বিশ্বজুড়ে করোনার দ্বিতীয় ধাক্কার মাঝে দেখে নিন কোন দেশ এগিয়ে কোভিড টিকাকরণে
বিশ্বজুড়ে করোনার দ্বিতীয় ধাক্কার মাঝে দেখে নিন কোন দেশ এগিয়ে কোভিড টিকাকরণে
করোনা ভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়ান্ট গোটা বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে পড়ার সময়ই বিভিন্ন দেশে টিকাকরণ কর্মসূচি শুরু করে দিয়েছে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি উদ্যোগে কোভিড–১৯ ভ্যাকসিন ট্র্যাকার ও ফিগার অনুযায়ী, গোটা বিশ্বে এখনও পর্যন্ত ৫৮ কোটির বেশি ভ্যাকসিন ডোজ প্রয়োগ করা হয়েছে ১২.৭ কোটি মানুষের ওপর। যদিও বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যার ২ শতাংশ এর নীচে রয়েছে কারণ অনেক দেশই এখনও টিকাকরণ কর্মসূচি শুরু করতে পারেনি।
তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপের দেশগুলি টিকাকরণের ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় ভালো কাজ করছে বলে জানা গিয়েছে। উন্নত দেশগুলিতে ভ্যাকসিনের কর্মসূচি বেশি ভালো উন্নয়নশীল দেশের তুলনায়, কারণ এই দেশগুলি ভ্যাকসিন আমদানির ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে, দুটি বৃহত্তম ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক হয়েও, ভারত এবং চিনও তাদের জনসংখ্যার বৃহৎ শতাংশকে টিকাকরণ করাতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। কোভিড–১৯ ভ্যাকসিনের প্রতিযোগিতায় দেশের প্রতিটা সরকার নেমেছে, এবার দেখে নেওয়া যাক এখনও পর্যন্ত কোন দেশ টিকাকরণে এগিয়ে বা পিছিয়ে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনঞ্জামিন নেতানিয়াহু উৎপাদনকারীদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ এবং শটগুলির কার্যকারিতা নির্ধারণের মাধ্যমে ভ্যাকসিনটি সঞ্চয় করতে সক্ষম হন।

ইসরায়েল
ইসরায়েলে এখনও পর্যন্ত জনসংখ্যার ৫২.৬ শতাংশ অর্থাৎ ৪৭ লক্ষ জনকে সম্পূর্ণভাবে টিকাকরণ করানো হয়েছে। দেশের ছোট আকার, অঞ্চল এবং জনসংখ্যা উভয় ক্ষেত্রেই, উন্নত পরিকাঠামো, শক্তিশালী স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এবং উচ্চ কেন্দ্রীভূত সরকার সবই ইসরায়েলের টিকাদান সাফল্যে ভূমিকা রেখেছে। ইউগোভ ও লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের সমীক্ষআ অনুযায়ী, ভ্যাকসিনের ওপর আস্থা রয়েছে ৪৮ শতাংশ ইসরায়েলের এবং মাত্র ৪ শতাংশ জনসংখ্যার আস্থা নেই ভ্যাকসিনের ওপর। অন্যান্য উচ্চ আয়যুক্ত দেশগুলির মধ্যে ব্রিটেনে ৫২ শতাংশ, ফ্রান্সে ১৮ শতাংশ ও জার্মানিতে ২২ শতাংশ মানুষের ভ্যাকসিনের ওপর বিশ্বাস রয়েছে।

সেশেলস
সেশেলসের জনসংখ্যার ৩৭.৭৬ শতাংশ অ্থাৎ ৩৬,৮৬৬ জন সম্পূর্ণভাবে টিকাকরণ করিয়েছেন। ভারত ও আরবের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকার কারণে সুবিধা পাওয়া ও খুব কম জনসংখ্যার জন্য এই ছোট্ট দেশটি তাদের নাগরিকদের ৩৭ শতাংশকে সম্পূর্ণভাবে টিকাকরণ করাতে সফল হয়েছে। সেশেলস মূলত পর্যটনের জন্য জনপ্রিয় এবং গত বছর কোভিড মহামারির কারণে ৭০ শতাংশ অর্থনীতি ডুবে গিয়েছে। ফল স্বরূপ প্রাথমিক পর্যায়ে এই ছোট দেশটি জুন মাসে তাদের সীমান্ত খুলে দেয় এবং ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে পর্যটকদের জন্য কোয়ারেন্টাইনের নিষেধাজ্ঞা তুলে দেয়। তবে এই দেশে ঢোকার আগে পর্যটকদের ৭২ ঘণ্টা আগে করা কোভিড নেগেটিভ রিপোর্ট বহন করতে হবে। যদিও সফলভাবে টিকাকরণ করা হলেও, তীব্রভাবে করোনা কেস বৃদ্ধি পাচ্ছে এখানেও। ২০২০ সালে এই ধেশ থেকে ২৭৫টি কোভিড-১৯ কেস পাওয়া যায়, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪,১৩৫টি কেসে।

সংযুক্ত আরব এমিরেটস
আরবে ২১ লক্ষ ৯০ হাজার মানুষ অর্থাৎ দেশের জনসংখ্যার ২২.৩৯ শতাংশ সম্পূর্ণভাবে টিকাকরণ করেছে। করোনা ভাইরাসের দ্বৈত আঘাত ও তেলের মূল্য হ্রাস পাওয়ায় অর্থনীতিকে দ্রুত পুনরুদ্ধারের জন্য আরব বাধ্য হয়েছিল পদক্ষেপ করতে। ডিসেম্বরে বিশ্বের মধ্যে আরব প্রথম দেশ যারা চিনের সিনোফার্ম ভ্যাকসিনকে সাধারণের ব্যবহারের ওপর অনুমোদন দেয়। ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা বা পাশ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে কোনও নিশ্চিত তথ্য ছাড়াই আরব সরকার দাবি করে যে এই ভ্যাকসিন ৮৬ শতাংশ কার্যকর এবং দেশের নাগরিকদের ভ্যাকসিন গ্রহণের জন্য আর্জি জানায়।

মোনাকো
এই ছোট দেশের ৮,৩৩১ জন অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার ২১.৩৮ শতাংশকে সম্পূর্ণরূপে টিকা দেওয়ার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। জানুয়ারিতে বাদমাধ্যমকে এই দেশের প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন যে তিনি আশাবাদী যত দ্রুত সম্ভব ৮০ হাজার মানুষকে টিকাকরণ করানো হবে এই দেশে। ২০২০ সালের গ্রীষ্মকালে মোনাকো প্রথম দেশ যে ১৫,৬০০ ভ্যাকসিন ডোজের আগাম অর্ডার দেয়। যাতে গোটা দেশের নাগরিকদের দ্রুত টিকাকরণ করার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ ডোজ তাদের কাছে থাকে। এছাড়াও ছুটির দিনে মোনাকো তার নাগরিকদের বিনামূল্যে কোভিড টেস্ট করায়। ক্ষুদ্র, সমৃদ্ধ ও সুসম্পর্কের এই দেশ টিকাকরণের প্রচার যথেষ্ট ভালোভাবে করেছিল বলে বর্তমানে তার ফল পাচ্ছে।

চিলি
এই দেশের ৩৫ লক্ষ ১০ হাজার মানুষ অর্থাৎ জনসংখ্যার ১৮.৫৪ শতাংশ সম্পূর্ণভাবে টিকা পেয়েছেন। ল্যাটিন আমেরিকার অন্যতম কোভিড আক্রান্ত দেশ চিলি, সাংবিধানিক সঙ্কট ও গণ-বিক্ষোভ সামিল হয়। এরপরই চিলির সরকার পর্যাপ্ত পরিমাণে ভ্যাকসিন নিরাপদ করার লক্ষ্যে বেশিরভাগ ভ্যাকসিন নির্মাতাদের সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তি সই করে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
আমেরিকায় এখনও পর্যন্ত ৫৩.৪ কোটি মানুষ অর্থাৎ মোট জনসংখষার ১৬.২৮ শতাংশকে টিকাকরণ করা হয়েছে। মহামারি নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত খারাপ দৃষ্টান্তের তালিকায় আমেরিকার নাম সবার শীর্ষে থাকলেও করোনা ভ্যাকসিন টিকাকরণের ড্রাইভে এই দেশ যথেষ্ট ভালো ফল দেখিয়েছে। অপারেশন ওয়ার্প স্পিডের অধীনে, আমেরিকা একটি বিশাল সরকারী-বেসরকারী অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ভ্যাকসিন সংগ্রহের চেষ্টা করেছিল যা ব্যয় এবং সম্ভাব্য পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সম্পর্কিত বিশদের গতিকে অগ্রাধিকার দেয়। জো বিডেন প্রেসিডেন্ট পদের দায়িত্ব নেওয়ার পর ভ্যাকসিন উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায় এবং মর্ডানা ঘোষণা করে যে তারা ২০ কোটি ডোজ মে মাশের শেষের মধ্যে উৎপাদন করবে।

বাহারিন
বাহারিনে মোট জনসংখ্যার ১৫.৪২ শতাংশ অর্থাৎ ২৫৩,০০০ মানুষ এখনও পর্যন্ত টিকা গ্রহণ করেছে। ব্রিটেনের পর বাহারিন দ্বিতীয় দেশ যে কিনা জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দেয় ফাইজার ভ্যাকসিনকে। এছাড়াও আরবের মতো চিনের সিনোফার্ম ভ্যাকসিনও জরুরি ব্যবহারে অনুমোদন পায় বাহারিনের পক্ষ থেকে।

সার্বিয়া
১০ লক্ষ ১০ হাজার মানুষ অর্থাৎ এই দেশের মোট জনসংখ্যার ১৪.৪৯ শতাংশকে টিকা দেওয়া হয়েছে। সার্বিয়ান প্রধানমন্ত্রী ইউরোপের প্রথম নেতা যিনি ফাইজার ভ্যাকসিন নেন, অন্যদিকে তাঁর স্বাস্থ্য মন্ত্রী ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রী চিনের সিনোফার্ম ও রাশিয়ার স্পুটনিক ভি ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন।

মল্টা
মল্টায় এখনও পর্যন্ত ৫২,৩৪০ জন নাগরিক তথা ১০.৪১ শতাংশ টিকাকরণ করিয়েছে। প্রচুর পরিমাণে ভ্যাকসিন কিনতে ইচ্ছুক হওয়ার ক্ষেত্রে এটি ব্যতিক্রম প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও মল্টা ইউরোপকে তার মসৃণ ভ্যাকসিন রোলআউটের জন্য কৃতিত্ব দেয়।

মরক্কো
মরক্কোয় ৩৫ লক্ষ ৭০ হাজার নাগরিক অর্থাৎ দেশের জনসংখ্যার ৯.৭৮ শতাংশ টিকা নিয়েছে। প্রসঙ্গত, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে টিকা দেওয়ার প্রক্রিয়াটি শুরু হবে বলে সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও চার সপ্তাহ পরেও এই কার্যক্রম শুরু হয়নি তাই মরোক্কোকে টিকাকরণের প্রচারের শুরুতে প্রচুর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছিল।












Click it and Unblock the Notifications