বিশ্বজুড়ে বিতর্কে মাওবাদ, সেই মাও-র হাতেই একশো বছর আগে পথ চলা শুরু চিনের কমিউনিস্ট পার্টির

বিশ্বজুড়ে বিতর্কে মাওবাদ, সেই মাও-র হাতেই একশো বছর আগে পথ চলা শুরু চিনের কমিউনিস্ট পার্টির

একাধিক বিতর্ক, বিশ্বজোড়া সাফল্য, পুঁজিবাদের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে সমাজতন্ত্রের জাগরণ থেকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে চিনের কমিউনিস্ট পার্টি বা সিপিপি। এই দলের ৭ কোটি সদস্য সংখ্যা কিন্তু আবার চিনের মূল ভূখণ্ডের জনসংখ্যার ৫.৫% নিয়ে গঠিত। সিপিপি-র বামপন্থী ভাবাদর্শের হাত ধরে বর্তমানে আমেরিকাকে জোর টক্কর দিচ্ছে চিন। হয়ে উঠেছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি। ইতিহাসকে সাক্ষী রেখেই চিনের সেই কমিউনিস্ট পার্টি বৃহঃষ্পতিবার পা দিল শতবর্ষে।

যাত্রা শুরু ১৯২১-এ

যাত্রা শুরু ১৯২১-এ

কমিউনিস্ট পার্টির শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে সাজ সাজ রব গোটা চিন জুড়েই৷ দলের নেতৃত্বের সাফল্যের কাহিনী আঁকা নানা ফেস্টুন, ব্যানারে ছেয়ে গেছে গোটা দেশ৷ দিনভর নানাবিধ অনুষ্ঠান চলল রাজধানী বেজিংয়ে। এদিকে ১৯৭৩ সালে রাশিয়ায় বামপন্থী জাগরণের পর চিনের বিপ্লবকে ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ বিপ্লবের উপখ্যান হিসাবে গণ্য করে থাকেন ঐতিহাসিক থেকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। যার শুরুটা হয়েছিল মূলত ১৯২১ সালে।

 কৃষক সেনার হাত ধরেই বিপ্লবের ডাক মাও-সে-তুংয়ের

কৃষক সেনার হাত ধরেই বিপ্লবের ডাক মাও-সে-তুংয়ের

চিনের কমিউনিষ্ট পার্টি (সিসিপি) আনুষ্ঠানিক ভাবে একটি গবেষণা গ্রুপ হিসেবে প্রথম কাজ শুরু করে ১৯২১ সালে। ওই বছরের জুলাইতেই সাংহাইতে বসে প্রথম পার্টি কংগ্রেস। পার্টির মূল প্রবক্তা মাও-সে-তুং সহ ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আরও ৫৭ জন সদস্য। কেউ বলেন ৫৩। এদিকে সকলেই জানি চিনে মাও সে তুংয়ের বিপ্লবের প্রধান শক্তি ছিল তাঁর বিশাল কৃষক সৈনিক বাহিনী। তাই তাঁর দলের প্রথম পর্যায়ের সদস্যরা বেশিরভাগই ছিল কৃষক পরিবারের।

 রাশিয়ার বলশেভিক বিপ্লবের বড় ছাপ দেখা যায় চিনের বিপ্লবে

রাশিয়ার বলশেভিক বিপ্লবের বড় ছাপ দেখা যায় চিনের বিপ্লবে

১৯১৭ সালের রাশিয়ার বলশেভিক বিপ্লবের একটা বড় ছাপ দেখা যায় চিনের বিপ্লবী আন্দোলনে। এমনকী আন্দোলনের প্রতিটা ধারা শুরু থেকেই মার্কবাদী দর্শন দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েই চালনার চেষ্টা করতেন সিসিপি-র প্রতিষ্ঠাতা মাও সে তুং। ১৯১৯ সালের ৪ মে-র আন্দোলনের পর থেকেই চীনে মার্ক্সবাদী চিন্তাধারা ব্যাপকভাবে প্রসার লাভ করতে শুরু করে।

 কী ভাবে হল দলের নামকরণ ?

কী ভাবে হল দলের নামকরণ ?

যদিও অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকই বলেন ১৯২১ সালে শাংহাইয়ের ফরাসি উপনিবেশে একটি অনানুষ্ঠানিক সংগঠন হিসেবে চেন দুজিউ এবং লি দাজাও কর্তৃক প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত হয় চিনের কমিউনিস্ট পার্টি। যদিও আনুষ্ঠানিক ভাবে পার্টি গঠিত হয় ওই বছর জুলাইয়ে পার্টি কংগ্রেসের মধ্য দিয়ে। তাতে যোগ দিয়েছিল দেশের একাধিক ছোট-বড় কমিউনিস্ট গ্রুপ। তাদের সকলের নিজস্ব নাম সরিয়ে তখনই প্রথমবারের জন্য 'চিনের কমিউনিস্ট পার্টি' নামকরণ করা হয়।

একাধিক নির্নায়ক নীতির পাশাপাশি বড় ছাপ ফেলে পঞ্চশীল নীতির বাস্তবায়ন

একাধিক নির্নায়ক নীতির পাশাপাশি বড় ছাপ ফেলে পঞ্চশীল নীতির বাস্তবায়ন

১৯৩৪ থেকে ১৯৩৫ সালের মধ্যে মাওং সে তুং ১০০০০ কিমি লং মার্চের মাধ্যমে উত্তরের দিকে অগ্রসর হন। এবং এই আন্দোলনের মাধ্যমে মাওং সে তুং চিনের কমিউনিস্ট আন্দোলনের ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তি হয়ে ওঠেন। চিনের সমাজতান্ত্রিক আধুনিকীকরণ, গণতান্ত্রিক উন্নয়ন, সাম্য-ঐক্য পারস্পরিক সহযোগিতা রক্ষা,বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠা, পঞ্চশীল নীতির বাস্তবায়নও পরবর্তীতে হয় চিনের কমিউনিস্ট পার্টির হাত ধরে।

 কী ভাবে দেশের শাসন পাঠ চালায় কমিউনিস্ট পার্টি ?

কী ভাবে দেশের শাসন পাঠ চালায় কমিউনিস্ট পার্টি ?

এদিকে গণপ্রজাতন্ত্রী চিনের সংবিধান অনুসারে, কমিউনিস্ট দলের দ্বারা পরিচালিত জনগণের যুক্তফ্রন্ট দ্বারা চিন চালিত হবে। এটিই সমাজতন্ত্রে উত্তরণের প্রাথমিক পথ বলে সেদেশের কমিউনিস্ট নেতারা মনে করেন। পরবর্তীতে যদিও কমিউনিস্ট পার্টির সাংগঠনিক কাঠামো সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময় ভেঙে দেওয়া হয় এবং পরবর্তীকালে তা দেং জিয়াওপিং কর্তৃক পুনর্গঠিত হয়। যদিও বর্তমানে বাস্তবিক ক্ষেত্রে দেখা যায় চিরাচরিত কমিউনিস্ট দলই চিনে ক্ষমতা দখল করেছে। দেশের উর্ধ্বতন ক্ষেত্রগুলিতে সিসিপি-র মুখ্য নেতারা থাকায় তাদের দ্বারাই কার্যত সরকারের বিভিন্ন কাজ পরিচালনা হয়।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+