ভারত একমাসে রাশিয়া থেকে যা তেল কেনে, ইউরোপের একবেলার কেনাকাটা তারচেয়ে বেশি, বললেন এস জয়শঙ্কর
ভারত একমাসে রাশিয়া থেকে যা তেল কেন, ইউরোপের একবেলার কেনাকাটা তারচেয়ে বেশি, বললেন এস জয়শঙ্কর
সোমবার ওয়াশিংটনের স্টেট ডিপার্টমেন্টে ভারত-আমেরিকা মন্ত্রী পর্যায়ের একটি বৈঠক হয়েছে৷ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি জে ব্লিঙ্কেন এটিকে একটি বড় মুহূর্ত বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আরও অংশীদারিত্ব বাড়ানো হবে৷ এই বেঠক আরও ফলপ্রসূ এবং গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেছেন ব্লিঙ্কেন। তবে একই সঙ্গে ভারতকে রাশিয়া থেকে অতিরিক্ত তেল না কেনার আহ্বান জানান ব্লিকেন৷ তিনি বলেন, যখন তেল কেনা, নিষেধাজ্ঞা ইত্যাদির বিষয় আসে, তখন আমি শুধু লক্ষ্য করি যে জ্বালানি ক্রয়ের জন্য অনেকেই নিষেধাজ্ঞা থেকে সরে যান ৷ অবশ্যই, আমরা সব দেশকেই রাশিয়া থেকে অতিরিক্ত শক্তি সরবরাহ না কেনার জন্য অনুরোধ করছি৷ তবে প্রতিটি দেশ আলাদাভাবে বিভিন্ন প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, কিন্তু আমরা চাই না আমাদের মিত্র এবং অংশীদাররা রাশিয়ান শক্তি সম্পদের বিক্রি বাড়াক।

ব্লিঙ্কনের এই বক্তব্যের জবাবেই দেশের বিদেশ মন্ত্রী ডাঃ এস জয়শঙ্কর বলেছেন, এক বিকালে ইউরোপ যা জ্বালানি তেল কেনে ভারত সারা মাসে তারচেয়ে কম জ্বালানি তেল কেনে রাশিয়া থেকে৷ জয়শঙ্কর ব্লিঙ্কনকে বলেছেন, আপনি যদি রাশিয়া থেকে ভারতের শক্তি কেনার দিকে তাকিয়ে থাকেন তবে আমি পরামর্শ দেব যে আপনার ইউরোপের দিকে মনোনিবেশ করা উচিত। রাশিয়া থেকে আমরা কিছু শক্তি কিনি যা আমাদের শক্তি সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয়। তবে আমি পরিসংখ্যান দেখে বলতে পারি, সম্ভবত এক মাসে ভারত রাশিয়া থেকে যা জ্বালানি কেনাকাটা করে তারচেয়ে বেশি জ্বালানি ক্রয় ইউরোপ এক বিকেলেই করে থাকে।' সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন, প্রতিরক্ষা সচিব লয়েড অস্টিন এবং ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের মধ্যে এই ২ প্লাস ২ আলোচনাটি হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত মার্চেই রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভারভ ভারতে এসে জানিয়ে গিয়েছিলেন, রাষ্ট্রসংঘে রাশিয়া বিরোধী জোটে ভারতের স্ট্যান্ড নিয়ে খুশি মস্কো৷ ভারতের জ্বালানি থেকে সুরক্ষায় যা কিছু প্রয়োজন সব বিক্রি করবে রাশিয়া৷ এমনকি কম দামে ভারতকে জ্বালানি বিক্রির কথাও বলেছিলেন সের্গেই৷ তারও আগে আমেরিকার পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল যে ভারত যদি রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেন তাহলে তা নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন হবে না৷ তবে তারা অনুরোধ করছে যে কোনও দেশই যেন রাশিয়ার কাছে জ্বালানি না কেনে৷ যতক্ষন না মস্কো যুদ্ধ থামাচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications