Telangana Election Results 2023: ফিরিয়েছিলেন KCR-এর প্রস্তাব! তেলেঙ্গানায় কংগ্রেসের সাফল্যের পিছনে যিনি
Telangana Election Results 2023: রাজ্য গঠনের পরে তেলেঙ্গানায় প্রথমবারের জন্য ক্ষমতায় আসতে চলেছে কংগ্রেস। ১১৯ টি আসনের মধ্যে অন্তত ৬৩ টি আসনে জয় পেতে চলেছে কংগ্রেস। সেখানে হিন্দি বলয়ের তিন রাজ্যে কংগ্রেস পর্যুদস্ত, সেখানে তেলেঙ্গানার জয় কংগ্রেসের মুখরক্ষা হয়েছে।
তবে তেলেঙ্গানার এই জয় কখনই সহজ ছিল না। জনকল্যাণমূলক গ্যারান্টি স্কিমের কথা তো কংগ্রেস সব রাজ্যেই ঘোষণা করেছিল। তার মধ্যে থেকে কংগ্রেস একমাত্র জয় পেল তেলেঙ্গানায়। কংগ্রেসের এই জয়ের পিছনে বিশেষ একজনের নাম অবশ্যই উল্লেখযোগ্য। তিনি হলেন সুনীল কানুগোলু।

দুই বছরের বেশি সময় আগে তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও সুনীল কানুগোলুকে হায়দরাবাদের কাছে তাঁর খামার বাড়িতে আমন্ত্রণ জানিয়ে, দলের নির্বাচন পরিচালনা করতে দায়িত্ব দিতে চেয়েছিলেন। সেই সময় কানুগোলে সবে তামিলনাড়ুর নির্বাচনের কাজ সেরে ফিরেছেন। তিনি নতুন দায়িত্ব নিতেও তৈরি। কিন্তু কয়েকদিন আলোচনা চলার পরেই কানুগোলু কেসিআরের হয়ে কাজ না করার সিদ্ধান্ত নেন।
দিন কয়েক পরে সবাইকে অবাক করে দিয়ে সুনীল কানুগোলু এআইসিসির নির্বাচনী কৌশল কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে কংগ্রেসে যোগ দেন। সেই সময় কানুগোলুকে দায়িত্ব দিতে রাজি না করানোর ব্যাপারে এখন অনুশোচনা করছেন কেসিআর।
কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পরে কানুগোলু প্রথম যে নির্বাচন পরিচালনা করেন, তা হল কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচন। গত মে মাসে কানুগোলু কংগ্রেসকে কর্নাটকের ক্ষমতার দরজায় পৌঁছে দিয়ে নিজের দক্ষতার প্রমাণ রেখেছিলেন। একইসঙ্গে তিনি তেলেঙ্গানা নিয়েও কাজ করছিলেন। যেখানে কংগ্রেসের নেতাদের মধ্যে বিশ্বাসের অভাব ছিল। ছিল আত্মবিশ্বাসের অভাবও। বিজেপির চাপে রাজ্যে তৃতীয় স্থানে পৌঁছে যাওয়ার আতঙ্কও কাজ করছিল দলে নেতা-কর্মীদের মধ্যে।
কানুগোলু তেলেঙ্গানায় কংগ্রেসকে ক্ষমতায় ফেরানোকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলেন। পাশাপাশি তিনি রাহুল গান্ধী-সহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বকে বলেছিলেন কেসিআরকে পরাজিত করা সম্ভব। প্রথমে তেলেঙ্গানায় কংগ্রেসের ঘর সাজিয়ে তোলেন তিনি। এরপর কেসিআরকে পিছনে ফেলতে ন্যারেটিভ সেট করতে শুরু করেন কানুগোলু।
কানুগোলুর এই সক্রিয়তায় কেসিআর কার্যত শঙ্কিত হন এবং হায়দরাবাদে তাঁর অফিসে পুলিশ পাঠান। সেখানে থাকা সব সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করা হয়। এখানেই শেষ নয়, কানুগোলুকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদাও করে পুলিশ। তারপরেও নিজের কাজে অবিচল থাকতে নতুন অফিস তৈরি করে কাজ চালিয়ে যান সুনীল কানুগোলু।
এদিন জয়ের পরেও তাঁর কোনও প্রচার নেই। কোথাও তাঁর কোনও ছবি নেই। এটাই তাঁর স্টাইল। এখনও পর্যন্ত তেলেঙ্গানাই কানুগোলুর সেরা পারফরমেন্স। কংগ্রেসের ভোটকুশলী মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়ের নির্বাচনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। তার মধ্যে থেকে তিনি একমাত্র তেলেঙ্গানাকেই বের করে আনতে পেরেছেন।
বিজেপি বেশি ভোট পেলে, তা কেসিআরকে ক্ষমতায় থাকতে সাহায্য করতে পারে বুঝতে পেরে, বিজেপির প্রভাবকে কমাতে চেষ্টা করেন কানুগোলু। তিনি ওয়াইএসআরের মেয়ে শর্মিলাকে প্রার্থী না দেওয়ার জন্য বোঝাতে সক্ষম হন। পাশাপাশি চন্দ্রবাবু নাইডু তেলেঙ্গানার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা কানুগোলুর কাজকে আরও সহজ করে দেয়।
কানুগোলুর কৌশলে বিজেপি কার্যত সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে এবং ভোট বিভাজন আটকে দিয়ে তেলেঙ্গানায় কংগ্রেসের লড়াইকে সরাসরি কেসিআরের সঙ্গে লড়াইয়ে নিয়ে যান। প্রসঙ্গত এই সুনীল কানুগোলুর পরামর্শেই রাহুল গান্ধী কন্যাকুমারী থেকে কাশ্মীর ভারতজোড়ো পদযাত্রা করেন।
সুনীল কানুগোলু কর্নাটকের বেল্লারির বাসিন্দা। তবে তাঁর জন্ম চেন্নাইতে। আমেরিকায় উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করে একটি গ্লোবাল ম্যানেজমেন্ট কনসালন্টিং ফার্মেও কাজ করেছেন তিনি। ভারতে ফিরে আসার পরে তিনি ভোট কুশলী হিসেবে কাজ শুরু করেন। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদীকে প্রধানমন্ত্রী করার পিছনে যেসব ভোটকুশলী ছিলেন, তাঁদের মধ্যে কানুগোলুও ছিলেন একজন।
এখনও পর্যন্ত যেসব নির্বাচনে তিনি সাফল্য পেয়েছন, তাঁর মধ্যে রয়েছে ২০১৭ সালে উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির হয়ে প্রচারাভিযান সামলানো। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে তাঁর অধীনে ডিএমকে তামিলনাড়ুতে ৩৯ টির মধ্যে ৩৮ টি আসনে জয়লাভ করে। এরপর একসময়ের সহকর্মী প্রশান্ত কিশোর ডিএমকে শিবিরে যোগ দেওয়ার পরেই কানুগোলু কংগ্রেসে যোগ দেন।












Click it and Unblock the Notifications