শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা বন্দরের নিয়ন্ত্রক বেজিং, ভারত মহাসাগরে চিনের শক্তি বৃদ্ধিতে বাড়ছে আশঙ্কা
শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা বন্দরের নিয়ন্ত্রণ চিনের হাতে, বাড়ছে আশঙ্কা
চুক্তি হয়েছে প্রায় তিন বছর। এমনকী সেই চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে বিস্তর জলঘোলাও হয়। প্রায় ১১০ কোটি ডলারের বিনিময়ে শ্রীলঙ্কা তাদের দক্ষিণাঞ্চলের গভীর সমুদ্রবন্দর হাম্বানটোটার নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়নকাজ চিনের হাতে দেয়।বরাত পায় চিনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ। যদিও কাজ কাজের নির্যাস নিয়ে এরপর একাধিকবার নিজেদের মধ্যে সংঘাতে জড়িয়ে শ্রীলঙ্কা-চিন।

সিঁদুরে মেঘ দেখছে ওয়াকিবহাল মহল
এদিকে বন্দর চুক্তি অনুযায়ী ৯৯ বছরের জন্য বন্দরের লিজের পাশাপাশি হাম্বানটোটার কাছাকাছি এলাকায় শিল্পায়নের জন্য রাখা প্রায় ১৫ হাজার একর জমি পাবে চিনা কোম্পানিটি। এ থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে বিদেশি ঋণ শোধ করা হবে বলে জানিয়েছে কলম্বো। পাশাপাশি গোটা বন্দর তদারকির দায়িত্ব পায় চিন মার্চেন্টস পোর্ট হোল্ডিংস (সিএমপোর্ট)। আর এখানেই সিঁদুরে মেঘ দেখছে ওয়াকিবহাল মহল।

ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শক্তি বৃদ্ধি চিনের
অনেকেরই ধারণা হাম্বানটোটা বন্দরের হাত ধরেই ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে শক্তিবৃদ্ধি করবে চিন। এদিকে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অন্যতম প্রধান পথেই পরে এই বন্দর। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা হাম্বানটোটার নিয়ন্ত্রণ চিনের হাতে যাওয়ার অর্থ অঞ্চলটিকে কার্যত বেইজিংয়ের কলোনিতে পরিণত করা। এমনকী এর ফলে গোটা এলাকায় চিনের নৌবাহিনীর দৌরাত্ম্য যে কয়েক গুণ বেড়েছে তা বলাই বহুল্য।

কেন এত গুরুত্ব হাম্বানটোটার ?
এদিকে পশ্চিম থেকে পূর্বগামী সব গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ শ্রীলঙ্কার ধার ঘেঁষে বেরিয়ে গেছে। সেটাই শ্রীলঙ্কাকে এতটা গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। এদিকে ইতিমধ্যেই লালফৌজ এই বন্দরকে ইতিমধ্যেই ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করেছে বলেও জানা যাচ্ছে। ঋণের শর্ত অনুযায়ী, ২০১৭ সাল থেকেই শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা বন্দরের ইজারা নেয় চিন। পাশাপাশি আফ্রিকার জিবুতিতে সেনা ঘাঁটি তৈরি করে ভারত মহাসাগরে সামরিক উপস্থিতি বাড়ায় চিন।

আক্ষেপের সুর রাজাপক্ষের গলায়
এদিকে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হওয়ার পর এই চুক্তির বিষয়ে আগেই আক্ষেপ করতে দেখা যায় প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষে। তবে হাম্বানটোটার নিয়ন্ত্রণ চিনের হাতে যাওয়ায় বারতের উপর যে পরোক্ষ ভাবে চাপ বাড়বে সে কথাও আকারে ইঙ্গিতে স্বীকার করে নেন তিনি। তবে ভারত ও চিনের মতো দুই পরাক্রমশালী দেশের বিবাদের মধ্যে ছোট দেশ হিসেবে শ্রীলঙ্কা যে বিশেষ নাক গলাতে চায় না তাও স্পষ্ট করেন তিনি।












Click it and Unblock the Notifications