Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

ভারত ও পাকিস্তান জলের টানাপোড়েনের পর,তালিবান সরকার কুনার নদীতে বাঁধ গড়ে পাকিস্তানে জলপ্রবাহে রাশ টানতে চলেছে

ভারতের পর এবার পাকিস্তানের জল সরবরাহ সীমিত করতে উদ্যোগী তালিবান শাসিত আফগানিস্তান। সম্প্রতি আফগান তথ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মৌলবি হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা নির্দেশ দিয়েছেন, যত দ্রুত সম্ভব কুনার নদীর উপর বাঁধ নির্মাণ শুরু করতে হবে। আফগান সরকারের এই ঘোষণা এসেছে এমন সময়ে, যখন কেবল কয়েক সপ্তাহ আগেই আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে শতাধিক মানুষের প্রাণ গিয়েছে।

তালিবান শাসনের এই সিদ্ধান্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিল, আফগানিস্তানও এবার জল নিয়ে নিজস্ব অধিকার প্রতিষ্ঠায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আখুন্দজাদা মন্ত্রককে নির্দেশ দিয়েছেন, বিদেশি সংস্থার জন্য অপেক্ষা না করে দেশীয় কোম্পানির সঙ্গেই চুক্তি করে বাঁধ নির্মাণে হাত দিতে। লন্ডনভিত্তিক আফগান সাংবাদিক সামি ইউসুফজাই এক্স হ্যাণ্ডেলে লিখেছেন, "ভারতের পর এবার পাকিস্তানের জলের নল বন্ধ করতে পারে আফগানিস্তান।"

কুনার নদী প্রায় ৪৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ, উৎপত্তি হিন্দুকুশ পর্বতমালার ব্রোগিল পাসের কাছ থেকে। এটি আফগানিস্তানের কুনার ও নানগারহার প্রদেশ পেরিয়ে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় প্রবেশ করে, যেখানে এটি কাবুল নদীর সঙ্গে মিশে যায়। পাকিস্তানে এই নদী 'চিতরাল নদী' নামে পরিচিত। কাবুল ও কুনার নদীর জলের প্রবাহই পাকিস্তানের কৃষি ও সেচব্যবস্থার অন্যতম প্রধান উৎস। ফলে কুনারের জলপ্রবাহ কমলে তার প্রভাব পড়বে সিন্ধু নদীতেও, যা পাকিস্তানের পাঞ্জাব পর্যন্ত জল সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ভারতের সঙ্গেও পাকিস্তানের জলের দ্বন্দ্ব নতুন নয়। প্যাহেলগাঁও হামলায় ২৬ জন বেসামরিকের মৃত্যুর পর ভারত ইন্দাস ওয়াটার চুক্তি স্থগিত রাখে, যার মাধ্যমে তিনটি পশ্চিমী নদীর জল পাকিস্তানের সঙ্গে ভাগ করা হত। সেই সিদ্ধান্তের পরই এবার আফগানিস্তানের উদ্যোগকে আন্তর্জাতিক মহল দেখছে নতুন জল কূটনীতির ইঙ্গিত হিসেবে।

তালিবান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই জলের ওপর সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তারা দ্রুত গতিতে বাঁধ নির্মাণ, জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং নদী ব্যবস্থার আধুনিকীকরণে উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে দেশটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলির উপর নির্ভরতা কমাতে পারে।

অন্যদিকে, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক জল বণ্টন চুক্তি নেই। ইসলামাবাদ ইতিমধ্যেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, এই একতরফা পদক্ষেপ গোটা অঞ্চলে জলসংকট সৃষ্টি করতে পারে, যা পাকিস্তানের জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

এই ঘটনার মাত্র এক সপ্তাহ আগেই আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মৌলবি আমির খান মুতাকি ভারত সফরে এসে এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে দুই দেশই ভারতের সাহায্যে নির্মিত হেরাতের 'সালমা ড্যাম' বা ভারত আফগান মৈত্রী বাঁধের প্রশংসা করে ও জল ব্যবস্থাপনা ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে পারস্পরিক সহযোগিতার অঙ্গীকার করে।

ভারত বহু বছর ধরে আফগানিস্তানের সঙ্গে জলসম্পদ ও শক্তি সহযোগিতার ক্ষেত্রে একাধিক ঐতিহাসিক প্রকল্পে হাত মিলিয়েছে। ২০১৬ সালে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলারে নির্মিত সালমা বাঁধ ৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে ও প্রায় ৭৫ হাজার হেক্টর জমিতে সেচের ব্যবস্থা করে। পরবর্তীতে ২০২১ সালে কাবুল নদীর উপনদী মাইদান নদীর উপর 'শাহতূত ড্যাম'এর জন্য ভারত ২৫০ মিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি দেয়, যা কাবুলের দুই মিলিয়নেরও বেশি মানুষকে বিশুদ্ধ জল সরবরাহ করবে ও কৃষিক্ষেত্রেও বিপুল সুবিধা আনবে।

অর্থাৎ, ভারত যখন পাকিস্তানের সঙ্গে জলের চুক্তি স্থগিত রাখল, তখন আফগানিস্তানও পাকিস্তানের জলের উৎসে বাঁধ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, দক্ষিণ এশিয়ায় এক নতুন জল রাজনীতির পর্ব শুরু হচ্ছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+