আরজেডির সঙ্গে জোট বাঁচাতে মরিয়া কংগ্রেস, লালুকে ফোনে বন্ধুত্ব অটুট রাখার বার্তা সোনিয়ার
আরজেডির সঙ্গে জোট বাঁচাতে মরিয়া কংগ্রেস, লালুকে ফোনে বন্ধুত্ব অটুট রাখার বার্তা সোনিয়ার
লালুপ্রসাদ যাদবের আরজেডির সঙ্গে জোট বাঁচাতে মরিয়া কংগ্রেস। এবার খোদ সোনিয়া গান্ধী আসরে নামলেন। রাজ্য নেতারা যখন লালুপ্রসাদ যাদবের সঙ্গে বনিবনা করে নিতে চাইছেন না, তখন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর জোট সমস্যা সমাধানে আসরে নামা তাৎপর্যপূর্ণ। কংগ্রেস হাইকম্যান্ড আরজেডির সঙ্গে জোট রক্ষা করতে একপ্রকার মরিয়া।

সোনিয়ার ফোন বন্ধুত্ব অটুট রাখার বার্তা লালুকে
সোনিয়া গান্ধী সরাসরি আরজেডি সুপ্রিমো লালুপ্রসাদ যাদবকে ফোন করলেন। ফোন করে তিনি সটান বার্তা দিলেন, যা যা সমস্যা আছে তা চটজলদি মিটিয়ে ফেলে আবার একসঙ্গে পথ চলা শুরু করতে হবে। আমি চাই কংগ্রেস ও আরজেডি এক জোট হয়ে বিজেপির মোকাবিলা করুক। তাই বিবাদ নয়, বন্ধুত্ব অটুট রাখতে যা করার করুন।

আরজেডি লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কংগ্রেসের আসনে
কংগ্রেস ও আরজেডির মূল বিবাদের কারণ হল উপনির্বাচনে প্রার্থী বাছাই। কুসেশ্বরস্থানের উপনির্বাচনে জোটের সূত্র মোতাবেক প্রার্থী দেওয়ার কথা কংগ্রেসের। কিন্তু এই কেন্দ্রে এবার আরজেডি লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাতেই সমস্যার বাতাবরণ তৈরি হয়েছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, তাঁদের না জানিয়েই কোনও আলোচনা ছাড়া আরজেডি ওই কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে।

কংগ্রেসের জঘন্য পারফরম্যান্সের কারণেই হারতে হয়েছে
আরজেডির অভিযোগ, ২০২০-র বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের জঘন্য পারফরম্যান্সের কারণেই হারতে হয়েছে। কংগ্রেসকে আর বিশ্বাস করতে পারছে না জোটসঙ্গী আরজেডি। কংগ্রেস যদি নিদেনপক্ষে লড়াই দিতে পারত, তবে গত বিধানসভায় বিজেপির হার ছিল অবধারিত। কংগ্রেসের ব্যর্থতার কারণেই তাদের জোটকে হারতে হয়েছে। তাই ওই কেন্দ্রে প্রার্থী দিয়েছে আরজেডি।

জোট ভাঙার দায় তাই আরজেডিকেই নিতে হবে, জানায় কংগ্রেস
লালু-পুত্র তেজস্বী যাদব স্বয়ং ওই কেন্দ্রে নিজের দলের প্রার্থীকে দাঁড় করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তেজস্বীর এই সিদ্ধান্তের ফলে ক্ষুব্ধ কংগ্রেস। বিহারের পর্যবেক্ষক এআইসিসি সদস্য ভক্তচরণ দাস জানিয়েছেন, আরজেডি কংগ্রেসকে সম্মান করলে, কংগ্রেসও আরজেডিকে সম্মান করবে। আরজেডির ওই কেন্দ্রে প্রার্থী দেওয়া ঠিক হয়নি কংগ্রেস নেতৃত্বকে না জানিয়ে। এই জোট ভাঙার দায় তাই আরজেডিকেই নিতে হবে।

রাজ্য কংগ্রেস নেতৃত্ব আরজেডির সঙ্গে সমঝোতা চায় না
এরপর কংগ্রেস নেতা ভক্তচরণ দাস হুঙ্কার ছাড়েন, আগামী লোকসভা নির্বাচনে বিহারের সবকটি আসনে একা লড়বে কংগ্রেস। এর পাল্টা তোপ দাগেন লালুপ্রসাদ যাদব। তিনি বলেন, কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। উপনির্বাচনে কংগ্রেসকে আসন ছাড়ার অর্থ, ওই আসনটি বিজেপি-জেডিইউ জোটকে উপহার দেওয়া। কংগ্রেস ওই কেন্দ্রে লড়লে কংগ্রেস প্রার্থীর জামানত জব্দ হবে। তিনি এই ঘটনায় কংগ্রেসের ভক্তচরণ দাসকে নির্বোধ বলেও কটাক্ষ করেন। এরপর রাজ্য কংগ্রেস নেতৃত্ব আরজেডির সঙ্গে সমঝোতা চাইছে না আর।

পুরনো জোট-সম্পর্কের সূত্র ধরে সমস্যার সমাধান
কিন্তু সোনিয় গান্ধীর কম্ঠে অন্য সুর শোনা গেল এদিন। তিনি পুরনো ও বিশ্বস্ত জোটসঙ্গী লালুপ্রসাদ যাদবকে হাতছাড়া করতে চান না। তাই লালুকে পাশে পেতে তিনি নিজেই ফোন করেন। সোনিয়া-লালু দীর্ঘদিন একসঙ্গে চলেছেন। অটল বিহারী বাজপেয়ীর আমলের পুরনো জোট-সম্পর্কের সূত্র ধরে লালুকে সমস্যা মিটিয়ে নিতে অনুরোধ করেন সোনিয়া।












Click it and Unblock the Notifications