করোনা পরিস্থিতিতে নির্বাচন প্রচারের বিধি লঙ্ঘন, মামলা দায়ের কংগ্রেস নেতার বিরুদ্ধে
করোনা পরিস্থিতির জন্য উত্তরপ্রদেশে ভোট হলেও বড় রোড শো করতে দেওয়া হচ্ছে না। বেশি হচ্ছে ডোর টু ডোর প্রচার। ভার্চুয়াল প্রচারও হচ্ছে। এই নিয়মের বিরুদ্ধাচারণ করায় উত্তরপ্রদেশ পুলিশ মামলা দায়ের করল কংগ্রেস নেতার বিরুদ্ধে।

মোরাদাবাদে কংগ্রেস নেতা রিজওয়ান কুরেশির ডোর টু ডোর প্রচার বিশাল রোডশোর আকার নেয়। এর জন্য উত্তরপ্রদেশ পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। কুরেশি, যিনি মোরাদাবাদ থেকে কংগ্রেসের প্রার্থী, বৃহস্পতিবার দলের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রার সঙ্গে নির্বাচনী এলাকায় ঘরে ঘরে প্রচারণা করছিলেন।
পুলিশের দাবী, প্রচার ডোর টু ডোর ক্যাম্পেনের অবস্থায় ছিল না। সেটি একটি রোডশোর আকার নিয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, কংগ্রেস প্রার্থী রিজওয়ান ডোর-টু-ডোর প্রচারের অনুমতি নিয়েছিলেন তবে দেখা গিয়েছে যে তাঁর সঙ্গে যে পরিমান লোকজনের এসেছিল তা রোডশোর আকার নিয়েছিল। সেক্টর ম্যাজিস্ট্রেটের অভিযোগ অনুসারে, একটি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে, মোরাদাবাদের পুলিশ সুপার (এসপি) অখিলেশ ভাদোরিয়া এমনটাই জানিয়েছেন সংবাদমাধ্যমকে। এদিকে কংগ্রেস প্রার্থী রিজওয়ান বলছেন যে কেন রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নেতাদের বিরুদ্ধেও এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়নি?
তিনি বলেন, "উত্তরপ্রদেশের উপ-মুখ্যমন্ত্রী দীনেশ শর্মা কয়েকদিন আগে ঘরে ঘরে বৈঠক করেছিলেন। মিরাটে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ডোর টু ডোর ক্যাম্পেইন করেছিলেন, কেন তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর নেই? মানুষ আমাদের স্বাগত জানালে আমাদের দোষ নয়। বিজেপি ভয় পেয়েছে, তাই এই নোংরা রাজনীতি হচ্ছে'।
উত্তরপ্রদেশে সাত দফা বিধানসভা নির্বাচন শুরু হয়েছে ১০ ফেব্রুয়ারি। রাজ্য বিধানসভার জন্য দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ ১৪ ফেব্রুয়ারি। দ্বিতীয় দফায় সাহারানপুর, বিজনোর, আমরোহা, সম্বল, মোরাদাবাদ, রামপুর, বেরেলি, বুদাউন এবং শাহজাহানপুরের নয়টি জেলাকে কভার করে মোট ৫৫টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট হবে। প্রথম দফায় ওই রাজ্যের ১১টি জেলার ৫৮টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হয়। প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ৬২৩। প্রথম দফায় নির্বাচনে ১৫৬ জন প্রার্থী ছিলেন যাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা রয়েছে। প্রথম দফা নির্বাচনে রাজ্যের বেশ কয়েকজন মন্ত্রীরও ভাগ্য পরীক্ষা হচ্ছে। ৫ টা পর্যন্ত ভোটদানের হার ছিল ৫৭.৭৯%।
যে জেলাগুলিতে নির্বাচন হয় সেগুলি হল শামলি, হাপুর, গৌতম বুদ্ধ নগর, মুজাফফরনগর, মিরাট , বাগপত, গাজিয়াবাদ, বুলন্দশহর, আলিগড়, মথুরা এবং আগ্রা। ক্ষমতাসীন বিজেপি জাট সম্প্রদায়ের ১৭ জনকে প্রার্থী করেছে, আরএলডি'র রয়েছে ১২ জন জাট প্রার্থী এবং সপা ছয়জন জাট প্রার্থী দিয়েছে। বর্তমানে প্রত্যাহারকৃত খামার আইন নিয়ে এই সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে; আখের বকেয়া পরিশোধের মতো সমস্যাও চাপে রেখেছে শাসক দলকে।
প্রথম ধাপে যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বাধীন সরকারের নয়জন বিদায়ী মন্ত্রীর ভাগ্য নির্ধারণ হবে। যে বিদায়ী মন্ত্রীদের নির্বাচনী ভাগ্য নির্ধারণ হবে তারা হলেন সুরেশ রানা, অতুল গর্গ, শ্রীকান্ত শর্মা, সন্দীপ সিং, অনিল শর্মা, কপিল দেব আগরওয়াল, দীনেশ খটিক, ডাঃ জি এস ধর্মেশ এবং চৌধুরী লক্ষ্মী নারাইন। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি পর্বের ভোট শেষ হওয়ার ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রচার শেষ হয়েছে। করোনার ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের বাড়বাড়ন্তের জন্য রোড শো এবং জন সমাবেশে নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রথম পর্বের নির্বাচনী প্রচার ভার্চুয়াল মাধ্যমেই সীমাবদ্ধ ছিল।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, উত্তরপ্রদেশে একটি ভার্চুয়াল সমাবেশে ভাষণ দিয়ে, সমাজবাদী পার্টি-রাষ্ট্রীয় লোকদল (আরএলডি) জোটকে আক্রমণ করে দ্রুতগতির উন্নয়নের জন্য ডাবল-ইঞ্জিন সরকারকে ভোট দেওয়ার আবেদন জানান। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, মথুরায় ঘরে ঘরে প্রচার চালান। তিনি ২০১৭ সালের আগে কাইরানা থেকে হিন্দুদের হঠিয়ে দেওয়ার বিষয়টিকে নজর আনার চেষ্টা করেন। বিজেপি, ইশতেহার প্রকাশ করার সময়, সেচের জন্য বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, প্রতিটি পরিবারের জন্য একটি চাকরি এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সী মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে ভ্রমণের আশ্বাস দিয়েছে। "লাভ জিহাদ"-এর ঘটনায় ন্যূনতম ১০ বছরের সাজা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে তারা।
অন্যদিকে, সমাজবাদী পার্টির (এসপি) সভাপতি অখিলেশ যাদব দাবি করেছেন যে, মানুষ বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য তাদের মন তৈরি করে ফেলেছে। ঘটনা হল, এসপি-আরএলডি জোট শুরু থেকেই কৃষকদের ইস্যুতে তাদের নির্বাচনী প্রচারকে কেন্দ্র করে এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে আক্রমণ করেছে।
মঙ্গলবার, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অখিলেশের সমর্থনে এসেছিলেন এবং বলেন যে, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের মতো, ইউপি বিজেপি এবং সমাজবাদী পার্টির মধ্যে লড়াই হন , তবু অখিলেশ হবেন বিজয়ী। সাংবাদিক সম্মেলনে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত বছরের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য তাঁর দলের "খেলা হোবে" স্লোগানকে এখানে ব্যবহার করেন। তিনি 'খেলা হোগা' টুইট করে লেখেন যে , "বাংলা যদি বিজেপিকে পরাজিত করতে পারে, তাহলে উত্তরপ্রদেশও তা করতে পারে। " মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "যদি যোগী আদিত্যনাথ ক্ষমতায় আসেন, তিনি আপনাকে রাজনৈতিক পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবেও শেষ করে দেবে। উনি রাজ্য চালাতে জানে না। তাকে যেতে দিন. যে ব্যক্তি যেতে চায় তাকে যেতে দেওয়া উচিত।" প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রার নেতৃত্বে কংগ্রেসও তাদের রোড শো এবং ডোর-টু-ডোর প্রচারে আগ্রহ তৈরির চেষ্টা করেছে।












Click it and Unblock the Notifications