করোনাকালে গোল্ড লোনের চাহিদা আকাশছোঁয়া, মন্দার জেরে বেড়ে চলা আর্থিক দুর্গতিই কী নেপথ্য কারণ?
করোনাকালে গোল্ড লোনের চাহিদা আকাশছোঁয়া, মন্দার জেরে বেড়ে চলা আর্থিক দুর্গতিই কী নেপথ্য কারণ?
কোভিড অতিমারী পরিস্থিতিতে বেলাগাম খরচে ক্রমশ পকেট ফাঁকা হচ্ছে আমজনতার। এহেন অবস্থায় ক্রমশ বাড়ছে গোল্ড লোনের চাহিদা। ২০২১-এর মে মাসে শেষ হওয়া অর্থবছরে সকল ক্ষেত্রের মধ্যে গোল্ড লোন সেক্টরে ক্রেডিট বৃদ্ধি হয়েছে সর্বোচ্চ প্রায় ৩৩.৮%। ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্কের তথ্যানুসারে, ২০২০-র মে মাসে গোল্ড লোনের পরিমাণ ছিল ৪৬,৪১৫ কোটি টাকা, যদিও এ বছরের মে মাসে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬২,১০১ কোটি টাকায়।

বিভিন্ন সংস্থাগুলির খতিয়ান মেলালে লোনের পরিমাণ আকাশছোঁয়া
রাষ্ট্রায়ত্ত এক ব্যাঙ্কের আধিকারিকের মতে, "মুথুট বা মনপ্পুরামের মতো গোল্ড লোন সংস্থার খতিয়ান হিসাবের আওতাভুক্ত করলে গোল্ড লোনের পরিমাণ আরও অনেক বেশি।" সম্প্রতি এসবিআইয়ের তরফে জানান হয়েছে, ২০২০-২১ অর্থবর্ষে তাদের গোল্ড লোনের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৪৬৫%। অন্যদিকে গোল্ড লোনের ক্ষেত্রে কোল্যাটেরাল হিসেবে সোনার গয়না, কয়েন বা এ ধরনের সামগ্রী জমা রাখতে হয়। লোন হিসেবে সোনার মূল্যের ৮০% পর্যন্ত প্রদান করে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক।

সমস্যায় সমাজের নিম্ন-রোজগেরে অংশ
অর্থনীতিবিদদের মতে, সমাজের কম রোজগেরে অংশ এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের নাগরিকদের আর্থিক দুর্গতি বৃদ্ধিই গোল্ড লোন নেওয়ার প্রবণতা বাড়ার কারণ। অন্যদিকে বিশ্ব গোল্ড কাউন্সিলের রিপোর্ট মোতাবেক, "ভারতীয় সমাজে শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য, বিবাহ থেকে চিকিৎসা অথবা অন্যান্য ক্ষুদ্র-মাঝারি ব্যবসা, সবক্ষেত্রেই সোনাকে মূলধন হিসেবে ব্যবহারের প্রথা রয়েছে, আর তাই এই কোল্যাটেরলের ভাবনা।" কোভিড অর্থনীতির আওতায় প্ৰযুক্তির উন্নতিও গোল্ড লোন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

৩ মাসে সবচেয়ে সস্তা সোনা, তাও বাড়ছে গোল্ড লোনের চাহিদা
গত তিনমাসে স্বর্ণমূল্যের পারদ নিম্নমুখী। শুধু জুন মাসেই সোনার দাম ১০ গ্রামে কমেছে ২,৭০০ টাকা পর্যন্ত। এহেন পরিস্থিতি সত্ত্বেও তিনমাসের ব্যবধানে ৪% পর্যন্ত বেড়েছে মুথুটের গোল্ড লোন গ্রহীতার সংখ্যা। এ বছরের প্রথম তিনমাসে প্রায় ৪০৪ কোটি টাকার স্বর্ণ নিলামে তুললেও পরবর্তী তিনমাসে মাত্র ৮ কোটি মূল্যের সোনা নিলাম করেছে মুথুট। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে ঋণগ্রহীতারা যে পাহাড়প্রমাণ সমস্যার সম্মুখীন, তা স্পষ্ট। অন্যদিকে কোভিড আবহে কৃষি ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের উন্নতিও যে লক্ষ্যণীয়, তা জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।

কম সুদের কারণেই বাড়ছে চাহিদা
গোল্ড লোন অত্যন্ত লোন ব্যবস্থার থেকে বেশ সুরক্ষিত। পার্সোনাল লোনের থেকেও সুদের হার কম হওয়ার কারণেই বাড়ছে গোল্ড লোনের চাহিদা, মত বিশেষজ্ঞদের। চাকরি ও ক্রেডিট স্কোরের উপরে নির্ভর করে বর্তমানে ব্যক্তিগত ঋণে সুদের হার নির্ধারিত হয় ১০-১৫% পর্যন্ত, যদিও গোল্ড লোনে সুদের হার শুরু হয় ৭% থেকে। এসবিআইয়ের ন্যায় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে গোল্ড লোনের সুদ ৭.৫%-এর কাছাকাছি।












Click it and Unblock the Notifications