বাড়ছে বায়ুদূষণের তীব্রতা! ভারতে বার্ষিক মৃত্যুর ৩০ শতাংশই জীবাশ্ম জ্বালানির দহনে
বাড়ছে বায়ুদূষণের তীব্রতা! ভারতে বার্ষিক মৃত্যুর ৩০ শতাংশই জীবাশ্ম জ্বালানির দহনে
করোনাকালে লকডাউনের আবহে গোটা বিশ্বেই কমে এসেছিল বায়ুদূষণের মাত্রা। যদিও লকডাউন-পরবর্তী সময় থেকেই আগের মত পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে দূষণের মাত্রা। সম্প্রতি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বার্মিংহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়, লেইচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় ও লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় সম্পন্ন হয় এঅ গবেষণা। জানা যায়, ভারতের মোট বার্ষিক মৃত্যুর ৩০% হয় জীবাশ্ম জ্বালানি বা সহজ কথায় জ্বালানি তেলের দহনের কারণে।

জীবাশ্ম জ্বালানির কারণে সর্বোচ্চ মৃত্যু চিন ও ভারতে
মঙ্গলবার পরিবেশ গবেষণা সংক্রান্ত জার্নালে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, বিশ্বে জৈব জ্বালানির দহনে যেভাবে বাড়ছে বায়ুদূষণ, তাতে সর্বাধিক মৃত্যুসংখ্যা চিন ও ভারতে। রিপোর্টে জানা গেছে, জৈব জ্বালানির দহনে বার্ষিক প্রায় ৪.৭ লক্ষ মানুষ মারা যান উত্তরপ্রদেশে। পাশাপাশি বিহারে এহেন মৃতের সংখ্যা প্রায় ২.৮ লক্ষের কাছাকাছি।

চিনে কমেছে বায়ুদূষণে মৃতের সংখ্যা
আন্তর্জাতিক সূত্রের খবর, বায়ুদূষণ কমানোর প্রচেষ্টার কারণে চিনে কমেছে বায়ুদূষণে মৃতের সংখ্যা। ২০১২ সালে মোট মৃতের ২১.৫%-এর মৃত্যু বায়ুদূষণে হলেও ২০১৮ সালে সংখ্যাটা নেমে হয় ১৮%। অন্যদিকে বেশকিছু আন্তর্জাতিক সংবাদপত্রের রিপোর্ট অনুসারে, উত্তর-পূর্ব আমেরিকা, ইউরোপ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বায়ুদূষণের পরিমাণ মারাত্মক!

বিশ্বে প্রতি ৫ জনে ১ জনের মৃত্যু বায়ুদূষণে
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা এও বলছে, শুধুমাত্র ২০১৮ সালে বিশ্বে বায়ুদূষণে মৃত্যু হয় ৮০ লাখ মানুষের। তাছাড়াও বিশ্বে প্রতি ৫ মৃত্যুর একজন বায়ুদূষণে মারা যান বলেও জানা যাচ্ছে। গবেষকদের বক্তব্য এই ক্ষেত্রে এরা আগে সমস্ত গবেষণায় কৃত্রিম উপগ্রহ ও সমীক্ষাজাত গবেষণার সাহায্য নেওয়া হয়। যদিও সেক্ষেত্রে জৈব জ্বালানি ও অন্যান্য বায়ুদূষণের উৎসের মধ্যে পার্থক্য করা যায় না বলেও তারা জানাচ্ছেন। সূত্রের খবর, এহেন সমস্যার সমাধানে একটি ত্রিমাত্রিক রাসায়নিক আবহাওয়ার মডেল ব্যবহার করেন গবেষকরা।

বায়ুদূষণের ঘনত্ব ও জনঘনত্বের মধ্যে তুলনা
বায়ুদূষণের কারণে মৃত্যুর সঠিক পরিমাণ জানতে বায়ুদূষণের ঘনত্ব ও জনঘনত্বের মধ্যে তুল্যমূল্য পার্থক্য করেন হার্ভার্ড ও বার্মিংহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। এ প্রসঙ্গে বিস্তারিত জানান গবেষণার প্রধান করন ভোহরা। অন্যদিকে একটি সাম্প্রতিক নতুন সমীক্ষানুসারে, কম পরিমাণে দূষিত বায়বীয় কণা শরীরে ঢুকলে প্রবেশের সময় যদি দীর্ঘ হয়, সেক্ষেত্রে বায়ুদূষণের কারণে মৃত্যু হতেই পারে। স্বাভাবিকভাবে বায়ুদূষণ সংক্রান্ত এহেন গবেষণাগুলির ফলাফলে ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য।












Click it and Unblock the Notifications