চিন ও রাশিয়া জোট বাঁধবে! ইউক্রেন যুদ্ধের পর জিনপিং-পুতিনের প্রথম বৈঠক নিয়ে জল্পনা
গত বছর ইউক্রেন আক্রমণ করার পর রাশিয়া ফের চিনের মুখোমুখি হচ্ছে। দুই দশের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ভ্লাদিমির পুতিনের এই বৈঠক ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে বিশ্ব রাজনীতিতে। উল্লেখ্, সম্প্রতি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক আদালত।
গত বছর ইউক্রেন আক্রমণ করার পর চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রথম রাশিয়া সফরে যাচ্ছেন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তিনি আলোচনায় বসতে চলেছেন। তাঁদের মধ্যে কী আলোচনা হয়, সেদিকে তাকিয়ে গোটা বিশ্ব। দুই দেশের সম্পর্ক কোন খাতে বইয়ে দেন দুই প্রেসিডেন্ট তা তাৎপর্যপূর্ণ।

রাশিয়া বর্তমানে এমন একটি যুদ্ধ শুরু করেছে যা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে নিন্দিত হচ্ছে। যুদ্ধাপরাধের জন্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের বিরুদ্ধে। এই অবস্থায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের একজন প্রকৃত বন্ধু প্রয়োজন। ঠিক এই সময়ে রাশিয়ায় আসছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং একবার প্রেসিডেন্ট পুতিনকে তাঁর 'বেস্ট ফ্রেন্ড' বলে ডেকেছিলেন। উভয়ের মধ্যে সম্পর্কও বেশ ভালো। তাঁদের অনেক মিল রয়েছে। উভয়ই কর্তৃত্ব করতে ভালোবাসেন। উভয়েই মার্কিন আধিপত্যবিরোধী। এই পরিস্থিতিতে তাঁদের আলোচনার টেবিলে মিলিত হওয়া আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
মস্কোতে এই বৈঠকে তাঁরা দুই দেশের মধ্যে অংশীদারিত্ব আরও গভীর কররা ব্যাপারে সম্ম্ত হবে এবং চুক্তি স্বাক্ষর করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ক্রেমলিন যখন তীব্র আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে রয়েছে, তখন চিনের রাষ্ট্রপতির এই সফর রাশিয়ার প্রতি সমর্থনের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত বলে দাবি।
নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী সাংবাদিক দিমিত্রি মুরাটভ মনে করেন, "পুতিন তার নিজস্ব ব্লক তৈরি করছেন। তিনি আর পশ্চিমকে বিশ্বাস করেন না তিনি আর কখনোই পশ্চিমা দেশের উপর বিশ্বাস রাখবেন না।" এই অবস্থায় পুতিন রাষ্ট্রীয় মিত্রদের সন্ধান করছেন। রাশিয়া চিনের পাশাপাশি ভারত, লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার কিছু অংশের সাথে পশ্চিমা বিরোধী বিশ্ব গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন।
এই পশ্চিমা বিরোধী বিশ্বে মস্কো অনেক বেশি নির্ভরশীল চিনের উপর। ইউক্রেনে যুদ্ধের পর আগের থেকে অনেক বেশি নির্ভরতা বাড়বে বলেই কূটনৈতিক মহল মনে করে। এই যুদ্ধ রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, পররাষ্ট্র নীতি এবং অর্থনৈতিক নীতিতে বিশেষ পরিবর্তন এনেছে। ইউক্রেনকে ধ্বংস করার একটি আবেশও কাজ করবে এই নয়া নীতি রূপায়ণে।
এর জন্য অস্ত্র, অর্থ এবং একটি অর্থনৈতিক লাইফলাইন প্রয়োজন। চিন অন্তত অস্ত্রের উপাদান এবং বেসামরিক প্রযুক্তি সরবরাহ করে রাশিয়াকে সাহায্য করতে পারবে। অর্থ সরবরাহ করবে চিন। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলা করতে এবং রুশ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে রাশিয়া প্রাথমিকভাবে জ্বালানি খাতে বাণিজ্য বাড়াবে চিনের সঙ্গে।












Click it and Unblock the Notifications