে বলে। যা খুবই সুন্দর নিয়ম। নারীরা অশ্লীল ও অর্ধনগ্ন পোশাকে থাকবে, সেটা কোন সুস্থ মাথার বা বিবেকবান মানুষ চাইবে না, মানবেও না।
''অভদ্র পরিবারের মেয়েরাই শুধু অসভ্য ভাবে চলাফেরা করে থাকে। সুতরাং, তালেবান এখনোও সঠিক পথেই আছে। এদের আমলে মেয়েরা অত্যধিক সুন্দর পরিবেশে থাকতে পারবে।''
সবাই আশা করছে নতুন আফগানিস্তানে নারীরা নিরাপদে, সসম্মানে জীবন যাপন করতে পারবে মিঃ হুসাইন। কিন্তু আপনি যেটা বলছেন, তালেবান নারীদের বোরকা পরতে বলে, অর্থাৎ এখানে নারীদের পোশাক-আশাক কী হবে, সেটা ঠিক করে দিবে পুরুষ। যারা সেটা মানতে চাইবে না, তাদের কি সেই স্বাধীনতা থাকবে?
আর পড়া-শোনা করার, অবাধে চাকরি-বাকরি করার যে অধিকার তাদের বর্তমানে আছে, সেটা কি আগামী দিনগুলোতে বহাল থাকবে? যদি থাকে, তাহলে দুশ্চিন্তার কারণ অনেক কমে যাবে।
শহীদ আফ্রিদি কি ঠিক বলেছেন?
সম্প্রতি তালেবান সম্পর্কে ইতিবাচক মন্তব্য করায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেট তারকা শহীদ আফ্রিদি। সে বিষয়ে লিখেছেন ভোলার চর ফ্যাশন থেকে মুহাম্মদ মাসুদুল হক মাশুক:
''শহীদ আফ্রিদির বক্তব্য নিয়ে ভারতীয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে ট্রল করা হচ্ছে তা যথার্থ নয় বলে আমার মনে হয়েছে। তালেবান সম্পর্কে শহীদ আফ্রিদি যে ইতিবাচক ধারণা পোষণ করেছেন, তা আমার মতো অনেকের কাছেই যথাযথ ও বস্তুনিষ্ঠ মনে হয়েছে।
''নব্বই দশকের তালেবান আর বর্তমান তালেবানের মধ্যে একটা তুলনামূলক পার্থক্য ইতোমধ্যে তাদের বক্তব্য, দৃষ্টিভঙ্গি ও কর্মকাণ্ডে দেখা গেছে। তবে এ কথা সত্য, ভারতীয়রা এমনিতেই তালেবান সম্পর্কে নেতিবাচক, আবার পাকিস্তানিরা ইতিবাচক ধারণা পোষণ করে।
''তাছাড়া, কারও সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে হলে কিছু সময় প্রয়োজন হয়, তাদের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করতে হয় এবং বিবিসি উর্দুকে দেওয়া শহীদ আফ্রিদির বক্তব্যে সেটাই প্রতিফলিত হয়েছে।''
আজকের তালেবানের সাথে দু'দশক আগের তালেবানের যে অনেক পার্থক্য আছে, তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই মিঃ হক। তবে আপাতত আমরা পার্থক্যটা দেখছি সংগঠনের কথা-বার্তায়। কিন্তু ক্ষমতা প্রয়োগের সময় তাদের দৃষ্টিভঙ্গি কী হবে, বিশেষ করে যারা উদারপন্থী নীতিতে বিশ্বাস করেন তাদের প্রতি, সেটাই বলে দেবে শহীদ আফ্রিদির আশাবাদ যথার্থ কি না।
তামিম ইকবাল কি ঠিক কাজ করেছেন?
ভিন্ন কারণে আরেকজন ক্রিকেটার খবরে এসেছেন, আর তিনি হলেন বাংলাদেশের তারকা তামিম ইকবাল। কয়েকদিন আগে এই ওপেনিং ব্যাটসম্যান ঘোষণা দিয়েছেন তিনি আসন্ন আইসিসি পুরুষদের টি-টোয়েন্টি ওয়ার্ল্ড কাপ প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করবেন না।
সে বিষয়ে লিখেছেন ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাসুম বিল্লাহ:
''তামিম ইকবালের বিশ্বকাপ-এ না খেলার বিষয়টি, তার ভক্তদের কাছে বজ্রাঘাত বলে মনে হচ্ছে। তার ইনজুরি আছে সেটা আমরা জানি। তবে এখানে তার ইনজুরি কোন কারণ নয়, তিনি নাকি তার জুনিয়র ক্রিকেটারদের জন্য তার স্থানটি ছেড়ে দিচ্ছেন।
''আসলে আমরা জানি বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে কতটা দুর্বল। তামিম ছাড়া আর কেউই তেমন রান করতে পারে না এই ফরম্যাটে। তার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা উচিত।''
এক দিকে আপনি ঠিকই বলেছেন মিঃ বিল্লাহ। তামিম ইকবাল একজন বিশ্বমানের ব্যাটসম্যান এবং তিনি বিশ্বকাপে না খেললে বাংলাদেশের বড় রকমের ক্ষতি হবার সম্ভাবনা আছে।
কিন্তু তামিম ইকবাল যুক্তি দিয়েছেন, তিনি সম্প্রতি ১৫-১৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে খেলেন নি, ফলে অন্যরা যারা খেলেছে তাদের প্রস্তুতি তার চেয়ে ভাল হয়েছে। এই যুক্তি ফেলে দেবার মত না। তামিম ইকবাল অন্যদের জন্য বিরাট একটি সুযোগ সৃষ্টি করছেন। সেটা নিশ্চয়ই প্রশংসনীয়?
তাসনুভা শিশির কি হিজড়া না রূপান্তরিত?
এবারে আমাদের অনুষ্ঠানে পুরনো একটি শব্দ ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলে লিখেছেন বগুড়ার শেরপুর থেকে সম্পদ কুমার পোদ্দার বলরাম:
''গত মাসের ৩১ তারিখ পরিক্রমা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রথম ট্রান্সজেন্ডার টিভি সংবাদ পাঠিকা তাসনুভা শিশিরের বেশ খোলামেলা কথাবার্তা আমার খুব ভালো লেগেছে।
''সাক্ষাৎকারটি শুনে মনে হলো তিনি আসলে হিজড়া নন, রূপান্তরিত নারী বা ট্রান্সজেন্ডার। কিন্তু উপস্থাপক তাঁর পরিচয় দিতে গিয়ে বললেন, আজকের অতিথি ১ম হিজড়া সংবাদ পাঠিকা তাসনুভা শিশির। তবে এটা কি অনিচ্ছাকৃত ভুল?''
হ্যাঁ, আপনি ঠিকই বলেছেন মিঃ পোদ্দার। এখানে সম্ভবত রূপান্তরিত নারী বললেই সঠিক হত।
তবে হিজড়া শব্দটি আমরা ভুল করে ব্যবহার করি নি। ইংরেজি শব্দ ট্রান্সজেন্ডার সাম্প্রতিক সময়ে প্রচলিত হয়েছে, কিন্তু হিজড়া শব্দটি শুধু বাংলাদেশে নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়া উপমহাদেশে বহু বছর ধরেই প্রচলিত।
অনেক হিজড়া, যারা নিজেদের নারী হিসেবে চিহ্নিত করেন, তারাও নিজেদের নামে হিজড়া শব্দটি ব্যবহার করেন। তবে তারা যেহেতু এখন তৃতীয় লিঙ্গ বলে স্বীকৃতি পেয়েছে, তাই সেই পরিচয় ব্যবহার করা ঠিক হতে পারে।
'জোর করে' নারীদের আনা হয়?
সব শেষে বিবিসি বাংলার অনুষ্ঠানে নারীদের স্থান নিয়ে লিখে ঝামেলায় পড়েছেন বলে জানিয়েছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:
''বিবিসি বাংলায় নারী শ্রোতাদের অংশ গ্রহণের বিষয়ে প্রীতিভাজনেসুর গত পর্বে আমার একটি মেইল নেওয়া হয়েছিল। ঐ মেইলটির কারণে আমাকে কিছু নিয়মিত পত্র লেখকের তোপের মুখে পড়তে হয়েছে। ঐ সব পত্র লেখকের ধারণা বিবিসি বাংলা নারী বান্ধব হয়ে যাচ্ছে এবং বিবিসি বাংলাতে নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
''বিবিসি বাংলা নাকি জোর করে নারী শ্রোতাদের ফোন-ইন অনুষ্ঠানে নিয়ে আসছে। ব্যাপারটা আমার কাছে বেশ হাস্যকর বলেই মনে হচ্ছে, কারণ তাদের অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ তারা দিতে পারেননি।
''বিবিসি বাংলার সম্পাদক কী বলবেন, বিবিসি বাংলা কি নারী বান্ধব হয়ে উঠছে আর নারীদের কি আসলেই জোর করে ফোন-ইন অনুষ্ঠানে নিয়ে আসা হচ্ছে?''
আপনার চিঠির দু'একটি কথা আমার কাছেও হাস্যকর মনে হচ্ছে মিঃ সরদার, কারণ জোর করে কাওকে তো আর অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করানো যায় না। মানুষকে আগ্রহী করে তোলা যেতে পারে, তাদের অনুপ্রেরণা দেয়া যেতে পারে, কিন্তু জোর করে কিছু করার তো প্রশ্নই ওঠে না।
তবে হ্যাঁ, বিবিসি অবশ্যই নারী বান্ধব একটি প্রতিষ্ঠান। বিবিসির লক্ষ্য হচ্ছে আমাদের অনুষ্ঠানে নারী-পুরুষের ভারসাম্য আনা, এবং আমাদের শ্রোতা-দর্শক-পাঠকের অন্তত ৪৮ শতাংশ যেন নারী হয়, সেটা নিশ্চিত করা । গণমাধ্যমে বর্তমানে যেহেতু পুরুষদের দাপটই বেশি, তাই সেই লক্ষ্য অর্জন করতে গিয়ে আমাদের সাময়িক ভাবে নারীদের প্রাধান্য দিতেই হবে।
এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:
দীপক চক্রবর্তী, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়
ফয়সাল আহমেদ সিপন, ঘোড়াদাইড়, গোপালগঞ্জ
মোহাম্মদ আজিজুল হাকিম রাকিব, পাইকগাছা, খুলনা
মোহাম্মদ সজীব হোসেন, সাথিয়া, পাবনা
মোহাম্মদ শিমুল বিল্লাল বাপ্পী, কপিলমুনি, খুলনা।
মোহাম্মদ ফিরোজ খাঁন, পীরগাছা, রংপুর।
মঈনুল আহমদ মুঈন, আশাশুনি, সাতক্ষীরা।
মাহবুবা ফেরদৌসি হ্যাপি, গেণ্ডারিয়া, ঢাকা।
সেলিম রাজ, বেনুঘাট দিঘির পাড়, রংপুর।
ফরিদুল হক, ফুলবাড়ী,কুড়িগ্রাম।














Click it and Unblock the Notifications