জনতা প্রত্যাখ্যান করেছে, বিহার ভোটে পরাজয় ঢাকতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ? জন সুরাজের আবেদন খারিজ শীর্ষ আদালতের
বিহার বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে প্রশান্ত কিশোরের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দল জন সুরাজ যে আবেদন করেছিল, তা শুক্রবার একপ্রকার ধমক দিয়েই খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয় ভোটের ময়দানে প্রত্যাখ্যাত হয়ে এখন আদালতের মঞ্চকে প্রচারের হাতিয়ার করা চলবে না।
আবেদন শুনতে অস্বীকার করে প্রধান বিচারপতি কড়া মন্তব্য করেন, "মানুষ আপনাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন কি সেই পরাজয় ঢাকতেই এই আদালতকে ব্যবহার করতে চাইছেন?"

শুধু তাই নয়, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীও প্রশ্ন তোলেন, কীভাবে এমন অভিযোগ সরাসরি সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদের আওতায় সুপ্রিম কোর্টে আনা যায়। বেঞ্চ স্পষ্ট নির্দেশ দেয় এ ধরনের মামলার জন্য প্রথমে বিহার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে হবে।
জন সুরাজ তাদের আবেদনে দাবি করেছিল, নির্বাচনের সময় রাজ্যের শাসক জেডিইউ বিজেপি জোট নির্বাচনী আচরণবিধি ভেঙে এক পরিবার থেকে একজন করে মহিলাকে ১০ হাজার টাকা করে দিয়েছে। তাদের মতে, ২৫ থেকে ৩৫ লক্ষ মহিলা ভোটার এই সুবিধা পেয়েছেন, যা ভোটের নিরপেক্ষতাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করেছে ও তা 'দুর্নীতিগ্রস্ত আচরণ' এর শামিল।
এর আগে প্রশান্ত কিশোর নিজেও অভিযোগ করেছিলেন, প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে কোটি কোটি টাকা বিলি করা হয়েছে এবং স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে জেডিইউয়ের ২৫টির বেশি আসন পাওয়ার কথা ছিল না।
কিন্তু বাস্তব চিত্র ছিল একেবারেই উল্টো। মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের দল জেডিইউ ৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে বিহার রাজনীতিতে নিজেদের শক্ত অবস্থান আরও মজবুত করে।
এদিন সুপ্রিম কোর্ট জানায়, ভোটের আগে 'ফ্রি উপহার' বা আর্থিক সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি ইতিমধ্যেই আলাদা একটি মামলায় আদালতের বিবেচনাধীন। আগেও আদালত সতর্ক করেছিল, প্রতিযোগিতামূলকভাবে আর্থিক প্রতিশ্রুতি রাজ্যগুলিকে গভীর আর্থিক সংকটে ঠেলে দিতে পারে। সেই কারণে বিষয়টি তিন বিচারপতির বেঞ্চে পাঠানো হয়েছে।
তবে আদালত স্পষ্ট করে দেয়, এই গুরুতর বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখতে আগ্রহী হলেও, সম্পূর্ণভাবে নির্বাচনে হেরে যাওয়া রাজনৈতিক দলের আবেদন নয়, বরং জনস্বার্থে এগিয়ে আসা ব্যক্তিদের আবেদনকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, জন সুরাজের এটি ছিল প্রথম নির্বাচনী লড়াই। দলটি ২৩৮টি আসনে প্রার্থী দিলেও একটিও আসন জিততে পারেনি। ভোট শতাংশ ছিল চার শতাংশেরও কম। অথচ ভোটের আগে প্রশান্ত কিশোর দাবি করেছিলেন হয় বড় সাফল্য আসবে, না হলে সম্পূর্ণ ব্যর্থতা। শেষ পর্যন্ত বাস্তব হলো দ্বিতীয়টাই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই রায়ের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট শুধু একটি আবেদন খারিজ করেনি, বরং ভোটের রায়কে সম্মান জানিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও দিয়ে দিল।
-
মালদহের অশান্তি নিয়ে বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলল মমতা, সুতির সভা থেকে শান্তির বার্তা -
ভবানীপুরে আজ শক্তি প্রদর্শনে বিজেপি, শুভেন্দুর মনোনয়নে সঙ্গী অমিত শাহ -
অধীর চৌধুরীর প্রচারে উত্তেজনা বহরমপুরে, কংগ্রেস-তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ -
দাগি নেতাদের নিরাপত্তা কাটছাঁট কতটা মানল পুলিশ? স্টেটাস রিপোর্ট চাইল নির্বাচন কমিশন -
ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে উত্তাপ চরমে, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ভয়ের রাজনীতির অভিযোগে মনোনয়ন বাতিলের দাবি তৃণমূলের -
মালদহের ঘটনা তৃণমূলের পরিকল্পিত ও সংগঠিত, কালীঘাটে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ ব্যক্ত করে দাবি শুভেন্দুর -
প্রবল ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়া, আতঙ্কে পথে মানুষ -
ইডেনে প্রথম জয়ের সন্ধানে কেকেআর-সানরাইজার্স, দুই দলের একাদশ কেমন হতে পারে? -
কালিয়াচক কাণ্ডের পর ফের অশান্তি! অমিত শাহ-র রোড শো ঘিরে ভবানীপুরে ধুন্ধুমার, হাতাহাতি তৃণমূল-বিজেপির -
'১৫ দিন বাংলায় থাকব', ভবানীপুরে মমতাকে হারানোর ডাক, শাহের চ্যালেঞ্জে তপ্ত রাজনীতি -
কালিয়াচকে প্রশাসনিক গাফিলতি? জেলাশাসক, পুলিশ সুপারকে শোকজ, CBI অথবা NIA তদন্তের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট -
ভবানীপুরে আজ শক্তি প্রদর্শনে বিজেপি, শুভেন্দুর মনোনয়নে সঙ্গী অমিত শাহ











Click it and Unblock the Notifications