৩৫ দিনে ১১ মৃত্যু, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর সহিংসতার অন্ধকার ছবি
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ গভীর হচ্ছে। গত ৩৫ দিনে দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে অন্তত ১১ জন হিন্দু নাগরিক নিহত হয়েছেন। একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড নতুন করে প্রশ্ন তুলছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে।
৫ জানুয়ারি যশোরে হিন্দু সম্প্রদায়ের সংবাদপত্র সম্পাদক রানা কান্তি বৈরাগীকে গুলি করে খুন করা হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নরসিংদীতে মুদির দোকানদার মণি চক্রবর্তীর ওপর হামলার পর তাঁর মৃত্যুর খবর আসে। এর আগে ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহে গার্মেন্টকর্মী দীপু চন্দ্র দাসকে জনতা পিটিয়ে খুন ও দেহ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন তোলে। মাত্র ১৮ দিনের ব্যবধানে এই ঘটনাগুলি মিলিয়ে হিন্দু হত্যার সংখ্যা দাঁড়ায় ছয়।

ভারত ও বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, ২ ডিসেম্বর থেকে ৫ জানুয়ারির মধ্যে নরসিংদি, ফরিদপুর, রংপুর, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, শরীয়তপুর-সহ একাধিক জেলায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী মানুষ, তরুণ চালক, এমনকি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায় ও তাঁর স্ত্রীও, যাঁদের রংপুরের বাড়ি থেকে গলাকাটা দেহ উদ্ধার হয়।
অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান মহম্মদ ইউনূসের প্রশাসন এই ঘটনাগুলিকে 'বিচ্ছিন্ন' বা 'সাম্প্রদায়িক নয়' বলে দাবি করলেও পরিসংখ্যান অন্য ছবি তুলে ধরছে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে সংখ্যালঘুদের উপর হামলা, তাঁদের ধর্মীয় স্থান ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে আক্রমণের অভিযোগ বেড়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলিও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক 'হিন্দুস ফর হিউম্যান রাইটস' সংখ্যালঘু সুরক্ষায় আলাদা মন্ত্রক গঠনের দাবি জানিয়েছে।
বাংলাদেশি এনজিও আইন ও সালিশ কেন্দ্রের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালেই মব হিংসায় প্রায় ২০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে হিন্দু হত্যাকাণ্ডের ধারাবাহিকতা আরও ভয় ধরাচ্ছে। দীপু চন্দ্র দাসের মৃত্যুর পর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়লে প্রশাসনের তৎপরতা কিছুটা দেখা গেলেও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলির তদন্ত আদৌ একই গুরুত্ব পাবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।
ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে পুলিশের সামনে উগ্র গোষ্ঠীর প্রকাশ্য হুমকি আইনশৃঙ্খলার ভাঙনের ইঙ্গিত দিয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে ইউনূস সরকারের আমলে এই হত্যাকাণ্ডগুলির বিচার কি সত্যিই হবে, নাকি 'ব্যতিক্রম' তকমায় ঢেকে দেওয়া হবে? সংখ্যালঘুদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা এখন সেই উত্তরেই নির্ভর করছে।












Click it and Unblock the Notifications