সোমবার আবহাওয়ার উন্নতি, সিকিম থেকে পর্যটকদের হেলিকপ্টারে উদ্ধার শুরু
দুর্যোগের মেঘ এবার কাটতে শুরু করেছে উত্তর সিকিমে। সোমবার উত্তর সিকিমের আকাশে উড়ল হেলিকপ্টার। বিপর্যয়ের পর আটকে থাকা পর্যটকদের উদ্ধার করে আনার কাজ শুরু হল। লাচেন থেকে প্রথম হেলিকপ্টার পর্যটকদের উদ্ধার করে আনল। আবহাওয়া ঠিক থাকলে হেলিকপ্টারে অন্য দুর্গতদের উড়িয়ে আনা হবে। একথা জানানো হয়েছে।
শনিবার থেকেই উত্তর সিকিমে আটকে থাকা পর্যটকদের উদ্ধারের চেষ্টা শুরু হয়। হেলিকপ্টার করে পর্যটকদের নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাওয়া হবে। এ কথাও জানা গিয়েছিল। হেলিকপ্টারের ব্যবস্থা হলেও তা ওড়ানো সম্ভব হয়নি। টানা বৃষ্টি হচ্ছিল উত্তর সিকিমের বিভিন্ন জায়গায়। আকাশে ঘন মেঘের আস্তরণ ছিল। আবহাওয়া যথেষ্ট প্রতিকূল। এছাড়াও দিনের আলো অত্যন্ত দ্রুত কমে আসছিল।

পর্যটকদের রবিবার পর্যন্ত হেলিকপ্টারে নিয়ে আসা সম্ভব হয়নি। ভারতীয় বায়ুসেনার এমআই ১৭ হেলিকপ্টারকে পর্যটক উদ্ধারের জন্য পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সেই কপ্টার রবিবার পর্যন্ত উড়তে পারেনি বলে খবর। সোমবার আবহাওয়ার দ্রুত উন্নতি হয়। আকাশে মেঘ কেটে গিয়েছিল অনেকটাই। হেলিকপ্টার উড়ে যায় আটকে থাকা পর্যটকদের উদ্ধারের জন্য।
আবহাওয়া ঠিক হতেই আটকে থাকা পর্যটকদের হেলিকপ্টারে উদ্ধার করা শুরু হল সেনাবাহিনীর। সোমবার সকাল থেকে লাচেনে আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধার করে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার। লাচেন থেকে হেলিকপ্টারে পর্যটকদের উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয় মাঙ্গানের রিনঘিম হেলিপ্যাডে। পর্যটকরা নিরাপদে হেলিপ্যাডে নামার পর ধন্যবাদ জানান সেনাবাহিনীর কর্মীদের। পর্যটকদের চোখেমুখে কান্তি ও আতঙ্কের ছাপ। নিরাপদ জায়গায় পৌঁছাতে পেরে এবার কিছুটা স্বস্তি ওইসব পর্যটকদের। বাকিদেরও নিয়ে আসার কাজ চলছে।
মঙ্গলবার রাতে লোনাক হ্রদ ফেটে বন্যায় লাচেনে আটকে পড়েন প্রায় ২৮০০ পর্যটক। সিকিম সরকারের পক্ষ থেকে তাদের উদ্ধার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। আবহাওয়া ঠিক না থাকায় তা সম্ভব হয়নি। অবশেষে আবহাওয়া ঠিক হতেই হেলিকপ্টারে পর্যটকদের উদ্ধার করা হচ্ছে।

যেসব মানুষ দুর্গত এলাকায় অসুস্থ পড়েছেন, তাদের চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টার যাবে। উড়িয়ে নিয়ে আসার ব্যবস্থা হবে দূর্গতদের। সেনাবাহিনী ও বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের টিম উদ্ধার কাজে হাত লাগিয়েছে। একের পর এক দুর্গত এলাকায় তারা পৌঁছাতে শুরু করেছেন। পরিস্থিতি দ্রুত উন্নতি করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু কতদিনে তা সম্ভব হবে? তাই নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে।
সেনাবাহিনী পর্যটকদের সঙ্গে কথা বলছে। তাদের মনোবল বাড়ানোর চেষ্টা করছে। কেন্দ্রের বিপর্যয় মোকাবিলা দল কাজ করছে আপ্রাণ। পর্যটকদের ঠিকানার তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। পরিবারের লোকেদের সঙ্গেও কথা বলিয়ে আশ্বস্ত করার কাজ চলছে। কয়েক হাজার পর্যটক উত্তর সিকিমে আটকে রয়েছেন। আগামী কয়েক দিনে তাদের নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দিতে হবে। এই লক্ষ্য রয়েছে প্রশাসনের।
বিপর্যয়ের পরে আবহাওয়া অত্যন্ত প্রতিকূল ছিল লাচুং, লাচেন এলাকায়। বহু পর্যটক আটকে রয়েছেন ওইসব এলাকায়। যথেষ্ট বৃষ্টি চলছিল। হাওয়ার গতিবেগ ছিল অত্যন্ত বেশি। পর্যটকদের আকাশপথে কিছুতেই নিয়ে আসা সম্ভব ছিল না। তাই অপেক্ষা করতে হয়েছে। এদিকে সড়কপথে যাতায়াতের সম্ভাবনা নেই। কারণ, ১০ নম্বর জাতীয় সড়কপথ বলে আর তেমন কিছুই নেই।












Click it and Unblock the Notifications