করোনা ভ্যারিয়েন্ট 'মু' এর মতো করেই কি আরও বিপদ আসন্ন! ভ্যাকসিন-নিরাপত্তা নিয়ে কী জানা যাচ্ছে
এই মুহূর্তে বিশ্ব স্বাস্থ্য় সংস্থা হু জানিয়ে দিয়েছে নতুন 'ভ্যারিয়েন্ট অফ ইন্টারেস্ট ' হিসাবে উঠে আসছে নয়া মু ভ্যারিয়েন্ট। ২০২১ সালে কলোম্বিয়াতে এই করোনা ভ্যারিয়েন্টের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। বর্তমানে যে ভ্যাকসিনগুলি করোনার বিরুদ্ধে কার্যকরী ভূমিকা নিয়েছে, তাদের প্রতিরক্ষা প্রাচীরকে কার্যত ভেঙে দিতে পারদর্শী এই মু ভ্যারিয়েন্ট। তবে ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে এই ভ্যারিয়েন্টের খোঁজ মিললেও এমন ভ্যারিয়েন্ট সেভাবে এখনও বিশ্বে দাপট দেখাতে পারেনি। তবে মুএর মতো বর্তমানে ৫ টি ভ্যারিয়েন্ট রয়েছে। এটা, কাপ্পা,লোটা, ল্যাম্বডা-র পর এসেছে মু। এই ভ্যারিয়েন্টের অবতরণ থেকেই প্রশ্ন উঠছে , যে আগামী দিনে কি এমন আরও ভয়ঙ্কার বিপজ্জনক ভ্যারিয়েন্ট আসতে পারে! দেখা যাক বিভিন্ন বিশ্লেষণ, গবেষণা কী বলছে?

মু-ভ্যারিয়েন্ট আসলে কী?
বৈজ্ঞানিক পরিচিতর নিরিখে, 'B.1.621' হল মু ভ্যারিয়েন্টের পরিচিতি। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে প্রথমবার কলম্বিয়াতে পাওয়া যায় , এই মু ভ্যারিয়েন্টটি। ডেল্টা ও লফা ভ্যারিয়েন্টের থেকে মু ভ্যারিয়েন্ট আরও বিপজ্জনক বলে জানা যায়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এই ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে না পড়লেও , কেবল কলোম্বিয়াতে ৩৯ শতাংশ মানুষের শরীরে যে করোনা দানা বেঁধেছে তার নেপথ্য কারণ মু ভ্যারিয়েন্ট।

মু-কে নজরে রাখছে হু
এতদিন পর্যন্ত মু ভ্যারিয়েন্টের দাপট সেভাবে ছড়াতে না দেখা গেলেও, এবার ধীরে ধীরে আস্ফালন বাড়াচ্ছে এই করোনা ভ্যারিয়েন্ট। জানা যাচ্ছে বিশ্বের ৩০ টির বেশি দেশে ৩০ অগাস্টের পর করোনার মু ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে গিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা হু এর কাছে এই ভাইরাসের গুরুত্ব বাড়ছে। আপাতত যা জানা যাচ্ছে ভ্যাকসিনের নিরাপদ জাল ছিঁড়ে বেরিয়ে এটি মানুষের শরীরে দংশন শুরু করে। বর্তমানে বিশ্বে এই মু ভ্যারিয়েন্টের হাতে আক্রান্তের সংখ্যা ০.১ শতাংশ। তবে তা যে কোনও মুহূর্তে বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কায় রয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

আরও বিপদ কি আসন্ন?
মু ভ্যারিয়েন্টের পক্ষে ভ্যাকসিনের রক্ষা কবচ কাটিয়ে দংশন করা সম্ভব, এই খবর জানা যেতেই, প্রশ্ন উঠছে যে, আগামী দিনে কি মু -এর মতো করে আরও বিপজ্জনক ভ্যারিয়েন্ট আসন্ন? যার উত্তরে জানা গিয়েছে, এমন 'এসকেপ ভ্যারিয়েন্ট' আরও আসার সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে এখনও। ভাইরাসের আসল স্ট্রেনের ওপর আরও মিউটেশন হয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে। গবেষকরা বলছেন, যেভাবে গোটা বিশ্বে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হচ্ছে, তাতে নতুন ভ্যারিয়েন্ট তৈরি হতে পারে বলে সম্ভাবনা প্রবল হয়ে যাচ্ছে। বলছে গবেষণা।

ভ্যারিয়েন্টের জন্ম নিয়ে কতটা প্রস্তুত ভ্যাকসিন নির্মাতারা?
এদিকে, জানা যাচ্ছে, গবেষকরা মনে করছেন যে, ভ্যারিয়েন্টের স্রোত এখনই থামবে না। আলফা বা ডেল্টাকে ছাপিয়ে যাবে, এমন ভ্যারিয়েন্ট আসতে পারে। তবে ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারকরা সেই বিষয়ে সচেতন। 'এসকেপ ভ্যারিয়েন্ট' এর গতিপ্রকৃতি জেনে নতুন ঘরানায় প্রতিরক্ষা কবচ তৈরি করতে সম্ভত ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ লাগতে পারে ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারকদের। সেক্ষেত্রে দেশগুলির থেকে অনুমোদন ও পরীক্ষার প্রক্রিয়া তাড়াতাড়ি করতে হবে। এদিকে , মু এর মতো ভ্যারিয়েন্টের হাত ধরে আগামী দিনে আরও নতুন কোনও বিপদ আসার সম্ভাবনাও কম থাকছে না বলে জানান দিচ্ছেন গবেষকরা। সেক্ষেত্রে বুস্টার ডোজের প্রয়োজন হতেই পারে বলে মনে করা হচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications