Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

নির্বাচনের মুখে অস্থির বাংলাদেশ, বর্বরোচিত হামলায় আহত হিন্দু যুবক খোকনের মৃত্যু হল এদিন

নির্বাচনের আগমুহূর্তে উত্তাল বাংলাদেশ। সেই উত্তাপের মধ্যেই ফের রক্তাক্ত হল সংখ্যালঘু হিন্দু সমাজ। শরিয়তপুর জেলার কানইর ইউনিয়নের তিলই গ্রামে মবের বর্বর হামলায় প্রাণ হারালেন বাঙালি হিন্দু ব্যবসায়ী খোকন দাস (৫০)। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৩১ ডিসেম্বর দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে তাঁকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায় একদল দুষ্কৃতী।

ছোট একটি ওষুধের দোকান চালাতেন খোকন দাস। অভিযোগ, প্রথমে তাঁকে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়, এরপর বেধড়ক মারধর করে গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। প্রাণ বাঁচাতে তিনি কাছের একটি পুকুরে ঝাঁপ দেন ও প্রাথমিকভাবে সেই আক্রমণ থেকে রক্ষা পেলেও শরীরের মারাত্মক দগ্ধ ক্ষত নিয়ে গুরুতর অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ পর্যন্ত তিনি এদিন মারা যান।

মৃতের স্ত্রী কান্নাজড়ানো গলায় বলেন, "কে বা কারা এই কাজ করেছে আমি জানি না। আমরা শুধু বিচার চাই। আমার স্বামী খুব সাধারণ মানুষ ছিলেন, কারও ক্ষতি করেননি।" তাঁর কথায় ধরা পড়ে অসহায়তা আর ভয় যা আজ বাংলাদেশের বহু সংখ্যালঘু পরিবারের নিত্যসঙ্গী।

এই ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন নয়। গত দু'সপ্তাহে বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর এটাই চতুর্থ হামলার অভিযোগ। এর আগে পোশাকশ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে নগ্ন করে পিটিয়ে হত্যা করা হয়, এমনকি তাঁর দেহেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। একের পর এক এই ঘটনায় দেশজুড়ে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

খোকন দাসের মৃত্যুকে ঘিরে ভারতের রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য নেতৃত্ব এই হত্যাকাণ্ডকে বাংলাদেশে বাঙালি হিন্দুদের উপর চলতে থাকা ধারাবাহিক হিংসার অংশ বলে উল্লেখ করেছে। সামাজিক মাধ্যম এক্স হ্যাণ্ডেলে দেওয়া পোস্টে দলটি খোকন দাস ও দীপু চন্দ্র দাসের হত্যার প্রসঙ্গ তুলে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে ২০২৩ সালে ঘটে যাওয়া হরগোবিন্দ দাস ও চন্দন দাস হত্যার সঙ্গেও তুলনা টেনেছে। তাদের দাবি, গোটা অঞ্চল জুড়েই বাঙালি হিন্দুরা ক্রমাগত হামলার মুখে পড়ছেন।

এই আবহে আরও জটিল হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে। সহিংস প্রতিবাদ, রাস্তায় আগুন, ও বাড়তে থাকে ভারত বিরোধী স্লোগান। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের একাধিক অঞ্চলে সাময়িকভাবে ভিসা পরিষেবা বন্ধও করা হয়।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ কার্যত এক টানটান পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। ২০২৫ সালের শুরু থেকেই রাজনৈতিক মেরুকরণ, রাজপথে হিংসা ও সামাজিক অস্থিরতা বেড়েই চলেছে।

এরই মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নতুন করে ক্ষোভ উসকে দিয়েছে। সেখানে এক যুবনেতাকে দেখা যাচ্ছে প্রকাশ্যে দাবি করতে যে তিনি এক হিন্দু পুলিশ অফিসারকে পুড়িয়ে হত্যা করেছেন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে হুমকি দিচ্ছেন। খোকনের শেয়ার করা ওই ভিডিওতে বক্তাকে হবিগঞ্জ জেলার এক ছাত্র সমন্বয়ক বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ভিডিওতে ওই যুবক থানার ওসিকে হুমকি দিয়ে বলেন, প্রয়োজনে থানায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে। তিনি দাবি করেন, তথাকথিত 'জুলাই আন্দোলন' এর সময় আগেই বানিয়াচং থানায় আগুন লাগানো হয়েছে। আরও ভয়াবহভাবে তিনি বলেন, "আমরা হিন্দু অফিসার এসআই সন্তোষকে পুড়িয়েছি" সাব ইন্সপেক্টর সন্তোষ ভাভুর হত্যার উল্লেখ করে। থানার ভেতরে বসেই কোনও ভয় বা অনুশোচনা ছাড়াই এই দাবি করতে দেখা যায় তাঁকে।

সব মিলিয়ে নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, আইনের শাসন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন আরও গভীর হচ্ছে। আতঙ্ক, ক্ষোভ আর অনিশ্চয়তার মধ্যে দাঁড়িয়ে খোকন দাসের মৃত্যু যেন সেই অশান্ত সময়েরই নির্মম প্রতিচ্ছবি।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+