আগেই ছিঁড়ে গিয়েছিল অর্ধেক তার,মূল কেবলেও ছিল গলদ, মোরবি কাণ্ডে সিটের তদন্ত রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
মোরবি সেতু বিপর্যয়ের সিটের রিপোর্ট প্রকাশ্যে
মোরবি কাণ্ডের পর প্রকাশ্যে এলো সিটের তদন্ত রিপোর্ট। তাতে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। সিটের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে দুর্ঘটনার অনেক আগেই ছিঁড়ে গিয়েছিল ব্রিজের অর্ধেক তার। এমন কী ব্রিজের মূল তারেও ছিল গলদ। অর্থাৎ ৩০ অক্টোবর যে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছিল তার আনেক আগেই বিপজ্জনক হয়েছিল সেতুটি।

সিটের রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
গুজরাতের মোরবি দুর্ঘটনার তদন্তে সিট গড়েছিল গুজরাত সরকার। ডিসেম্বর মাসে সিট যে রিপোর্ট পেশ করেছিল তাতে মেরামতকারী সংস্থার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করা হয়েছিল। তারপরে আবারও একটি িরপোর্ট প্রকাশ্যে আসে। তাতে জানা গিয়েছে দুর্ঘটনার অনেক আগেই মোরবি ব্রিজের অর্ধেকের বেশি তার ছিঁড়ে গিয়েছিল। ঝালাইয়ের কারণে মূল কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ৪৯টি কেবলের মধ্যে ২২টি কেবল একেবারেই ছিঁড়ে গিয়েছিল। আর ২৭টি কেবল দুর্ঘটনার সময় ছিঁড়ে যায়।

মোরবি দুর্ঘটনা
ঠিক ছট পুজোর দিন রাতে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে মোরবতে মচ্ছু নদীর উপরে তৈরি কেবল ব্রিজ। নদীতে পড়ে মৃত্যু হয় প্রায় ১৬২ জনের। গুজরাত নির্বাচনের আগে এই বিপর্যয়ে শঙ্কার মেঘ দেখছিল বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সেসময় গুজরাতেই ছিলেন প্রচারের কাছে। মোদীর উপস্থিতিতে এই দুর্ঘটনায় রীতিমত শঙ্কিত ছিল গেরুয়া শিবির। যদিও সেরকম কিছুই ঘটেনি। উল্টে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছে বিজেপি। ফের ক্ষমতায় ফিরেছে তারা।

মেরামতকারী সংস্থার বিরুদ্ধে গাফিলতি
এই দুর্ঘটনায় মেরামতকারী সংস্থার বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ করা হয়। ইতিমধ্যেই মেরামতকারী সংস্থার কর্ণধারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগ যে মেরামতকারী সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাঁদের ব্রিজটি মেরামত করার কোনও অভিজ্ঞতাই আগে ছিল না। সেকারণে কেবল মাত্র কেবলের জং পরিস্কার করে আর রং করেই ব্রিজটি সকলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছিল। ১৫০ জনের ভার বহনে সক্ষম ব্রিজটিতে ৩০০ জনের বেশি মানুষ সেদিন চড়েছিলেন। একে তো পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব তার উপরে অতিরিক্ত ভারে ব্রিজটি একেবারে ভেঙে পড়ে।

পুরসভার বিরুদ্ধে অভিযোগ
মোরবি ব্রিজ বিপর্যয়ের ঘটনায় প্রাথমিক ভাবে পুরসভার বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ ওঠে। কোনও রকম টেন্ডার না ডেকেই ব্রিজটি মেরামতের জন্য ওই সংস্থাকে বরাত দেওয়া হয়েছিল। এমনকি ফিটনেস সার্টিফিকেট না নিয়েই ব্রিজটি সাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়। বিজেপি পরিচালিত পুরসভার বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে তদন্ত শুরু হয়। তারপরেই আসছে পুরসভার চেয়ারম্যান সহ একাধিক কর্মীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা শুরু করেছে।












Click it and Unblock the Notifications