রক্ত পরীক্ষায় ক্যানসারের আগাম বার্তা! উপসর্গের ১০ বছর আগেই মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসার শনাক্তে নতুন বিপ্লব
ক্যানসার মানেই আতঙ্ক। কিন্তু যদি এই প্রাণঘাতী রোগটি ধরা পড়ে উপসর্গ প্রকাশের বহু বছর আগেই? তখন হয়তো জীবন বাঁচানো আরও সহজ হয়ে যাবে। এমনই আশার আলো দেখাচ্ছে এক দল মার্কিন গবেষকের নতুন আবিষ্কার।হার্ভার্ড অনুমোদিত মাস জেনারেল ব্রিগহাম এর বিজ্ঞানীরা উদ্ভাবন করেছেন এক অভিনব রক্ত পরীক্ষা এইচ পি ভি ডিপসিক। এই পরীক্ষার মাধ্যমে উপসর্গ প্রকাশের আগেই, এমনকি ১০ বছর আগে পর্যন্ত, মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারের উপস্থিতি শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে দাবি করা হয়েছে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সাময়িকী জার্নাল অফ দ্যা ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউটে।

গবেষকেরা জানিয়েছেন, ক্যানসার যদি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা যায়, তবে চিকিৎসার সাফল্যের হার অনেক বেড়ে যায়, এমনকি তা তুলনামূলকভাবে কম চিকিৎসারও প্রয়োজন হয়।
মানব প্যাপিলোমা ভাইরাস তথা এইচ পি ভি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মাথা ও ঘাড়ের প্রায় ৭০ শতাংশ ক্যানসারের জন্য দায়ী। এটি ভাইরাসজনিত সবচেয়ে সাধারণ ক্যানসার হিসেবে চিহ্নিত। অথচ এতদিন পর্যন্ত এইচ পি ভি সম্পর্কিত ক্যানসার শনাক্তের কোনো কার্যকর স্ক্রিনিং পরীক্ষা ছিল না। সেই শূন্যস্থানই পূরণ করতে এসেছে এইচ পি ভি ডিপ সিক।
এইচ পি ভি ডিপ সিক মূলত এক ধরনের লিকুইড বায়োপসি টেস্ট। এটি রক্তের মধ্যে উপস্থিত এইচ পি ভি ভাইরাসের টিউমার ডিএনএ শনাক্ত করে দেয়, এমনকি রোগীর কোনো উপসর্গ প্রকাশের আগেই।
গবেষণার প্রধান লেখক তথা হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের ওটোল্যারিংগোলজি হেড অ্যান্ড নেক সার্জারির সহকারী অধ্যাপক ড্যানিয়েল এল. ফাদেন বলেন, "আমাদের গবেষণায় প্রথমবারের মতো দেখা গেছে, আমরা সম্পূর্ণ উপসর্গহীন ব্যক্তিদের মধ্যেও বহু বছর আগে এইচ পি ভি সম্পর্কিত ক্যানসার শনাক্ত করতে পারি।" তার আরও সংযোজন "যখন রোগীরা উপসর্গ নিয়ে আসেন, তখন প্রায়ই তাদের এমন চিকিৎসা নিতে হয় যা আজীবন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি করে। যদি এই পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যানসার শুরু হওয়ার আগেই শনাক্ত করা যায়, তাহলে চিকিৎসা হবে সহজ, দ্রুত ও অনেক বেশি কার্যকর।"
গবেষণায় মূলত ৫৬টি রক্তের নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়, ২৮ জন ভবিষ্যতে ক্যানসারে আক্রান্ত হতে যাচ্ছিলেন, আর ২৮ জন ছিলেন সম্পূর্ণ সুস্থ। পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, এইচ পি ভি ডিপ সিক ক্যানসারে আক্রান্তদের মধ্যে ২২টি নমুনায় এইচ পি ভি টিউমার ডিএনএ শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে, যেখানে সকল সুস্থ ব্যক্তির নমুনা নেগেটিভ এসেছে।
সবচেয়ে আশ্চর্যজনক তথ্য এক রোগীর রক্তে এইচপিভি ডিএনএ শনাক্ত হয়েছে রোগ ধরা পড়ার ৭.৮ বছর আগে।
পরবর্তীতে গবেষকেরা মেশিন লার্নিং মডেল প্রয়োগ করে পরীক্ষাটিকে আরও উন্নত করেন, যার ফলে এইচপিভি ডিপসিক পরীক্ষাটি ২৮টির মধ্যে ২৭টি ক্যানসার কেস সঠিকভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়, এমনকি রোগ নির্ণয়ের ১০ বছর আগের নমুনাতেও।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্ভাবন ভবিষ্যতে মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসার শনাক্তে বিপ্লব আনতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা পড়লে শুধু রোগীর আয়ু নয়, তার জীবনের মানও বহুগুণে উন্নত হবে।












Click it and Unblock the Notifications