চিনের দখলদারি রুখতে এবার ময়দানে আমেরিকা! দক্ষিণ চিন সাগরে রণতরী পাঠাচ্ছে ওয়াশিংটন
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী চিনের রক্তচাপ বাড়িয়ে দক্ষিণ চিন সগারে উপস্থিত। শনিবার মার্কিন নৌবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, মুক্ত ও স্বাধীন ইন্দো-প্যাসিফিকের সমর্থনে তাদের ইউএসএস নিমিৎজ ও ইউএসএস রোনাল্ড রিগান দক্ষিণ চিন সাগরে মহড়া ও অভিযান চালিয়েছে।

করোনা সংক্রমণের মাঝেই সীমান্তে উত্তেজনা তৈরিতে ব্যস্ত চিন
সারা বিশ্বে যখন করোনা সংক্রমণে জর্জরিত তখন সীমান্তে উত্তেজনা তৈরিতে ব্যস্ত চিন। তবে শুধু ভারতের লাদাখ নয়, এই সময়ে প্রায় নিয়মিত ভাবে তাইওয়ানের আকাশসীমায় নিজেদের যুদ্ধ বিমান পাঠিয়েছে চিন। এই আবহেই আমেরিকা প্শান্ত মহাসাগর ও তাইওয়ান প্রণালীতে নিজেদের রণতরী মোতায়েন করেছে।

ওয়াশিংটন-বেইজিংয়ের পাল্টাপাল্টি মহড়া
যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ জাহাজগুলো সাধারণত প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম অংশেই মহড়া করে। সম্প্রতি ওই এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বিমানবাহী রণতরীকে একসঙ্গেও দেখা গিয়েছে। বাণিজ্য চুক্তি এবং হংকং নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যে বিতর্কিত জলসীমায় ওয়াশিংটন-বেইজিংয়ের পাল্টাপাল্টি মহড়া দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে চিন
প্রসঙ্গত, ১৯৪৯ সালে চিনের গৃহযুদ্ধের শেষে তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে চিন। তারা বলে, প্রয়োজন হলে, তাইওয়ানকে জোর করে হলেও চিনের সঙ্গে একীভূত করা হবে। সেই দাবির বিরোধিতায় সরব সাই ইং-ওয়েনকে চিনের আক্রোশ থেকে রক্ষা করতেই আমেরিকার এই রণতরী পাঠানোর কৌশল বলে মনে করা হচ্ছে।

রণং দেহি মেজাজে আমেরিকা
লাদাখে চিনা আগ্রাসনের বিরুদ্ধেও রণং দেহি মেজাজে আমেরিকা। প্রসঙ্গত, বহুদিন ধরেই চিনের সঙ্গে তাদের বাণিজ্যিক সংঘাত চলছিল। এরপর করোনা পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি আরও খানিকটা যুদ্ধের দিকে ঘণীভূত হতে থাকে। এই বিষয়ে কদিন আগেই মার্কিন সচিব মাইক পম্পেও জানান, চিন ক্রমেই দক্ষিণ এশিয়ায় একটি 'আতঙ্ক' হয়ে উঠছে। ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়ার কাছে চিন 'থ্রেট' হয়ে যাচ্ছে বলে ব্যাখ্যা করেন মার্কিন সচিব। মার্কিন সেনা চিনের তরফে আসা চ্যালেঞ্জের জবাব দিতে উপযুক্ত জায়গায় মোতায়েন থাকবে।

দক্ষিণ চিন সমুদ্র
সম্পদ সমৃদ্ধ দক্ষিণ চিন সমুদ্র সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য চিন সব সময়ই নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করেছে৷ 'ঐতিহাসিক অধিকারের' উপর ভিত্তি করে দক্ষিণ চিন সমুদ্রের উপর চিনের কর্তৃত্বকে ২০১৬ সালের সালিশির মাধ্যমে প্রত্যাখান করা হয়েছিল৷ কিন্তু তারপরও এই দক্ষিণ চিন সমুদ্রের উপর থেকে নিজেদের নজর সরায়নি চিন৷

বিশ্বের ব্যস্ততম সামুদ্রিক বাণিজ্য রুট
দক্ষিণ চিন সমুদ্র বিশ্বের ব্যস্ততম সামুদ্রিক বাণিজ্য রুট৷ এই পথ দিয়ে বার্ষিক ৩.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হয়৷ যার ফলে শুধুমাত্র ক্ষুদ্র প্রতিবেশী অঞ্চলগুলির উপর নয়, একাধিক দেশগুলির উপরও এই সামুদ্রিক বাণিজ্য রুটের প্রভাব রয়েছে৷

একাধিক অঞ্চল নিয়ে চিনের বিতর্কিত দাবি
এটা ঠিক যে, দক্ষিণ চিন সমুদ্র ও তার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে চিনের সঙ্গে তাইওয়ান, ব্রুনেই, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপিনস ও ভিয়েতনাম -এর দ্বীপ ও সামুদ্রিক ক্ষেত্রে সীমান্ত নিয়ে বিতর্ক রয়েছে৷ দক্ষিণ চিন সমুদ্রের স্পার্টলি দ্বীপগুলি নিয়ে ভিয়েতনাম, ফিলিপিনস, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই ও তাইওয়ানের সঙ্গে চিনের সীমান্ত বিতর্ক রয়েছে৷ ভিয়েতনামের সঙ্গে চিনের দক্ষিণ চিন সমুদ্রের প্যারাসেল দ্বীপগুলি নিয়েও বিতর্ক রয়েছে৷ স্কারবরো শোল নিয়ে ফিলিপিনস এবং গালফ অফ টংকিন নিয়ে ভিয়েতনামের সঙ্গে চিনের বিতর্ক রয়েছে৷ উপরন্তু সমগ্র তাইওয়ান ও তার নিয়ন্ত্রণাধীন দ্বীপগুলিও নিজেদের বলে দাবি করে চিন৷

পূর্ব চিন সমুদ্র
উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সঙ্গে চিনের ইয়েলো সমুদ্র ও পূর্ব চিন সমুদ্রের অর্থনৈতিক জোনগুলি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে ৷ তার উপরে চিন জাপানের সেনকাকু বা ডিয়াওইউ দ্বীপগুলির উপর কর্তৃত্ব দাবি করে৷ এই এলাকার মাধ্যমে আন্তঃঅঞ্চল ও বিশ্ব বাণিজ্য হয়৷ যার ফলে চিনের এই এলাকার উপর কর্তৃত্ব দাবি একাধিক দেশের উপর প্রভাব ফেলতে পারে৷












Click it and Unblock the Notifications